জামায়াতের সেক্রেটারিসহ শীর্ষ ১০ নেতা গ্রেপ্তার

আপলোড তারিখঃ 2021-09-07 ইং
জামায়াতের সেক্রেটারিসহ শীর্ষ ১০ নেতা গ্রেপ্তার ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন: জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় দলটির আরও ১০ জন নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আজাদ, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, ছাত্রশিবিরের সাবেক দুই কেন্দ্রীয় সভাপতি মোবারক হোসাইন ও ইয়াসিন আরাফাত। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের গুলশানের বিভাগের উপকমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। এমন খবর পেয়ে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করি। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এর আগে গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে, তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ ১০ জনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তাদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে জামায়াত জনগণের পাশে থেকে সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জামায়াতের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠক থেকে সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতের সাতজন কেন্দ্রীয় নেতাসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ ও মোবারক হোসাইন এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে। সরকার দীর্ঘ এক যুগ ধরে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কেঁড়ে নিয়েছে। কোনো দলকেই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছে না। সরকারের সবচাইতে জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেককে গুম করা হয়েছে ও পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। শত জুলুম বুকে ধারণ করে জামায়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের ১৮ মাসে জামায়াত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার অধিকার আছে। এটা দেশের জনগণের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার এখতিয়ার কারো নেই। গায়ের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে জনগণের ন্যায় সংগত অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনকে দমন করা যায়নি। এখনো যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমি সকল ষড়যন্ত্র ও জুলুম বন্ধ করে গ্রেফতারকৃত সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আজাদসহ গ্রেফতারকৃত ১০ জনকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। লেবার পার্টির নিন্দা: ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদসহ ১০ জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছে লেবার পার্টি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক আমানুল্লাহ মহব্বত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার শান্তিপূর্ন কর্মসূচী থেকে জামায়াতের শীর্ষনেতাদের গ্রেফতারের ঘটনা বিরোধীদল ও মতের শক্তিকে নির্মুলের অংশ মাত্র। দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও গণবিরোধী সরকার জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে বিএনপি-জামায়াতের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা ক্রমশঃ বাড়িয়ে দিয়েছে। লেবার পার্টি অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ কর্মসুচী থেকে গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবদুর রব, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত-সহ ১০ নেতা-কর্মীকে মুক্তি দেয়ার আহবান জানান।-বিজ্ঞপ্তি

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)