ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার নতুন যাদবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার নতুন যাবদপুর গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী জেসমিন খাতুন আয়নাকে (৩৮) গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুজন আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ানের নতুন যাদবপুর গ্রামের ওসমান মণ্ডলের ছেলে মামুন মণ্ডল (২৭) ও তাঁর সহযোগী ভাস্তে রাব্বি (১৭)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ‘পরকীয়া প্রেমের জের ধরে প্রবাসীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার আয়না খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে প্রেমিক মামুন মণ্ডল। ভিকটিমের বাড়ির একটি ধারালো ছুরি এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। ধারালো ছুরিটি শখ করে কুয়েত থেকে কিনে এনেছিলেন নিহত জেসমিনের স্বামী হাবিবুর রহমান। হত্যার পূর্বে মামুন কৌশলে তাঁরই ভাস্তে কিশোর রাব্বিকে দিয়ে শরবতের সঙ্গে জেসমিনকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। পরে মধ্যরাতে পাইপ বেয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে জেসমিনকে হত্যা করে মামুন।
তিনি আরও বলেন, হত্যার পূর্বে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে। হত্যার পর অভিযুক্ত মামুন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। রাতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। জিঙ্গাসাবাদে হত্যার দ্বায় স্বীকারও করেছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এ সপ্তাহেই কুয়েত থেকে বাড়ি ফিরে আসার কথা নিহত জেসমিন খাতুন আয়নার স্বামী কুয়েত প্রবাসী হাবিবুর রহমানের। যে কারণে জেসমিন মামুন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেয়। কয়েকদিন পূর্বে জেসমিন তাঁর ব্যবহৃত সিমটিও বদলে নতুন সিম কিনে ব্যবহার শুরু করেন। কিন্তু এত দিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি মামুন। এর জের ধরেই মামুন পরিকল্পিতভাবে খুন করে জেসমিন খাতুন আয়নাকে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের বড় ভাই আব্দুর রউফ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কাঁচের গ্লাস, মোবাইল ফোন, ট্যাব ও হত্যাকারীর বাড়ি থেকে রক্ত মাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, গতকাল রাতেই আমলি আদালত চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমে মামুন মণ্ডলকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামি রাব্বি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ায় তাঁকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল চুয়াডাঙ্গা আদালতের মধ্যেমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নতুন যাদবপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তার আয়নাকে দুর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যা করে নিজ ঘরে। বুধবার নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে দাফন সম্পর্ণ হয়। ঘটনার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মামুন মণ্ডলক ও রাব্বিকে যাদবপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে।
