ছবির ক্যাপশন:
এমডিকে সুলতান/মাহবুবুর রহমান মনি:
দামুড়হুদায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজার দর ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদও হয়েছে বেশি। কৃষকরা এবার কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই শুকানো আগের ভিজা পাট বিক্রি করছেন ফঁড়িয়াদের কাছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদায় এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বেশি। গত বছর ফলন হয়েছিল বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে পাটের ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি ৯-১০ মণ। গত বছর বাজারে নতুন পাট ওঠার সময় মণ প্রতি ১৭ শ থেকে ১৮ শ টাকা থাকলেও এবার পাট ওঠার সাথে সাথে বাজারে পাটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি ২৭ শ থেকে ২৮ শ টাকা দরে। বিঘা প্রতি পাট থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পাটখড়িও বিক্রি হচ্ছে পাটের সমপরিমাণ দামে। এতে করে এবার বিঘাপ্রতি লাভ হচ্ছে বিঘা প্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে উপজেলার আড়ৎগুলোতে পাটের তেমন আমদানি না হলেও স্থানীয় ফঁড়িয়ারা নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবাতে পানিতে দেওয়া জাগ থেকে পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো পরেই সেখান থেকে ভেজা পাট ওজন ছাড়ায় আনুমানিক তাঁদের হিসাব মতে গাইট হিসেবে কৃষকদের নিকট থেকে প্রকারভেদে ১ হাজার থেকে ১৩ শ টাকা করে গাইট কিনে নিচ্ছেন। যা আড়াই গাইট থেকে এক মণ পাট হয়ে থাকে। এই পাট তারা শুকিয়ে মজুদ করছেন। আবার অনেকে আড়তে এনে বিক্রি করছে।
উপজেলার সদরের দশমী পাড়ার মাহাবুব হোসেন বলেন, এবার তিনি এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছিলেন। জমি চাষ, বালাইনাশক, সারসহ আঁশ ছাড়ানো পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। শুকনা পাট হয়েছে প্রায় ৯ মণ। এখন বিক্রি করলে প্রায় ২৭ হাজার টাকার মতো বিক্রি হবে। এমন বাজার দর থাকলে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ হাজার টাকা লাভ হবে। এছাড়াও পাটখড়ি প্রায় ৫-৭ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। এক বিঘা জমির পাট ও পাটখড়ি থেকে প্রায় তাঁর ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা লাভ হবে।
একই উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কৃষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ ছিল, তাতে ১২ মণ পাট হয়েছে। আমি ২ হাজার ৮ শ টাকা করে বিক্রয় করেছি। ওই জমিতে আমার খরচ হয়েছে সাড়ে ১২-১৩ হাজার টাকা। পাটখড়ি বিক্রয় করেছি ৪ হাজার টাকা।’ একই কথা বললেন, জয়রামপুর গ্রামের জয়নাল হোসেন। দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করে ছিলেন। তাঁর দুই বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকার মতো। পাট হয়েছে ২২ মণ। বর্তমান বাজারে পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করলে সকল খরচ বাদ দিয়ে ৫২-৫৩ হাজার টাকা লাভ হবে। তবে তিনি এখন বিক্রি করবেন না। মাস খানের রাখলে আরও বাজার দামে বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।
দামুড়হুদা বাজারের আড়ৎদার ইউনুছ আলী জানান, নতুন পাট উঠে গেছে। তবে বাজারে তেমন আমদানি হয়নি। ফঁড়িয়ারা এবার পাট কাচার সাথে সাথে সেখান থেকে ভিজা পাট ওজন ছাড়ায় আনুমানিক হিসাবে ক্রয় করে নিজেরা শুকিয়ে বেশি দামের আশায় মজুদ করছে। ফলে বাজারে পাটের আমদানি কম। কিছুদিনের মধ্যে আমদানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কার্পাসডাঙ্গার পাট ব্যবসায়ী বশির আহম্মেদ জানান, নতুন পাট উঠেগেছে তেমন আমদানি হয়নি। কিছু পাট বেশি দামের আশায় মজুদ করেছি এখনো পর্যন্ত পাটের আমদানি কম থাকায় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, রেলে দোআঁশ মাটিতে পাট ভালো হয়। আমাদের এলাকার মাটি পাট চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় পাটের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজার দরও খুব ভালো হওয়ায় চাষিরা ভালো লাভবান হচ্ছে। আগামী মৌসুমে পাটের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করছেন।
