ছবির ক্যাপশন:
আজকের স্পট : দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন
চেয়ারম্যান মিল্টনের সোজাসাপ্টা জবাব, বাজেট না পেলে উন্নয়ন হবে কী দিয়ে
এম এ মামুন:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তর দামুড়হুদা ইউনিয়ন পরিষদ। ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত বর্তমান এই পরিষদের জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এই ইউপির নানা সমস্যার কথা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘আমাদের সমস্যার’ আজকের পর্ব। শুরুতেই বলতে হয় এই ইউনিয়নের ৭০ কিলোমিটার কাঁচাপাকা সড়ক এবং আড়াই হাজার মিটার ড্রেনের প্রায় ৬০ ভাগই সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বলা যায়, সড়ক ও ড্রেনগুলো যেন মরণ পাঁদ। যার কারণে জনদুর্ভোগও বেড়েছে অতিমাত্রায়। সড়কের এসব বেহাল দশায় যেমন জনগণকে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিক তেমনি ড্রেনেজ সমস্যার কারণেও মশা বিস্তারসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে নানাবিধ সমস্যার জালে এই ইউনিয়নবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে যুগের পরে যুগ ধরে হচ্ছে বঞ্চিত। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ইউনিয়নবাসীর নানা সমস্যার সমাধনের কথা বলে ভোটের সুফল ভোগ করলেও জনগণের সমস্যার সমাধানে কোনো কাজ করেন না ।
দামুড়হদা ইউনিয়ন পরিষদে হালচিত্র জানার জন্য গতকাল শনিবার পরিষদে গেলে জানতে পারি এর গৌরবগাঁথা কিছু ইতিহাস। এই পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টন যিনি পরপর দুবার জামায়াত সমর্থিত প্রাথী হিসেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। দামুড়হুদা পরিষদটি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন গোবিন্দহুদা গ্রামের শওকত আলী খান। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে সর্বশেষ শরিফুল আলম মিল্টনসহ এ যাবত জনগণের খেদমতে ৭ গুণী মানুষ এই পরিষদের চেয়ার অলংকৃত করেছেন।
ইউনিয়নের সমস্যার চিত্র জানার আগে বর্তমান চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এই পরিষদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যতজন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন এদের মধ্যে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান কে ছিলেন? তিনি বলেন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন দামুড়হুদার বাসিন্দা সামসুল আলম। তিনি জনগণের কাছে জনপ্রিয়, সম্মানিত ও ন্যায়নীতিবান ও সৎ চেয়ারম্যান হিসেবে আজও পরিচিত। এলাকার মানুষ তাকে আজও মনে রেখেছেন।
সরেজমিনে ইউনিয়নবাসীর সাথে কথা বললে, তারা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ইউনিয়নের প্রায় ৭০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়কের মধ্যে ৩৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ২ হাজার ৫ শ মিটার পাকা ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্ত দীর্ঘদিন তা সংস্কার হয়নি। ফলে এসব সড়ক ও ড্রেন এখন জনসাধারণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সড়কের বেহাল দশায় জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে ড্রেনগুলো বুঝে গিয়ে এবং ড্রেন না থাকায় বর্ষা মৌসুম ছাড়াও খরা মৌসুমেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা যার ওপর দীর্ঘদিনেও সংস্কার বা মাটি ভরাট করা হয়নি। তাহলে কত ভালো আছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই ইউনিয়নের বেশীর ভাগ সমস্যা যেসব সড়কে এগুলো হলো- দেওলী-বদনপুর-নাপিতখালী সড়ক, পুড়াপাড়া-বিষ্ণুপুর সড়ক, উজিরপুর সড়ক, চিৎলা-গোবিন্দহুদা সড়ক। এছাড়া ইউনিয়নের ড্রেনেজ সমস্যা রয়েছে দশমী, গুলশানপাড়া, বাজারপাড়া ও উজিরপুর এলাকায়। এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এলাকার সচেতন মহলের মন্তব্য, দামুড়হদা উপজেলার সদর ইউনিয়ন হিসাবে যে পরিমান উন্নয়ন হওয়ার কথা তার ২৫ ভাগও উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টনও ইউনিয়নবাসীর সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, মানুষ তার এলাকার নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরছে এবং উন্নয়ন করতে বলছে। কিন্তু বাজেট কম থাকায় উন্নয়নে কোনো গতি আনা যাচ্ছে না। তাছাড়া বাজেট না পেলে উন্নয়ন করবো কী করে। চাহিদা অনুযায়ী বাজেট না পাওয়ার ফলে এই ইউনিয়নের সড়ক কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন চিত্র এখন শূন্যের কোটায়। তিনি আরো বলেন, বছরে এডিপি প্রকল্প ও এলজিএসপি প্রোগ্রাম থেকে যে বাজেট পাই, তার পরিমানও একবারেই কম। গত বছর এলজিএসপি প্রোগাম থেকে মাত্র ১৮ লাখ টাকার বাজেট পাওয়া গেছে। এসব টাকা ইউনিয়নের স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহারও করা হয়েছে। চেয়ারম্যান মিল্টন আরও জানান, বর্তমানে ইউনিয়নের যে সমস্যা, তার উন্নয়ন করতে হলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার বাজেট হলে এই ইউনিয়নের জনসাধরণের নানাবিধ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
তবে জনসাধরণের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছে, আমরা ভোট দিই আমাদের নাগরিক সুবিধার মান উন্নত করাসহ মৌলিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য। কিন্তু যখন দেখি ভোটে বিজয়ী হবার পর আমাদের কোনো উন্নয়ন হয় না। কারণ জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস ছাড়া কিছুই দিতে পারেন না।
