ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন ১১ ও মেহেরপুরে ৫ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২ হাজার ৭১০ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে করোনায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িঁয়েছে ২৬ হাজার ৬২৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭১০ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে ৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩ জন। গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে তবে করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৮ জনে। গতকাল নতুন আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৬ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ২ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ১ জন ও জীবননগর উপজেলার ২ জন রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১২৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে বাকী ১১৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিচনায় শনাক্তের হার ৮.৮৭ শতাংশ। গতকাল জেলায় করোনা থেকে নতুন আরও ২৩ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ২৯৭ জন।
গত এক সপ্তাহে জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯.২৪ শতাংশ। এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রত্যেকেই সুস্থ হয়েছে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৬ হাজার ৬৫৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৭ হাজার ৩৪১টি (পিসিআর ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন), পজিটিভ ৬ হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় বর্তমানে ২৬৮ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ২৫০ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৮ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮৮ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২ জন, গাংনী উপজেলার ২ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ১ জন রয়েছে। এসময় জেলায় করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গে কারও মৃত্যু হয়নি। গতকাল সোমবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ৯৯ টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৫টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫.০৫ শতাংশ। নতুন আক্রান্ত ৫ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২৪ জন, গাংনী উপজেলর ৩০ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৯ জন রয়েছে। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮২ জন, গাংনী উপজেলার ৫৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৯ জন রয়েছে।
সারাদেশ:
সারা দেশে করোনা পরিস্থিতির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৬২৮ জনে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৫৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২ হাজার ৭১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ১৭ হাজার ১৬৬ জনে।
এর আগে গত রোববার দেশে করোনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেই তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু কমলেও শনাক্তের হার বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ১২৪ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৭ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ৬৫ জনের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন ও মহিলা ৩৩ জন। যাদের মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন, বরিশাল বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন ও ময়মনসিংহে দুইজন মারা গেছেন।
