আলমডাঙ্গায় পুলিশের সোর্স খুন!

আপলোড তারিখঃ 2021-08-20 ইং
আলমডাঙ্গায় পুলিশের সোর্স খুন! ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: আলমডাঙ্গার হাকীমপুরে মনিরুল ইসলাম (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত মনিরুলের পরিবারের সদস্যদের দাবি, মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল রাতেই সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) জাহাঙ্গীর আলম। নিহত মনিরুল ইসলাম আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত আসের আলীর ছেলে। সে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো বলেও অনেকে জানিয়েছেন। জানা যায়, গতকাল রাত ১০টার দিকে নিজ ঘরে স্ত্রী নাছিমা বেগম ও দুই ছেলে নাজিম (১৪) এবং সাজিদের (১০) সঙ্গে বসে টিভি দেখছিলেন মনিরুল ইসলাম। এসময় কেউ একজন তাঁকে মোবাইল ফোনে ডাকলে আসছি বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে রাত ১১টার দিকে মমিরুলের বড় ছেলে নাজিম বাড়ির বাইরে শব্দ ও মনিরুলের চিৎকার শুনে ছুটে গেলে টিউবওয়েলের পাশে তাঁর বাবাকে পড়ে থাকতে দেখে। এসময় সে বাড়ির অদূরের মণ্টুর চায়ের দোকান থেকে তার ছোট চাচা ছমিরুলকে ডেকে আনে। পরে পরিবারের সদস্যরা মনিরুলকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। নিহত মনিরুলের ছোট ভাই ছমিরুল বলেন, ‘আমি বাড়ির পাশের মণ্টুর দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এসময় নাজিম আমাকে ডেকে বলে তার বাবা টিউবওয়েলের পাশে পড়ে আছে, কয়েকজন তাঁকে মেরে কলের পাড়ে ফেলে রেখে গেছে। এসময় আমি স্থানীয় মেম্বারকে খবর দিই ও মেম্বারের সঙ্গে ভাই মনিরুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’ নিহত মনিরুলের বড় ছেলে নাজিম বলে, ‘আব্বা বাইরে যাওয়ার পরে একসময় গুলি করার মতো শব্দ শুনে বাইরে বের হলে আমার বাবার চিৎকার শুনতে পাই। আমার আব্বা বলছিল, আমাকে মেরে ফেলল, আমাকে বাঁচাও। আমি এগিয়ে গেলে দেখি কলপাড়ে (টিউবওয়েল) আব্বা পড়ে আছে। এসময় ছোট কাকাকে ডেকে নিয়ে আসি।’ মনিরুলের স্ত্রী নাছিমা অভিযোগ করে বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে আমার স্বামীর মোবাইলে কল আসে। আমার ম্বামী মোবাইলে আসছি বলে বাইরে চলে যায়। ওকে ডেকে নিয়ে ওরা মেরে ফেলেছে। আমার স্বামী পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করায় গ্রামের কয়েকজন এর আগে ওকে পিটিয়ে মারধরও করেছে। ১০ দিন পূর্বেও আনোয়ার কসাইয়ের ছেলে মিজান আমার স্বামীকে খুন করবে বলে হুমকিও দিয়েছিল। ওদের নেশা করার কথা পুলিশে বলে দেওয়ার কারণেই আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে ওরা খুন করেছে।’ ``এবিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আশরাফ আলী বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মনিরুলের ছোট ভাই ছমিরুল আমার মোবাইলে ফোন করে জানায় তাঁর ভাইকে কারা মেরে ফেলে রেখে গেছে, হাসপাতালে নিতে হবে তাড়াতাড়ি আসেন। আমি খাবার ফেলে দ্রুত মনিরুলের বাড়িতে যেয়ে দেখি মনিরুলকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে ফেলেছে। অচেতন অবস্থায় মনিরুলকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পূর্বেও মনিরুলকে গ্রামের কয়েকজন মারধর করেছে। পুলিশকে বিভিন্ন তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে মনিরুলের সঙ্গে অনেকের বিরোধ ছিল। মনিরুল আগে পুলিশের সোর্স হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো। এছাড়া তেমন কোনো কাজ মনিরুল এখন করে না।’ আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘খাসকররা ইউনিয়নের হাকিমপুরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। অনেকেই বলছেন, তিনি আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সোর্স ছিল, এটা সত্য নয়। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এমন কোনো সোর্স নেই। তবে আমি এখানে আসার পূর্বে নিহত মনিরুল পুলিশকে মাঝে মধ্যে তথ্য দিতো বলে শুনেছি।’ চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আলমডাঙ্গা থানার খাসকররা ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের নিজ বাড়ির অদূরের পুকুর পাড়ে মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া গেছে। নিহত মনিরুলের বাম হাতে একটি ছোট জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তা পূর্বের কোনো আঘাত বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া তাঁর শরীরে মৃত্যু হয়, এমন কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে গলাই গামছা পেঁচিয়ে বা শ্বাসরোধ করে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আহসানুল বলেন, ‘অচেতন অবস্থায় মনিরুলকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আমরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করি। তাঁর বাম হাতের কনুই ও মাথায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই জখম পূর্বে হয়ে থাকতে পারে। লাশের ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)