ছবির ক্যাপশন:
মিঠুন মাহমুদ, জীবননগর:
কবে নাগাদ খুলবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবে যাবে শিক্ষার্থীরা স্কুলে, জানে না অভিভাবকসহ কোমলমতি শিশুরা। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যার জন্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর অনেক শিক্ষার্থী ভুলেই গিয়েছে লেখাপড়ার কথা। পরিবারের অভাব-অনাটন আর দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাজ। কেউ চালাচ্ছে ভ্যান, কেউ করছে কাঠমিস্ত্রির সহকারীর কাজ, কেউ করছে লেদের কাজ আবার কেউ বা করছে রড ও রাজমিস্ত্রির কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জীবননগর পৌর শহরের নারায়নপুর মোড়ে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রায়হান সাইকেল মেকানিকের কাজ শিখছে। সকাল সাড়ে ৬ টার বাড়ি থেকে আসে এবং রাত সাড়ে ৮টায় কাজ শেষ করে বাড়িতে যায়। সংসারে অভাব থাকায় মাসিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকার বেতনে এ কাজ বেছে নিয়েছে রায়হান।
স্কুলছাত্র রায়হান বলে, আমি পিচমোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতাম। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় আমার বাবা আমাকে একটি সাইকেল মেকানিকের দোকানে কাজ শেখার জন্য দিয়েছেন। সেখানে আমাকে দুই বার খেতে দেয় এবং মাসে দুই হাজার টাকা বেতন দেয়। আমার স্কুলে যেতে মন চাই, আমি আবার স্কুলে যেয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি বন্ধুদের সাথে খেলা করতে চাই। একইকথা স্কুল শিক্ষার্থী সোহান, শাওন, মেহেদীসহ অনেকের।
রায়হানের বাবা সোনা মিয়া জানান, অনেক দিন ধরে স্কুল বন্ধ রয়েছে, কবে খুলবে কেউ জানে না। এ জন্য তাকে একটি সাইকেল সার্ভিসিং-এর দোকানে হাতের কাজ সেখানোর জন্য রেখে দিয়েছি।
জেবিএফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম উজ্বল বলেন, আমরা যারা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাজ করি। আমরা জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে থাকি যাতে করে কোনো শিশু যেন লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে না পড়ে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার প্রতি বছর উপবৃত্তির টাকা প্রদান করে থাকে। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে জীবননগর উপজেলায় ব্যাপকহারে শিশুশ্রম বেড়ে গেছে। এখন সময় আমাদের সকলকে সচেতন হওয়া এবং শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কারণ ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’।
জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাহিদ বাবু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দিন দিন শিশুশ্রমও বাড়ছে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু বলেন, একটা শিশু যখন কোনো কাজের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যায় তখন তার শারীরিক ও মানষিক সমস্যা দেখা দেয়। স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় সে অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই শিশুশ্রম বন্ধ করে শিশুদের প্রতি আমাদের সকলের যত্নবান হওয়া উচিত।
