চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি!

আপলোড তারিখঃ 2021-09-14 ইং
চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি! ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বর্জ্যরে স্তূপ : এক মাসেও আসেনি পৌরসভার গাড়ি মেয়র খোকন বললেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি রুদ্র রাসেল: প্রতিদিনের চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী নেওয়ার একমাত্র পথটি এখন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে অন্তবিভাগে চিকিৎসকদেরও যেতে হয় নাকে রুমাল ঠেসে। হাসপাতাল থেকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা হঠাৎ করেই বর্জ্য অপসারণ বন্ধ দিলে হাসাপাতাল চত্বরসহ পুরো এলাকা এখন দূর্গন্ধময়। এছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গনও পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বার বার চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নজরে দিলেও আজও মেলেনি এর সমাধান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বর্জ্যগুলো সরাতে না পারলেও বাধ্য হয়ে স্তূপকৃত করে রেখেছে। জানা যায়, কোভিড রোগী ব্যতিত কাগজে-কলমে হাসপাতালটি ১ শ শয্যা হলেও এখানে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। এছাড়া হাসপাতালের অন্তবিভাগে ভর্তি থাকে দুইশরও অধিক রোগী। এই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দুই মণ বর্জ্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতালটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো জনবল, যন্ত্রপাতি বা সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, গত কয়েকমাস যাবত খুব বিপাকে রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা পক্ষ থেকে তাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করা হতো। বর্তমান পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে যেটা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। যারফলে গত কয়েকমাস বর্জ্য নিষ্কাশনে পৌরসভা থেকে একটি ভ্যান গাড়িও সদর হাসপাতালে আসেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়। ফলে হাসপাতালের প্রতিদিনের বর্জ্য জমে এখন স্তুপে পরিণত হয়েছে। সদর হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন সালমা বেগম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার শাশুড়ী সেট্রাকে আক্রান্ত হলে তাঁকে প্রথমে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। চিকিৎসক তাঁকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রাখেন। জরুরি বিভাগ থেকে মেডিসিন বিভাগে শাশুড়ীকে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখি ওয়ার্ড বয় ট্রলি ঠেলে আবর্জনার স্তুপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এইদিকে কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে সে বলে ওয়ার্ডে যাওয়ার রাস্তা এটাই। উপায় না পেয়ে বর্জ্যরে মধ্যের রাস্তা দিয়েই ওয়ার্ডে এসেছি। শুধু বর্জ্য স্তুপের মধ্যের রাস্তা দিয়ে ওয়ার্ডে এসেই ভোগান্তির শেষ হয়নি, বর্জ্য স্তুপের দুর্গন্ধ ২৪ ঘণ্টায় ওয়ার্ডের মধ্যে আসে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘জরুরি বিভাগে ডিউটি থাকলে মাঝে মধ্যেই হাসপাতালের বর্জ্যরে স্তুপের কারণে সমস্যায় পড়তে হয়। ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কোনো রোগী মুমূর্ষু হয়ে পড়লে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রোগীর নিকট যেতে হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালে ওয়ার্ডে যাওয়ার জন্য যে পথটি রয়েছে, বর্তমানে তা বর্জ্যস্তুপে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে ওয়ার্ডে যেতে হলে অনেক ঘুরতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে নাক, মুখ চেপে ধরে বর্জ্যস্তুপের মধ্যে দিয়েই ওয়ার্ডে যেতে হয়।’ এবিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্তব্যকর্তা চিকিৎসক ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য বা ডিসপোজিবল বর্জ্যগুলো হাসপাতালের মধ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের অনুসাঙ্গিক অন্যান্য যে বর্জ্য সৃষ্টি হয়, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পূর্বে নিয়মিত অপসারণ করে আসছিল। তবে গত একমাসের মধ্যে পৌরসভার একটি গাড়িও হাসপাতালের বর্জ্য নিতে না আসায় হাসপাতালের মধ্যে বর্জ্যরে স্তুপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নিয়মিত পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে জানিয়ে আসছি, কিন্তু বিভিন্ন সমস্য দেখিয়ে এই বর্জ্যগুলো অপসারণ করছে না।’ এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন বলেন, ‘পৌরসভার ময়লার গাড়ি নিয়মিত হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করে আসছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কর্মীরা আটকে থাকায় কয়েকদিন যাবত হাসাতালের বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি বলে জানতে পেরেছি। এবিষয়ে জানার পরেই দ্রুত হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। আশাকরি আগামীকালই (আজ মঙ্গলবার) পৌরসভার গাড়ি যেয়ে বর্জ্যগুলো নিষ্কাশন করে নেবে। তবে পৌরসভা থেকে রোগীদের গজ, ব্যান্ডেজ, ওষুধ এই জাতীয় বর্জ্য নিষ্কাশন করা হয় না। এই বর্জ্যগুলো যেখানেই ফেলা হোক না কেন তা পরিবেশ দূষণ করে। এই ধরণের বর্জ্যগুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পুড়িয়ে ফেলতে হবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)