ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন ১১ ও মেহেরপুরে ৩ জন করোনা আক্রান্ত
২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৫৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৫৮৮ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশের একদিনের ব্যবধানে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সমেয় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৮৮ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ জনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাড়িঁয়েছে ৬ হাজার ৮১৩ জনে। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে কেউ মারা যায়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৭ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩ জন ও জীবননগর উপজেলার ১ জন রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১৪৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১৩৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিচনায় শনাক্তের হার ৭.৬৩ শতাংশ। গতকাল জেলায় করোনা থেকে নতুন ১৮ জন সুস্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৪৬ জন।
গত এক সপ্তাহে জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ শতাংশ। এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নতুন আক্রান্ত একজন ব্যতিত প্রত্যেকেই সুস্থ হয়েছে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৬ হাজার ৮৫৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৭ হাজার ৭০২টি (পিসিআর ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন), পজিটিভ ৬ হাজার ৮১৩ জন। জেলায় বর্তমানে ২৫৮ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ২৪৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১৪ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে গাংনী উপজেলার ১ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ২ জন রয়েছে। এসময় জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ৬৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪.৬৮ শতাংশ। নতুন আক্রান্ত ৩ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ জন, গাংনী উপজেলর ২২ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ১০ জন রয়েছে। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮২ জন, গাংনী উপজেলার ৫৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৯ জন রয়েছে।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৭৯৪ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ৪৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২ হাজার ৫৮৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৯০ জনে। এর আগেরদিন বুধবার দেশে করোনায় ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২ হাজার ৪৯৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। সেই তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে। তবে করোনা শনাক্তের হার কমেছে। গত বুধবার করোনা শনাক্তের হার ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ২১১ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ৫৮ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে তিনজন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে আটজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছেন।
