ছবির ক্যাপশন:
আজকের স্পট : পৌরসভার ৩ নম্বর সবুজ পাড়া-সাদেক আলী মল্লিক পাড়া-পলাশ পাড়া-শান্তি পাড়া-গুলশান পাড়া-মুক্তিপাড়ার
মেয়রের মন্তব্য ‘সাংবাদিক যা পারে তাই লিখুক’
এম এ মামুন:
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডের নাগরিকদের কাছে ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা ওয়ার্ডবাসীদের সুখ-দুঃখের কথা শুনে উন্নত সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেন। কিন্তু ভোট পরবর্তী ভোটারদের কথা ভুলে যান। পৌর চেয়ারে বসে মেয়র আর কাউন্সিলর যখন হাসেন, তখন পৌরবাসী চোখের জলে ভাসেন। তারপরেও পৌরবাসী ভোট দেয় উন্নয়নের আশায়।
পৌরবাসীর উল্লেখিত নানা সমস্যা সমাধানের কথা বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সমীকরণকে জানান, ‘ভাই সাংবাদিক যা পারে তাই লিখুক। বাজেট পালি উন্নয়ন হবে, তা ছাড়া সম্ভব নয়। সাংবাদিক সাংবাদিকের কাজ করছে, আমি আমার কাজ করব।’
গত সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর সময়ের সমীকরণ-এর প্রথম পাতায় আমাদের সমস্যার ধারাবাহিক কলামে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাড়ী কুলচারা ও দিগড়ী এলাকার সড়কসহ নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর বিভিন্ন ওয়ার্ডের মানুষ সমীকরণ-এর মুঠোফোনে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরার আবেদন করেন। জনগণের মুখপত্র হিসেবে এক দায়বদ্ধতার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সমীকরণ-এর আজকের স্পট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজ পাড়া, সাদেক আলী মল্লিক পাড়া, পলাশ পাড়া, শান্তি পাড়া গুলশান পাড়া ও মুক্তিপাড়ার নানা সমস্যা ও জন দুর্ভোগ এখন চরমে। সেই চিত্র তুলে ধরা হলো।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদশন করে দেখা যায় পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধার হালচিত্র। এই ওয়ার্ডের সব স্থানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এতাটাই নাজুক যে সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনের পানি বাসা-বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে ও সড়কগুলোও ড্রেনে পরিণত হয়। অনেক সময় দেখে মনে হবে সড়ক নয়, যেন চাষের জমি। এছাড়া উল্লেখিত ওয়ার্ডের একাধিক স্থানে রয়েছে ডাস্টবিন, এসব ডাস্টবিন থেকে সময়মতো ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করায় চরম দুর্গন্ধে ওয়ার্ডের জনসাধারণ চলাচল করতে কষ্ট পায়। এই এলাকার সড়কগুলোর পিচ উঠে মাটির কাঁচা রাস্তা হয়ে গেছে। বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এসব ভাঙাচোরা সড়কে যান চলাচল করতে চরম সমস্যায় ভুগছে জনসাধারণ।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ফিরোজ রোড থেকে ধোপাগর্ত পাড়ার সড়ক, সবুজপাড়া হয়ে মহিলা কলেজ রোড ও পলাশপাড়া হয়ে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড সড়ক, ১ নম্বর পানির ট্যাংক সড়ক, কোর্ট মোড় হয়ে বুজুরুক গড়গড়ি ও হাসপাতাল সড়ক, এপ্যাক্স ইটভাটার কাছ থেকে রেলগেট পর্যন্ত এবং রেলগেট সদর হাসপাতাল হয়ে কলেজ রোড, রেলগেট হয়ে কলোনী পাড়ার মোড়, মুক্তিপাড়া হয়ে নতুন বাজার সড়ক ও কবরী রোড়ের বেহাল দশা দেখলে মনে হবে না পৌরসভার উন্নয়ন হয়েছে। এসব এলাকার অনেকের অভিযোগ ভোটের সময় বর্তমান মেয়র আমাদের সাথে যেসব উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার একটি কথাও রাখেনি।
এ বিষয়ে বর্তমান মেয়র জানান, ‘আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাজেট পেলে পৌরসভার সব ওয়ার্ডের উন্নয়ন হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাজেট পেতে হলে পৌরসভার কর্মচারীর বেতন ও পৌরসভার বিদ্যুৎ বিল শতভাগ এবং পৌরসভার শতভাগ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ না দেখালে উন্নয়ন বাজেট পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয় না। আমরা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, আমাদের সবকিছু ওকে না থাকলে বাজেট পেতে সমস্যা হয়।
তবে মেয়রের এমন কথার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ওয়ার্ডবাসীর সচেতন ব্যক্তিরা জানান, পৌরবাসীর উন্নয়ন হলে পৌরবাসী অবশ্যই ট্যাক্স দেবে আমরা তো নাগরিক সুবিধা ছাড়ায় হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে থাকি। পৌর কর্তৃপক্ষের দূর্বলতার কারণে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয় না। এ দায়তো পৌরবাসীর না। আমরা ভোট দিই উন্নয়নের জন্য, যে উন্নয়ন যখন হয় না, তখন ধরেই নিতে হয় পৌরপিতা পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। সর্বশেষ ৩ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর দাবি, এলাকার সড়ক ও ড্রেন এবং ডাস্টবিনের ময়লা সময়মতো অপসারণ করে উন্নত নাগরিক সুবিধা সুনিশ্চিত করা হোক।
