ডিসকাউন্টে পণ্যে দেওয়ার প্রলোভনে লাখ লাখ প্রতারণা!

আপলোড তারিখঃ 2021-09-23 ইং
ডিসকাউন্টে পণ্যে দেওয়ার প্রলোভনে লাখ লাখ প্রতারণা! ছবির ক্যাপশন:
‘নিউ ডে এক্সপ্লোর বাংলাদেশ’ নামের একটি অনলাইন মাল্টিশপের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে নানা অভিযোগ মেহেরপুরের গাংনীর দিগলকান্দি বাজার ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোহাম্মদী শপিং কমপ্লেক্স থেকে কার্যক্রম চালায় প্রতারকচক্র মাহবুব আলম, গাংনী: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের গাংনীতে ‘নিউ ডে এক্সপ্লোর বাংলাদেশ’ নামে একটি অনলাইন মাল্টিশপ খুলে জামানত নিয়ে চাকরি দিয়ে ও সাধারণ গ্রাহককে বিভিন্ন ডিসকাউন্টে পণ্যে দেওয়ার প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগকৃত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জামানতের টাকা ফেরত পেতে ও বেতন ভাতা না পেয়ে বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এখনো পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার দিগলকান্দি গ্রামের হাইউল ইসলামের ছেলে সাদিকুল হাসান নাজমুল ও একই গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে সাকলাইন মোস্তাক উভয়ে ‘নিউ ডে এক্সপ্লোর বাংলাদেশ’ নামের একটি অনলাইন মাল্টিশপ নামের প্রতিষ্ঠান খুলে দিগলকান্দি বাজারে ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের মোহাম্মদী শপিং কমপ্লেক্সে অফিস ভাড়া নিয়ে জামানত ও ফাকা চেক রেখে কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ প্রদান করেন এবং তাদের মাধ্যমে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের এলইডিটিভি ও রাইসকুকারসহ বিভিন্ন ইলেট্রনিক্স মালামাল বিক্রয় করে সাধারণ গ্রাহকের নিকট। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা নিম্নমানের মালামালের সার্ভিসিং করতে চাইছে না। ফলে এসব পণ্যের বিক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। কিস্তি আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছেন, পাশাপাশি নিজেদের বেতন ভাতাও দিচ্ছে না এই অনলাইন মাল্টিশপ প্রতিষ্ঠান। নিজেদের জামানতের টাকা পেতে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন তারা। পাশাপাশি নিয়মিত যাচ্ছেন ওই অফিসের সামনেও, কিন্তু কোনো সমাধানই যেন তাদের আসছে না। চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার ছোটশলুয়া গ্রামের সাজিবার রহমানের ছেলে শামীম হোসেন বলেন, ‘লোক মারফত জানতে পারি নিউ ডে এক্সপ্লোর বাংলাদেশ নামে একটি অনলাইন মাল্টিশপ নামের প্রতিষ্ঠান ভালো বেতনে চাকরি দিচ্ছে। আমি যোগাযোগ করলে আমাকে বলে একটি মোটরসাইকেল লাগবে। যেহেতু মার্কেটিং করতে হবে, তাই গাড়ি ছাড়া সম্ভব হবে না। সেই কথা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি একটি মোটরসাইকেল দেন এবং ব্ল্যাংক চেকও রেখে দেন নাজমুল। তিন মাস যাবত অফিস বন্ধ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না। আমি প্রায় ৯ মাস হলো চাকরিতে যোগদান করি। এরপর থেকেই বেতন দেয় না, আজ-কাল করে ঘুরায়। এখন একদিকে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে পাড়া-প্রতিবেশীরা পণ্য ফেরতের চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বেতন পাব পাব করে বিভিন্ন স্থান দায়-দেনা করে চলেছি। তারাও টাকা চাচ্ছে, কী করব বুঝতে পারছি না। এমন বিপাকে শুধু আমি একা পড়িনি, আমার সাথে আমার গ্রামের বিদ্যুৎ আলী, সোহানুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলার আশিকুর রহমান চাঁদ মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছে বিপাকে। একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আল-আমিন জানান, ‘আমাকে ২০২০ সালে ডিসেম্বর মাসে চাকরিতে যোগদান করায়। আমি টিভি, মোবাইল ফোন, ফ্যান ক্রেডিটে বিক্রি করার দায়িত্বে ছিলাম। পরে আমাকে বলে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ অফিসার নেওয়ার কথা। এসময় আমি উক্ত পদে নেওয়ার কথা জানালে আমাদের বস সাদিকুল হাসান নাজমুল বলেন, মার্কেটের বাকি তোমার পকেট থেকে পরিশোধ করো। আর কিছু টাকা প্রদান করলে তোমাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। মার্কেটের টাকা দ্রুত কালেকশন সম্ভব নয়, তাই আমার বাড়ি থেকে টাকা ম্যানেজ করে দিই এবং মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু অদ্যবধি পর্যন্ত আমাকে কোনো বেতন-ভাতা তো প্রদান করা হয়নি। তা ছাড়াও অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। আমিসহ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দেয়নি। বেতন-ভাতা চাইলে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার হুমকি দেয়। কারণ তার নিকট ব্লাঙ্ক চেক রয়েছে। সেই ব্লাংক চেক দিয়ে মামলা করার ভয় দেখায়। প্রতারণার ফাঁদে পড়া আরেকজন মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত মনি বিশ^াসের ছেলে জাকারিয়া হাবিব (লাল্টু) জানিয়েছেন, ‘আমি বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টার বীজ বিক্রি করে থাকি। চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বীজ বিক্রি করি যার ফলে দিগলকান্দি এলাকার নাজমুলও বীজের ক্রেতা। কিন্তু হঠাৎ ও পানির বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এক দিন আমার বাসায় হাজির হন নাজমুল। পরে বলে আমি ঢাকার সাথে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল নিয়ে এলাকায় বিক্রি করছি, ভালো লাভ হচ্ছে। নাজমুল বলেন, আপনি করতে চাইলে সাথে নেব, কারণ আমার অর্থ কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে। তার কথা অনুযায়ী এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে প্রথমে ০৬-০৮-২০ তারিখে চুক্তিনামা করে ১০ লাখ টাকা তাকে দেওয়া হয়। টিভি, ফ্যান ও রাইসকুকার ব্যবসার শেয়ার ক্রয় করি। যার থেকে প্রতিমাসে ২৮ হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা। পরে আমি চুয়াডাঙ্গার অফিসে যায় সেখানে মার্কেটিং ম্যানেজার আল-আমিন বলেন, মার্কেটে ২৯ লাখ টাকা রয়েছে। ম্যানেজার আল-আমিনের কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে ফ্রিজ ব্যবসার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা দিই। প্রতি তিন মাস পরপর লভ্যাংশ দেওয়ার কথা। কিন্তু আমার ফোনও ধরে না, আবার যোগাযোগ করে না। সর্বমোট ২০ লাখ টাকা আমার নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়। আমি টাকা চাইলে আমাকে হুমকি দেয় ‘তুই আমাকে চিনিস, তোকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেব।’ বিষয়টি প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু সে আর চুয়াডাঙ্গা যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানায় অভিযোগ করি। কিন্তু পুলিশও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। শুধু আমি নয়, প্রতিদিন শত শত মানুষ ওই অফিসের সামনে হাজির কেউ টাকা ফেরতের জন্য। কেউ আবার খারাপ পণ্য রিপেয়ার করার জন্য।’ গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এবিষয়ে একটি অভিযোগ করেছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। যে ছেলেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) জানান, এবিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)