ছবির ক্যাপশন:
দেড় বছর পর খুলল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের বরণে নানা আয়োজন
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে : ডিসি নজরুল ইসলাম
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। দেড় বছর পর শিক্ষালয়ে ফেরার দিনটি অনেকটা ঈদের আনন্দের মতো উদ্যাপন করেছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন রাজধানীসহ সারা দেশে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। নানা আয়োজনে বরণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সরকারি নির্দেশনা মেনে খুলেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রথমদিন তুলনামূলক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি কম ছিল বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। তাছাড়া, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সরকারি নির্দেশনার কিছু ব্যত্যয়ও চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে, সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে একযোগে সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে এক অন্য আবহের সৃষ্টি হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
দীর্ঘ দেড় বছর পর চুয়াডাঙ্গার স্কুলগুলো আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ক্লাস হতে দেখা গেছে। রোববার সকাল থেকেই নির্ধারিত পোশাক পরে স্কুল ও কলেজগুলোতে আসা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখেই ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
সকাল সাড়ে আটটায় চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়াসহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে সাড়ে নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। স্কুল-কলেজ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রথম দিনে উপস্থিতিও বেশ ভালো।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরিধান করে স্কুলে এসেছে তারা। স্কুলগুলোর ফটকে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তাদেরকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফটকে স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের ফুল নিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার সাহা বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১০টি মাদরাসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পাঠদান শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৮ জন। ক্লাসে উপস্থিত হয়েছে ২ হাজার ৩৬ জন। যার উপস্থিতির শতকারা হার ৬৯%। এছাড়া ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪২৫ জন। তার মধ্যে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছিল ২ হাজার ১৭৮ জন। যা শতকরা হারে ৬৪%। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সরগম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার বলেন, সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মানার পর করোনা মহামারিতে মৃতদের জন্য দোয়া করা হয় এবং করোনার হাত থেকে গোটা মানবজাতিকে মুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা ফাজিল মাদরাসার সভাপিত রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন মাদ্রাসায় এসে ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ে বেশি বেশি করে পাঠদান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। প্রথম দিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্লাস হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে দেখা গেছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে দেখে গেছে উপজেলার স্কুল-কলেজগুলোতে। বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের বরণ করতে নানা আয়োজন করেছে। এছাড়াও মাদ্রাসা, ব্রাইট মডেল স্কুল, আল-ইকরা ক্যাডেট স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, মহিলা কলেজসহ সব প্রতিষ্ঠানেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জমান জানান, ক্লাসের প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন তাঁরা। আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এরশাদপুর একাডেমি চারটি স্কুলের প্রবেশপথের সব ফটক বেলুন ও কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। তিন ফুট দূরত্ব রেখে শিক্ষকরা গেটের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, ছাত্রীরা যখন স্কুলে প্রবেশ করে, শিক্ষকরা করতালি ও ড্রাম বাজিয়ে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভেতরে প্রবেশ করান। এসময় আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ইমরুল কায়েস আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের গেটের সামনে বেলুন দিয়ে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করে নেন।
আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ক্লাসরুম সাজানো হয়েছে বেলুন ও রঙিন কাগজ দিয়ে। নিজেদের চেনা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাখা হয়েছে আইসোলেশন রুম সুবিধাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানান পদক্ষেপ। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার খবরে শিক্ষা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (স্কুল ড্রেস) বানাতে ক’দিন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। বিশেষ করে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোর ড্রেস বানিয়ে থাকে, এমন দর্জি দোকান বা টেইলার্সে।
তবে দীর্ঘ সময় পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যেতে নির্দিষ্ট পোশাক নিয়ে স্কুলগুলোতে তেমন কড়াকড়ি করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। প্রধান শিক্ষক হারেজ উদ্দিন জনান, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাস নেওয়া হবে। অন্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুজ্জোহা, সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
দামুড়হুদা:
করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ ৫৪৩ দিন স্কুল বন্ধ থাকার পর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এসময় প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। গতকাল রোববার প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি ও তাপমাত্রা মেপে ক্লাস করেছে।
জানা যায়, করোনা মাহামারিতে সকল স্কুল-কলেজ ৫৪৩ দিন বন্ধ থাকার পর দামুড়হুদা উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়, ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাদ্রাসা ও ৩টি কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন শিক্ষকরা। এবং ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান শিক্ষকরা। দেখা গেছে, কোনো কোনো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সবরকম সর্তকতা মেনেই স্কুল পরিচালনা করা হবে বলে জানান শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিটি স্কুলেই আনন্দমুখর পরিবেশ। সকল শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে স্কুলে এসেছে। আবার স্কুল প্রাঙ্গণ মনোরম পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম বলেন, ‘আমার এখানে ১১৬টি প্রাইমারি স্কুল আছে। কিছু কিছু স্কুলে জায়গা কম থাকায় দুইটি শিফট করা হয়েছে। যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারেন।
দর্শনা:
সারা দেশের ন্যায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বল্প পরিসরে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার পর চালুর প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন খুঁজে পেয়েছে প্রাণ, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলির ক্যাম্পাস আঙিনায় শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষনীয়।
গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা সরকারি কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে পাঠদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। উৎফুল্ল মন নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখে দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর কলেজ খোলার পর প্রথম দিনেই প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল এবং শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের সাথে মিলিত হতে পেরে ব্যাপক আনন্দিত ছিল। এছাড়া সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কর্মসূচি চালু করেছি।
এসময় দর্শনা ডি.এস মাদরাসায় একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ডিএ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা সরকারি নির্দেশনা মেনে পাঠদান কর্মসূচি চালু করেছি। প্রথম দিনেই প্রায় ৮২% শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল।’ দর্শনা কেরু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছি। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা স্কুলে প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে এবং মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করে তারপর ক্লাসে প্রবেশ করতে দিয়েছি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষিকাবৃন্দ তাদেরকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ প্রথম দিনে প্রায় ৯৫% শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে।
দর্শনা মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের আজ প্রথম দিনে প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষর্থীদের মনও ছিল উৎফুল্ল। এসময় দর্শনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছি। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রত্যেক ছাত্রীর তাপমাত্র মেপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ক্লাস রুমে প্রবেশ করিয়েছি। প্রথম দিনেই আমাদের বিদ্যালয়ে ৮৫% শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে প্রথম দিনে উপস্থিতি সংখ্যা ৫০% হলেও পর্যায়ক্রমে উপস্থিতি সংখ্যা পূর্বের ন্যায় হবে বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধানসহ হাত ধুয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি একইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে। দর্শনা কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোও পাঠদান কর্মসূচির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সল্প সময়ের জন্য খোলা রাখা হয়েছিল।
জীবননগর:
আগে কখনো দেখেনি কেউ, ঘটেনি কোনো দিন এমন ঘটনা, স্কুলে ঢোকার সময় এভাবে কখনো ফুল দেয়নি; কপালে যন্ত্র দিয়ে এভাবে কখনো তাপমাত্রাও মাপেনি। বাঁচ্চাদের কাছে স্কুল মানে খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, হৈ-হুল্লোড়, একসঙ্গে টিফিন শেয়ার করা আরও অনেক কিছু। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের ঘরবন্দি ১৮ মাস পার করে গতকাল রোববার সকালে যেভাবে তারা স্কুল ফিরল, সে অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের একেবারেই আলাদা। আর যারা এবারই প্রথম স্কুলে যাচ্ছে? তাদের শৈশবের আনন্দের কত কিছুই না কেড়ে নিচ্ছে এই মহামারি। স্কুল বন্ধ হয়েছিল গতবছরের মার্চে। এরপর অনলাইনে ক্লাস হয়েছে, কিন্তু স্কুলে যাওয়া আর সেভাবে হয়নি শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে অনেকের স্কুল ড্রেস বা জুতো ছোট হয়ে গেছে, কারও বা ব্যাগ নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার স্কুল খোলার তারিখ ঘোষণার পর গত কয়েকদিন তাই শিক্ষার্থীদের কেটেছে প্রস্তুতি আর ক্লাসে ফেরার উত্তেজনার মধ্যে। এখন স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে যোগ হয়েছে মাস্ক। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মা হাতে দিয়েছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের দুই পাশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক আর কর্মচারীরা। অভিভাবকরা বাঁচ্চাদের পৌঁছে দিয়ে গেলেন গেটে। সেখানে তাদের তাপমাত্রা মাপা হলো, হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মুখে মাস্ক নিশ্চিত করে স্কুলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শুধু শিক্ষক-কর্মচারী নয়, জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশ চন্দ্র পাল জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ আলম শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
মহামারি করোনাভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে সব ক্লাসের বাঁচ্চাদের একসঙ্গে স্কুলে ফেরানো হয়নি। আপাতত ক্লাস রুটিন তৈরি করে একেক ক্লাস একেক দিন হবে। এবং শিক্ষার্থীরা সেভাবে স্কুলে যাবে। তাই শ্রেণিকক্ষের চেহারাও এখন অন্য রকম। কোনো কোনো ক্লাস সাজানো হয়েছে ছবি দিয়ে। দূরত্বের নিয়ম মানতে শিশুদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে বেশ খানিকটা ফাঁকা রেখে। জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগে যে বেঞ্চে দুজন বসত, এখন সেখানে একজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার মুখে মাস্ক। কারও কারও সামনে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল।
একই অবস্থা জীবননগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে একটা করে লাল গোলাপ। স্কুলের গেইটে দেখা গেল অনেকের এক হাতে গোলাপ, অন্য হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল। মাস্কে ঢাকা মুখে হাসি বোঝার উপায় নেই, তবে চোখের তারায় উপচে পড়া আনন্দ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে জীবননগর উপজেলাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
সারাদেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি কিন্ডার গার্টেন ও ৪টি কলেজ খোলা হয়। তবে কেউ অসুস্থ থাকলে তাকে প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষকরা। জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশচন্দ্র পাল বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা, ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশমুখ ব্যবহার করা, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে তাদের বসার ক্ষেত্রে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও যেন পানি না জমে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সকল স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় খোলা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় পৃথকভাবে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলিম মাদরাসা ও অত্র ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিক্ষকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের ন্যায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এ ব্যাপারে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ আহমেদ তাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার সকল সুব্যবস্থা রয়েছে।
উথলী:
মহামারি করোনার ভয়াল থাবায় দেশের শিক্ষাসূচি থেকে ঝরে গেছে প্রায় দেড় বছর। এই দীর্ঘ সময় পর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। প্রথম দিনে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে সকলের চেহারাতেই ছিল হাসি আনন্দের ঝলক। বন্ধু-বান্ধবী আর শিক্ষকদের সাথে দেখা করতে পেরে তাদের খুশির যেন অন্ত নেই।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। এছাড়াও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে চলছে প্রচার-প্রচারণা। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে দেখা গেছে। উথলী ইউনিয়নের উথলী ডিগ্রি কলেজ, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসা, সিংনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এসকল শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।
উথলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আকরাম হোসেন জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর আজ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে এই উথলী ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস। সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা হাসিমাখা মুখ নিয়ে কলেজে আসা শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
মেহেরপুর:
প্রাণঘাতি করোনা মহামারির কারণে প্রায় আঠারো মাস বন্ধ থাকার পর সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুর জেলাতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর মেহেরপুর জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজে নিজে ব্যবস্থাপনায় ক্লাস শুরু করে। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভ্যার্থনা জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামান উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ক্লাসে স্বাগত জানান। এসময় তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সহকারী শিক্ষক কাজী আনিসুজ্জামান, সেকেন্দার আলীসহ বিদ্যালয় অন্যান্ন শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। মেহেরপুর জেলায় ৩০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি মাদ্রাসা এবং ১২টি কলেজ রয়েছে।
অপর দিকে, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উদ্যোগে কলেজ খোলার পর মহিলা কলেজের ছাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষকরা ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরা কলেজে প্রবেশ করে আনন্দ প্রকাশ করেন। সরকারি মহিলা কলেজে বিএনসিসি সদস্যরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের তাপমাত্রা মেপে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় কলেজের অন্যান্য ও শিক্ষকগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ:
মহামারি করোনায় লকডাউনের পর দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা। ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠদান। গতকাল রোববার সকাল থেকেই স্কুলের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের শরীরে তাপমাত্রা নির্ণয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান শেষে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ শফিয়ার রহমান জানান, প্রথম দিনে ১০ম, এসএসসি পরীক্ষার্থী, ৫ম শ্রেণি ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি বেঞ্চে ২ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে। এছাড়াও স্কুলের প্রধান গেইটে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্কুলের পাঠদান করানো হচ্ছে। শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বলেন, ‘স্কুল চালু করার জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরেই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় ক্লাসরুমসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই পাঠদান করানো হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে ক্লাস করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নাঈম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক দিন পর আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আসতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে। স্যারদের সাখে দেখা হচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে।’ এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান শুরুর হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করছে। প্রত্যেকে মাস্ক পরিধান করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা তা অনুসরণ করবে। আজকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও আশা করছি আগামীকাল থেকে পূর্বের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া যাবে।
দীর্ঘ দেড় বছর পর চুয়াডাঙ্গার স্কুলগুলো আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে ক্লাস হতে দেখা গেছে। রোববার সকাল থেকেই নির্ধারিত পোশাক পরে স্কুল ও কলেজগুলোতে আসা শুরু করে শিক্ষার্থীরা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সবকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখেই ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
সকাল সাড়ে আটটায় চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়াসহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। পরে সাড়ে নয়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। স্কুল-কলেজ পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। স্বাস্থ্যবিধি মনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রথম দিনে উপস্থিতিও বেশ ভালো।
এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ভি জে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরিধান করে স্কুলে এসেছে তারা। স্কুলগুলোর ফটকে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে প্রবেশ করানো হচ্ছে। তাদেরকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ফটকে স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও অবস্থান করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের ফুল নিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার সাহা বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৪৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১০টি মাদরাসায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পাঠদান শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৮ জন। ক্লাসে উপস্থিত হয়েছে ২ হাজার ৩৬ জন। যার উপস্থিতির শতকারা হার ৬৯%। এছাড়া ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪২৫ জন। তার মধ্যে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছিল ২ হাজার ১৭৮ জন। যা শতকরা হারে ৬৪%। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের সরগম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতি নাসির আহাদ জোয়ার্দ্দার বলেন, সব রকম স্বাস্থ্যবিধি মানার পর করোনা মহামারিতে মৃতদের জন্য দোয়া করা হয় এবং করোনার হাত থেকে গোটা মানবজাতিকে মুক্তির জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা ফাজিল মাদরাসার সভাপিত রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন মাদ্রাসায় এসে ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ে বেশি বেশি করে পাঠদান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। প্রথম দিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্লাস হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকালে শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে দেখা গেছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নানা ধরনের প্রস্তুতি নিতে দেখে গেছে উপজেলার স্কুল-কলেজগুলোতে। বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের বরণ করতে নানা আয়োজন করেছে। এছাড়াও মাদ্রাসা, ব্রাইট মডেল স্কুল, আল-ইকরা ক্যাডেট স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, মহিলা কলেজসহ সব প্রতিষ্ঠানেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জমান জানান, ক্লাসের প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন তাঁরা। আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এরশাদপুর একাডেমি চারটি স্কুলের প্রবেশপথের সব ফটক বেলুন ও কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। তিন ফুট দূরত্ব রেখে শিক্ষকরা গেটের সামনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, ছাত্রীরা যখন স্কুলে প্রবেশ করে, শিক্ষকরা করতালি ও ড্রাম বাজিয়ে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ভেতরে প্রবেশ করান। এসময় আলমডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী ও সহকারী শিক্ষা অফিসার ইমরুল কায়েস আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের গেটের সামনে বেলুন দিয়ে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করে নেন।
আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ক্লাসরুম সাজানো হয়েছে বেলুন ও রঙিন কাগজ দিয়ে। নিজেদের চেনা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাখা হয়েছে আইসোলেশন রুম সুবিধাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানান পদক্ষেপ। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার খবরে শিক্ষা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক (স্কুল ড্রেস) বানাতে ক’দিন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের। বিশেষ করে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোর ড্রেস বানিয়ে থাকে, এমন দর্জি দোকান বা টেইলার্সে।
তবে দীর্ঘ সময় পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যেতে নির্দিষ্ট পোশাক নিয়ে স্কুলগুলোতে তেমন কড়াকড়ি করতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষনীয়। প্রধান শিক্ষক হারেজ উদ্দিন জনান, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাস নেওয়া হবে। অন্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুজ্জোহা, সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।
দামুড়হুদা:
করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ ৫৪৩ দিন স্কুল বন্ধ থাকার পর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এসময় প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। গতকাল রোববার প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি ও তাপমাত্রা মেপে ক্লাস করেছে।
জানা যায়, করোনা মাহামারিতে সকল স্কুল-কলেজ ৫৪৩ দিন বন্ধ থাকার পর দামুড়হুদা উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়, ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাদ্রাসা ও ৩টি কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন শিক্ষকরা। এবং ছাত্র-ছাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান শিক্ষকরা। দেখা গেছে, কোনো কোনো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সবরকম সর্তকতা মেনেই স্কুল পরিচালনা করা হবে বলে জানান শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিটি স্কুলেই আনন্দমুখর পরিবেশ। সকল শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরে স্কুলে এসেছে। আবার স্কুল প্রাঙ্গণ মনোরম পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকী সালাম বলেন, ‘আমার এখানে ১১৬টি প্রাইমারি স্কুল আছে। কিছু কিছু স্কুলে জায়গা কম থাকায় দুইটি শিফট করা হয়েছে। যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষকরা ক্লাস নিতে পারেন।
দর্শনা:
সারা দেশের ন্যায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বল্প পরিসরে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার পর চালুর প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেমন খুঁজে পেয়েছে প্রাণ, তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলির ক্যাম্পাস আঙিনায় শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষনীয়।
গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা সরকারি কলেজে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে পাঠদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। উৎফুল্ল মন নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখে দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর কলেজ খোলার পর প্রথম দিনেই প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল এবং শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা তাদের বন্ধুদের সাথে মিলিত হতে পেরে ব্যাপক আনন্দিত ছিল। এছাড়া সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কর্মসূচি চালু করেছি।
এসময় দর্শনা ডি.এস মাদরাসায় একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। ডিএ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা সরকারি নির্দেশনা মেনে পাঠদান কর্মসূচি চালু করেছি। প্রথম দিনেই প্রায় ৮২% শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল।’ দর্শনা কেরু উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছি। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আমরা স্কুলে প্রবেশের আগে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মেপে এবং মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করে তারপর ক্লাসে প্রবেশ করতে দিয়েছি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষিকাবৃন্দ তাদেরকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ প্রথম দিনে প্রায় ৯৫% শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে।
দর্শনা মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেছি এবং আমাদের বিদ্যালয়ের আজ প্রথম দিনে প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষর্থীদের মনও ছিল উৎফুল্ল। এসময় দর্শনা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছি। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রত্যেক ছাত্রীর তাপমাত্র মেপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ক্লাস রুমে প্রবেশ করিয়েছি। প্রথম দিনেই আমাদের বিদ্যালয়ে ৮৫% শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক লিয়াকত আলী জানান, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে প্রথম দিনে উপস্থিতি সংখ্যা ৫০% হলেও পর্যায়ক্রমে উপস্থিতি সংখ্যা পূর্বের ন্যায় হবে বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরিধানসহ হাত ধুয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া দর্শনা পৌর এলাকার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি একইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে। দর্শনা কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোও পাঠদান কর্মসূচির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সল্প সময়ের জন্য খোলা রাখা হয়েছিল।
জীবননগর:
আগে কখনো দেখেনি কেউ, ঘটেনি কোনো দিন এমন ঘটনা, স্কুলে ঢোকার সময় এভাবে কখনো ফুল দেয়নি; কপালে যন্ত্র দিয়ে এভাবে কখনো তাপমাত্রাও মাপেনি। বাঁচ্চাদের কাছে স্কুল মানে খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, হৈ-হুল্লোড়, একসঙ্গে টিফিন শেয়ার করা আরও অনেক কিছু। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের ঘরবন্দি ১৮ মাস পার করে গতকাল রোববার সকালে যেভাবে তারা স্কুল ফিরল, সে অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের একেবারেই আলাদা। আর যারা এবারই প্রথম স্কুলে যাচ্ছে? তাদের শৈশবের আনন্দের কত কিছুই না কেড়ে নিচ্ছে এই মহামারি। স্কুল বন্ধ হয়েছিল গতবছরের মার্চে। এরপর অনলাইনে ক্লাস হয়েছে, কিন্তু স্কুলে যাওয়া আর সেভাবে হয়নি শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে অনেকের স্কুল ড্রেস বা জুতো ছোট হয়ে গেছে, কারও বা ব্যাগ নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার স্কুল খোলার তারিখ ঘোষণার পর গত কয়েকদিন তাই শিক্ষার্থীদের কেটেছে প্রস্তুতি আর ক্লাসে ফেরার উত্তেজনার মধ্যে। এখন স্কুলের ইউনিফর্মের সঙ্গে যোগ হয়েছে মাস্ক। সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মা হাতে দিয়েছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার।
জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের দুই পাশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষক আর কর্মচারীরা। অভিভাবকরা বাঁচ্চাদের পৌঁছে দিয়ে গেলেন গেটে। সেখানে তাদের তাপমাত্রা মাপা হলো, হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মুখে মাস্ক নিশ্চিত করে স্কুলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শুধু শিক্ষক-কর্মচারী নয়, জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশ চন্দ্র পাল জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ আলম শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
মহামারি করোনাভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে সব ক্লাসের বাঁচ্চাদের একসঙ্গে স্কুলে ফেরানো হয়নি। আপাতত ক্লাস রুটিন তৈরি করে একেক ক্লাস একেক দিন হবে। এবং শিক্ষার্থীরা সেভাবে স্কুলে যাবে। তাই শ্রেণিকক্ষের চেহারাও এখন অন্য রকম। কোনো কোনো ক্লাস সাজানো হয়েছে ছবি দিয়ে। দূরত্বের নিয়ম মানতে শিশুদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে বেশ খানিকটা ফাঁকা রেখে। জীবননগর থানা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগে যে বেঞ্চে দুজন বসত, এখন সেখানে একজন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার মুখে মাস্ক। কারও কারও সামনে রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল।
একই অবস্থা জীবননগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ঢোকার সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে একটা করে লাল গোলাপ। স্কুলের গেইটে দেখা গেল অনেকের এক হাতে গোলাপ, অন্য হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল। মাস্কে ঢাকা মুখে হাসি বোঝার উপায় নেই, তবে চোখের তারায় উপচে পড়া আনন্দ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে জীবননগর উপজেলাসহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
সারাদেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি কিন্ডার গার্টেন ও ৪টি কলেজ খোলা হয়। তবে কেউ অসুস্থ থাকলে তাকে প্রতিষ্ঠানে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষকরা। জীবননগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দ্বিনেশচন্দ্র পাল বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা, ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশমুখ ব্যবহার করা, প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে তাদের বসার ক্ষেত্রে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও যেন পানি না জমে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সকল স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় খোলা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় পৃথকভাবে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শাহাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সড়াবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আন্দুলবাড়ীয়া আশরাফিয়া আলিম মাদরাসা ও অত্র ইউনিয়নের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। এসময় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিক্ষকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের ন্যায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এ ব্যাপারে আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ আহমেদ তাজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য-সুরক্ষার সকল সুব্যবস্থা রয়েছে।
উথলী:
মহামারি করোনার ভয়াল থাবায় দেশের শিক্ষাসূচি থেকে ঝরে গেছে প্রায় দেড় বছর। এই দীর্ঘ সময় পর গতকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। প্রথম দিনে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর নিজেদের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরতে পেরে সকলের চেহারাতেই ছিল হাসি আনন্দের ঝলক। বন্ধু-বান্ধবী আর শিক্ষকদের সাথে দেখা করতে পেরে তাদের খুশির যেন অন্ত নেই।
এদিকে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। এছাড়াও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে চলছে প্রচার-প্রচারণা। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে দেখা গেছে। উথলী ইউনিয়নের উথলী ডিগ্রি কলেজ, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসা, সিংনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এসকল শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।
উথলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আকরাম হোসেন জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর আজ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে এই উথলী ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস। সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা হাসিমাখা মুখ নিয়ে কলেজে আসা শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীকে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
মেহেরপুর:
প্রাণঘাতি করোনা মহামারির কারণে প্রায় আঠারো মাস বন্ধ থাকার পর সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুর জেলাতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর মেহেরপুর জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজে নিজে ব্যবস্থাপনায় ক্লাস শুরু করে। গতকাল রোববার সকাল ৭টার দিকে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে অভ্যার্থনা জানানো হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুজ্জামান উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ক্লাসে স্বাগত জানান। এসময় তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সহকারী শিক্ষক কাজী আনিসুজ্জামান, সেকেন্দার আলীসহ বিদ্যালয় অন্যান্ন শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। মেহেরপুর জেলায় ৩০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪টি মাদ্রাসা এবং ১২টি কলেজ রয়েছে।
অপর দিকে, মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উদ্যোগে কলেজ খোলার পর মহিলা কলেজের ছাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষকরা ছাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীরা কলেজে প্রবেশ করে আনন্দ প্রকাশ করেন। সরকারি মহিলা কলেজে বিএনসিসি সদস্যরা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের তাপমাত্রা মেপে তাঁদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এসময় কলেজের অন্যান্য ও শিক্ষকগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ:
মহামারি করোনায় লকডাউনের পর দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা। ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠদান। গতকাল রোববার সকাল থেকেই স্কুলের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের শরীরে তাপমাত্রা নির্ণয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান শেষে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ শফিয়ার রহমান জানান, প্রথম দিনে ১০ম, এসএসসি পরীক্ষার্থী, ৫ম শ্রেণি ও ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি বেঞ্চে ২ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে। এছাড়াও স্কুলের প্রধান গেইটে তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্কুলের পাঠদান করানো হচ্ছে। শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বলেন, ‘স্কুল চালু করার জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরেই পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় ক্লাসরুমসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই পাঠদান করানো হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসতে ক্লাস করতে পেরে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নাঈম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক দিন পর আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আসতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে। স্যারদের সাখে দেখা হচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে।’ এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান শুরুর হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করছে। প্রত্যেকে মাস্ক পরিধান করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারা তা অনুসরণ করবে। আজকের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও আশা করছি আগামীকাল থেকে পূর্বের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া যাবে।
