ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মরহুম আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিকের নমিনি তাঁর স্ত্রী হিমানী বেগমকে মরণোত্তর টাকা প্রদান না করে তার দুই কন্যাকে ওয়ারেশভুক্ত করে ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা প্রদান করায় সাবেক সভাপতি অ্যাড. মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সাবেক সম্পাদক অ্যাড. আবুল বাসারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বারে জমাদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যথায় ওই দুই নেতৃবৃন্দের জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে মূলতবী সাধারণ সভায় বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. আব্দুল খালেক এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মূলতবী সাধারণ সভা বারের সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেন সঞ্চালনা করেন। সভায় সাবেক সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ আত্মপক্ষ সর্মথনে বক্তব্য দেন। সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বারের সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
বারের সম্পাদক অ্যাড. তালিম হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য আবু বকর সিদ্দিক ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী নমিনি হিসেবে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বিগত ২০২০ সালের কমিটির সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সম্পাদক আবুল বাসার গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে মরণোত্তর দাবির টাকা নমিনিকে প্রদান না করে আবু বকর সিদ্দিকের ওয়ারেশভুক্ত দুই কন্যা সাহিনারা খাতুনের নামে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং সাহিদা খাতুনের নামে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী হিমানী বেগমের নামে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, তাঁর ছেলে আসাদুজ্জামান মিল্টনের নামে ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং অপর কন্যা রাশিদা খাতুনের নামে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রদান করার কথা থাকলেও তাঁরা টাকা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে মরহুমের স্ত্রী হিমানী বেগম নমিনির প্রাপ্ত মোট ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেন।
বর্তমান কমিটি টাকা উদ্ধারে বারের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকের কাছে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। সে কারণে গত ১৭ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে সাবেক সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সম্পাদক আবুল বাশার লিখিতভাবে জবাব দেন। কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনে যে জবাব দাখিল করেছেন, তা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত। গঠনতন্ত্রে স্থানীয় কল্যাণ তহবিলের উপ-বিধির ১৫ ধারায় ‘নমিনিকেই’ মরণোত্তর টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বিগত কমিটির সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সম্পাদক আবুল বাসার গঠনতন্ত্র মোতাবেক নমিনিকে প্রদান না করে ওয়ারেশদের মধ্যে টাকা বণ্টনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. আব্দুল খালেক বলেন, সাবেক সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সাবেক সম্পাদক আবুল বাসার মরহুম আবু বকর সিদ্দিকের দুই কন্যাকে দেওয়া ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বারে জমা দেবেন। অন্যথায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা জমা না দিলে সাবেক সভাপতি মোল্লা আব্দুর রশিদ ও সাবেক সম্পাদক আবুল বাসারের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। যেদিন টাকা জমা দেবেন, সেদিন তাঁরা সদস্য পদ ফিরে পাবেন।
