সংস্কারে ধীরগতি, জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়?

আপলোড তারিখঃ 2021-09-23 ইং
সংস্কারে ধীরগতি, জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়? ছবির ক্যাপশন:
আজকের স্পট: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-আটকবর-মুজিবনগর সড়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বললেন, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নাহলে দ্রুতই কাজ শেষ হবে এম এ মামুন: চুয়াডাঙ্গা জেলার অবহেলিত জনপদ দামুড়হুদা উপজেলা। এই জনপদের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প শহর দর্শনা টু মেহেরপুর জেলার ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত মুজিবনগর পর্যন্ত এক জনগুরুত্বপূর্ণ ডাবল লেনের আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলছে মন্থর গতিতে। এর ফলে এই সড়কে চলাচলকারী জনসাধরণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যানবাহন চলাচলেও দেখা দিচ্ছে নানা বিড়ম্বনা। প্রায়সই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া সড়কের দীর্ঘদিনের সমস্যার ফলে কৃষি প্রধান এই এলাকার কৃষি-বাণিজ্যেও পড়েছে বিরুপ প্রভাব। তবে এ বিষয়ে এলাকার মানুষের নানা অভিযোগ ও সমস্যার কথা স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, সংস্কারের কাজ মন্থর গতিতে চলছে এটা ঠিক না। এই এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, তার সমাধনে একটি বড় কাজ নিয়ম অনুযায়ী চলছে এবং আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই মহা আঞ্চলিক সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সংস্কার কাজটি সম্পন্ন হলে এই এলাকার ও বাইরের এলাকার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। গতকাল বুধবার সরেজমিনে দর্শনা-মুজিবনগর সড়কে গেলে অত্রালাকার মানুষের চরম দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়ে। এই দুর্ভোগ চলছে প্রায় কয়েক যুগ ধরে। দামুড়হুদার ঐতিহাসিক কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গা আটচালা ঘর, মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমর যুদ্ধে বীর আট শহীদের স্মৃতিসৌধ আটকর ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কমপ্লেক্স এবং বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের ঐতিহাসিক স্থান স্মৃতিবিজড়িত মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও পিকনিক স্পটে যেতে হয় এই সড়ক দিয়ে। বিশেষ করে এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি চরম গুরুত্ব বহন করার আরো কারণ হলো স্থানীয়দের মতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করেন। তবে, বেশির ভাগ বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ভ্রমণ পিয়াসী পর্যটকদের যানবাহন বছরের ১২ মাসই এই সড়কটিতে যান চলাচল করায় সড়কে চাপটাও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় সড়কের সব স্থানে বড় বড় গর্ত ও পিচ উঠে কাঁচা রাস্তায় পরিণত হওয়ায় সবাইকেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এই সড়কটি আগে ছিল মাত্র ৮ ফিট চওড়া একটি জরাজীর্ণ গ্রাম্য সড়ক। এলাকার মানুষ তাদের প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের কাছে ধর্ণা দিয়ে এক সময় সড়কটি ১২ ফিটে উন্নীত হয়। কিন্তু সড়কটির সংস্কার যখনই হয়েছে, তা সংস্কারের ক্ষেত্রে হয়েছে পুকুরচুরি। বিগত দিনে যে বছরে সংস্কার, তার পরের বছরেই সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়। সংস্কারের নামে পরিধি বাড়লেও চলাচলের ক্ষেত্রে সড়কটি ছিল অনুপুযোগী। তার পরেও এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে। অবহেলিত এই জনপদের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি গত এক যুগ ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর বহু প্রতিক্ষিত উন্নয়নকাজ গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। উন্নয়নের জন্য চলছে খোড়াখুড়ি ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ। কিন্তু এসব সংস্কার কাজের গতি এতটাই মন্থর যে মানুষ আগে যে সমস্যায় ছিল. উন্নয়ন কাজ দেখতে যেয়ে এলাকার জনসাধরণকে আগের তুলনায় শতগুণ অধিক সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। অনেকে বলেন, সড়কের সংস্কার কাজের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া একই সাথে সড়কের রুদ্রনগর গলাইদড়ি ঘাটের ব্রিজসহ ১১টি কার্লভাটের কাজেও রয়েছে মন্থর গতি ও অব্যবস্থাপনা। যা জনসাধারণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। অপর দিকে, এই সড়কের চুয়াডাঙ্গা জেলার শেষ সীমানা আটকবর থেকে কার্পাসডাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের দুধারে মাটিভরাট ও বর্ধিতকরণ কাজে রোলার করাতে জনগণ চলাচলে আরও বিপাকে পড়ছে বর্ষা সড়কে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ভুট্টু সময়ের সমীকরণকে জানান, দর্শনা টু মুজিবনগর সড়কের সংস্কার কাজ এতোটাই মন্থর যে জনসাধরণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। সড়কের বেহাল দশার ফলে এলাকার কৃষি বাণিজ্যতে চরম প্রভাব ফেলেছে। এলাকায় প্রচুর ধান পাট ও সবজির আবাদ হয়, যার ৬০ ভাগ যায় এলাকার বাইরের বাজারে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সমস্যার কারণে বাইরের ফড়িয়া বা ব্যবসায়ীরা এলাকায় হাটে-বাজারে আসতে পারছে না। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা আসতে না পারায় এলাকার ফসল বিক্রিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ এলাকাবাসীর নানা অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদের বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কাছে সময়ের সমীকরণ-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, কেন সড়কের বেহাল দশার সমাধানে সংস্কার ও সড়কের বর্ধিত কাজ মন্থর গতিতে হচ্ছে? তিনি এ প্রশ্নের জবাবে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে সমীকরণকে জানান, এলাকার মানুষের অভিযোগ ঠিক না, কাজ নিয়ম অনুযায়ীয় চলছে। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে দর্শনা-মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মানের উন্নতিকরণ প্রকল্পের অধীনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্বের ১২ ফুট চওড়া সড়কের দুই ধারে আরও ৩ ফুট করে ৬ ফুট বর্ধিত করে দুই লেনের ১৮ ফুট চওড়া মোট ২৩ কিলোমিটার পাকা সড়কের নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সড়কটির নির্মাণকাজের সময়সীমা আছে আগামী ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমি আশা করছি, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কাজটি যথাসময় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং ইতোমধ্যে আটকবর থেকে কার্পাসডাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের দুধারের বর্ধিত কাজ করা হয়েছে। জানা গেছে, সড়কটির সংস্কার কাজে নিয়োজিত আছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জহুরুল অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। এ বিষয়ে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের করে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে, এলাকাবসীদের দাবি, সড়কের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে এলাকাবাসীকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। বিঃদ্রঃ প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন আমাদের দর্শনা অফিস প্রধান আওয়াল হোসেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)