ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের মুজিবনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে দলীয় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ
মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন বললেন, দলের সভাপতিকে বাদ দিয়ে কীভাবে কর্মী সমাবেশ হয়?
মুজিবনগর অফিস:
মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে বাদ দিয়ে কর্মী সমাবেশ করায় মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুর অপসারণ দাবি করে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার দুপুরে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কাযার্লয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস, সহসভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা, মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান নান্নু, মোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাত আলী ও বাগোয়ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছি। আমি ২২ বছর মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০২ সাল থেকে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত হয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। মুজিনগরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি আমার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে এবং হয়। কিন্তু গত ২৯ আগস্ট রোববার মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করে কর্মী সমাবেশ করা হয়েছে। যে কর্মী সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয়ভাবে আমাকে অবহিত করা হয়নি। দলের সভাপতিকে বাদ দিয়ে কীভাবে কর্মী সমাবেশ হয়, তা আমার বোধগম্য নয়। এটি একটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। যেটা জলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুরা করেছেন।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন এমপি মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুসহ গুটিকতক নেতা-কর্মী নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। তাঁরা দলকে কোন্দলের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হিসেবে বলতে পারি, প্রায় তিন বছর কোনো মিটিং হয়েছে কি না, জানি না। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া এ কোন্দল মেটানো সম্ভব নয়।’
মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবন্দ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে ফরহাদ হোসেন ও মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু অপসারণ দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলন উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা যুবলীগ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও চার ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
