ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার পৌর এলাকায় প্রাক্তন স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে থানায় আত্মসর্মপণ করেছেন সাবেক স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৫)। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার ফেরিঘাট রোডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত নারীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয় পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। পরে জসিম উদ্দীনকে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। আহত নারী চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোটেল ব্যবসায়ী আবু কাওসারের মেয়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী জানান, ‘এক বছর পূর্বে আমার সঙ্গে জসিম উদ্দীনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কিন্তু সে আমার বাবার হোটেলেই ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে আসছিল। ১০ দিন পূর্বে আমি অন্যত্র বিবাহ করেছি। আমার বিবাহের ঘটনা জানার পরে জসিম আমার বাসায় এসে একটি ছুরি দিয়ে আমাকে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীকে জরুরি বিভাগে নেয়। তাঁর দুই হাতে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর ডান হাতে ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে ও তাঁর বাম হাতের শিরা কেটে হাড় বের হওয়ায় অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, জসিম উদ্দিনের হাতের পাতা কেটে গেছে। তাঁকে জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খকরুল আলম খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম জসিম উদ্দিন নামে এক যুবক। ঘটনার পর রক্তমাখা অবস্থায় সে নিজেয় সদর থানায় উপস্থিত হয়ে জখমের বিষয়টি জানায়। নিজেকে ওই নারীর স্ত্রী বলেও জানায়। সে নিজেও ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে এসেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
