ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২২ হাজার ৩৬৬ জন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আগস্টের শুরুতে দেশজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ টিকা নিতে যেমন ভিড় দেখা গিয়েছিল। সেই একইরকম উৎসাহ দেখা গেছে দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহীতাদের। তেমন প্রচার না চালালেও গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে টিকা কেন্দ্রে মানুষের ভিড় ছিল। টিকাদানে গতি আনতে ৭ আগস্ট দেশজুড়ে ৬ দিনের গণটিকাদান কার্যক্রমে ৫০ লাখ ৭১ হাজার টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় ডোজ শুরু হলো মঙ্গলবার থেকে। দ্বিতীয় দফায় এই গণটিকাদান চলবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ টিকা যারা নিয়েছেন, তারা এই তিন দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকা নিতে পারবেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় কোভিড-১৯ গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত জেলার ৪৬টি টিকা কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে সকাল থেকে জেলার কেন্দ্রগুলোর বাইরে ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন। কোনো রকম ভোগান্তি না থাকলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে টিকা নিতে অপেক্ষা করতে হয়েছে টিকা গ্রহীতাদের।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল জেলার ৪৬টি টিকা কেন্দ্রে গণটিকাদান কার্যক্রমে দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ২২ হাজার ৩৬৬ জন। গণটিকা কার্যক্রমে দ্বিতীয় ডোজ নিতে বাদ আছে ৫টি টিকা কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯২১ জন। গত আগস্ট মাসের ৭ তারিখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৫৩টি কেন্দ্রে ১১৯টি বুথে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮ শ নারী-পুরুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়। আজ জেলার বাকি পাঁচটি টিকা কেন্দ্রে টিকা নিতে বাদ থাকা ৪ হাজার ৯২১ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করা হবে।
এদিকে, জেলায় চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় গতকাল অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে ৩ হাজার ২১৩ জন ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছে ১০৩ জন। এনিয়ে জেলায় অ্যাস্ট্রাজেনেকার মোট প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৯৬ হাজার ১৪৯ জন ও মোট দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৪ জাহার ৪০ জন। এছাড়াও জেলায় গতকাল পর্যন্ত সিনোফার্মার মোট প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬৩ জন ও মোট দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৬ হাজার ৪৯০ জন।
আলমডাঙ্গা:
সারা দেশের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গায় গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৮টি কেন্দ্রে ৪৮টি বুথে ৮ হাজার ৮২৫ জনকে এই টিকা দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে টিকাগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, টিকাগ্রহণ কার্যক্রমে সাধারণত ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী।
সকালে শহরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নূর, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাট সংলগ্ন কাঁচা বাজার টিনসেডে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান কাদির গনু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর প্যানেল মেয়র খন্দকার মজিবুল হক, কাউন্সিলর সদর উদ্দিন ভোলা, প্রেসক্লাবের সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম, সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, টিকাদানকারী আমিরুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান সোহাগ, মোছা. তানিয়া খাতুন ও রুসা খাতুন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রনি আলম নুর বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে গণটিকাদান কার্যক্রম চলছে। এখন মানুষ স্বেচ্ছায় টিকা গ্রহণ করছেন। এটি একটি পজিটিভ দিক। এই কর্মসূচির মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি করবে। ১৮ বছর বয়সী থেকে সব বয়সীদের টিকা প্রদান করা হবে। তবে ১৮ বছরের কম হলে টিকা নিতে পারবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বুথে রেজিস্ট্রেশন করার সময় ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্পট রেজিস্ট্রেশন করানোর পর টিকা দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং, ভোটার হলেও বয়স ১৮ বছরের কম হলে তিনি টিকা গ্রহণ করতে পারবেন না। এসময় তিনি টিকা গ্রহণের পর কেন্দ্রে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। টিকা গ্রহণের পরও বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরুত্ব মেনে চলতে পরামর্শ দেন।
জীবননগর:
জীবননগরে করোনাভাইরাসের গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দেশব্যাপী একযোগে টিকা দেওয়া শুরু হয়। দ্বিতীয় ডোজ নিতে সকাল থেকে টিকা কেন্দ্রেগুলোর বাইরে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। জীবননগর উপজেলায় ৭ই আগস্ট যারা প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তারা একই কেন্দ্রে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন।
এদিকে, সকালে টিকা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাকির হোসেন মোড়ল।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার সাবেক তিনটি ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছিলেন ২ হাজার ৩৮৯ জন এবং জীবননগর পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছিলেন ১ হাজার ৮ শ জন। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার বলেন, যারা গণটিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন, তারা সবাই দ্বিতীয় ডোজ পাবে। তা ছাড়া টিকা গ্রহণ করে এখন পর্যন্ত কারো কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়ায় গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৃথকভাবে সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম রাসেল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার শিমু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নারায়ণ ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মামুন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউপি মেম্বার বাহাউদ্দীন, শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের টুআইসি এএসআই ইন্দ্রজিৎ কুমার হালদার প্রমুখ।
সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে একটানা ইউনিয়নের সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে মোট ৩টি বুথে ৪৫ বছরের উর্ধে বয়সী ৫৭৭ জন নারী-পুরুষের মাঝে সিনোফার্মের করোনার টিকা (ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৩০০ জন নারী ও ২৭৭ জন পুরুষের মাঝে গণটিকার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।
