ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে নতুন করে ৩৮ জনের কোভিড পজিটিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে ৪ হাজার ৬৯৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ও সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৩১৪ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। একইসময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ জনের শরীরে। অন্যদিকে, গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২৯ জন। এছাড়া গতকাল মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৩১ জনে। এসময় জেলায় করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কোনো মৃত্যু হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৬ জনের।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১২৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ৯টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১১৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৭.২৫ শতাংশ। নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২ জন ও জীবননগর উপজেলার ১ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে আরও ৩১ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৮৮২ জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, এই ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৯ জনের শরীরে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৭.২৫ শতাংশ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৮৬ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ২০ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৮৫ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৬ হাজার ৫১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৬ হাজার ২৩৮টি (পিসিআর ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন), পজিটিভ ৬ হাজার ৬৩১ জন। জেলায় বর্তমানে ৫৪৩ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এরমধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ৫১৯ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ২৪ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৬ জনের। এরমধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ২৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্ত ২৯ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন, গাংনীতে ৪ জন ও মুজিবনগরে ৪ জন রয়েছে। এসময় জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে ও করোনা উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ১৩৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ২৯টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১.০১ শতাংশ। নতুন আক্রান্ত ২৯ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৫৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৬০ জন, গাংনীর ৬৭ জন এবং মুজিবনগরে ২৮ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৭ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮২ জন, গাংনী উপজেলার ৫৬ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৯ জন রয়েছে।
সারা দেশ:
দেশে দিন দিন করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৫ হাজার ৭২৯ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ১৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৪ হাজার ৬৯৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এনিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ লাখ ৮২ হাজার ৬২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩১৪ জন। এনিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮৫ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১০২ জনের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ২৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১০ জন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দুইজন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৫২ জন ও মহিলা ৫০ জন। যাদের মধ্যে বাসায় একজন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ জন, সিলেট বিভাগে ১৩ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫ জন মারা গেছেন।
