ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০থেকে ৫০টাকা করে সমিতিতে জমা দিয়ে অন্যের ঘাড় ভেঙ্গে বছর শেষে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা জমাচ্ছে লাখ লাখ কালো টাকা। এই ফাঁদে পড়ে ধংস হচ্ছে গরিব অসহায় মানুষের স্বপ্নের সংসার, হারাম হচ্ছে তাদের রাতের আরামের ঘুম। না আছে লাইসেন্স, না এরা কোনো এনজিও সংস্থা। তবুও এরা পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে সমিতির নামে অবৈধ সুদের ব্যবসা। বলা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহের খাড়াগোদা বাজারের অবৈধ রমরমা সুদের ব্যবসার কথা। শুধু তাই নয় চুয়াডাঙ্গার খাড়াগোদাসহ পার্শ্ববর্তী বাজারগুলোতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে সমবায় সমিতির নামে সুদের ব্যবসা। খাড়াগোদা বাজারে প্রকাশ্যে তিনটি সমিতির কার্যক্রম চলছে। তারমধ্যে মেঘলা সমবায় সমিতি ও শাপলা সঞ্চয় সমিতির প্রভাবটা একটু বেশি। ১০০-১২০জন সদস্য মিলে তৈরি হয়েছে এক একটা সমিতি টিম। দৈনিক ২০থেকে ৫০টাকা করে জমা দিতে হয় এসব সমিতির সদস্যদের। তাদের এই জমাকৃত টাকা একত্রিত করে উপকারের নামে দিচ্ছে কোন এক অভাবগ্রস্থ মানুষকে। ঋনগ্রহীতাকে এক বছরে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে পরিশোধ করে সম্বলহীন হতে হচ্ছে তাকে। এ সকল সমিতির খপ্পরে পড়ে ইতোমধ্যে অনেকে পথে বসতে শুরু করেছে। সমিতির পাশাপাশি সুদ কারবারী, ব্যাংক চেক কারবারী, দাদন ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারন মানুষকে অর্থাভাবে সমিতি ও ব্যাক্তিগতভাবে সুদে ঋন নিতে ব্যাংক চেক বা সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিতে হয়। কেউ সুদ কারবারীর চাহিদা মতো অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে হয়রানীর শিকার হয়ে অল্পদরে বাড়ীর গৃহপালিত পশু, এমনকি নিজের বাপ-দাদার ভিটে মাটি বিক্রি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদসহ দাবিকৃত মূল টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। ঋন পরিশোধে দেরি হলে দেখা যায় ঋনগ্রহীতার বাড়িতে অত্যাচারসহ বিভিন্ন বাকবিত-ার দৃশ্য। অনেকে আবার সুদাসল পরিশোধ না করতে পেরে রাতের আঁধার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সকল সুদ কারবারীরা এতোই শক্তিশালী যে তাদের অবৈধ ব্যবসার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। বাংলা নববর্ষের পর থেকে শুরু হয়েছে সুদ ব্যবসায়ীদের সমিতির হালখাতার চিঠি পাঠানোর কাজ। কয়েকদিনে মধ্যে দেখামিলবে সুদে ঋন নেয়া মানুষের ওপর নানা অত্যাচারসহ বাড়ি ছাড়ার দৃশ্য। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
