ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের একটি সড়কে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে
সমীকরণ প্রতিবেদন:
মেহেরপুর বড়বাজার প্রধান সড়কে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ভবন নির্মাণের কাজ। এছাড়াও নেওয়া হয়নি পৌরসভা থেকে নকশার অনুমোদন। অভিযোগ রয়েছে আদালত, প্রশাসন ও পৌরসভার নির্দেশনাকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ মদদে ও লোকবল দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে গতকাল বুধবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইমরান হেলালী প্রিন্স নামের এক বিচারপ্রার্থী।
ইমরান হেলালী প্রিন্স লিখিত অভিযোগে বলেন, মেহেরপুর বড় বাজার প্রধান সড়কে অবস্থিত আমাদের স্বত্ব দখলীয় জমির মধ্যে থেকে এসএ ১৭৯১ নং দাগের এক শতক জমি আমার দাদা মৃত রফিকুল ইসলাম বাবলুর নিকট বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে বাবলু রেকর্ড অফিসের কর্মচারীগণের সাথে যোগসাজসে এক শতক জমির স্থলে এক শতক ৪৪ পয়েন্ট জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দখলের উদ্দেশ্যে আমার পয়েন্ট ৪৪ শতক জমির পিছনে আমার অন্য শরীকের নিকট হতে বাবলু আরো এক শতক জমি ক্রয় করেন। সেখানে আমার ৪৪ শতক জমি দখল করার উদ্দেশ্যে সেখানে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এবিষয়ে আমি আদালতে মামলা করলে বিচারক ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে পেশিশক্তি ব্যবহার করে আবারো নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমি আমার শরীকগণকে নিয়ে তাদের অবৈধ কাজে বাধা দিতে গেলে তারা আমার উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাই। এরপর থেকে মাসকুরা বেগম ও তাদের লোকজন আমার পরিবারের সদস্যদের নানা প্রকার হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসকুরা বেগমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা মিথ্যা। মেহেরপুর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান দিপু বলেন, জমির নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, সেহিসাবে আমাদের কিছু করণীয় নেই। দুজনই আমাদের সমিতির সদস্য। সে হিসাবে আদালতে নিষ্পত্তি হলেই ভবন নির্মাণ করা উচিত।
এবিষয়ে মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, পৌরসভা থেকে মৌখিক ও লিখিতভাবে বললেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। তারা রাতের আধারে বা বন্ধের দিন সুযোগ বুঝে চুরি করে অল্প অল্প করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভবনের নকশা অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে পৌরসভা থেকে তাদের কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যেহেতু জমিতে মামলা চলছে তাই মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পৌরসভা ওই জমিতে নকশার অনুমোদন দিতে পারে না। নকশা অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
