সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম : কানা রাজু আটক

আপলোড তারিখঃ 2021-08-17 ইং
সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম : কানা রাজু আটক ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের ওপর ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দু-দফায় সশস্ত্র হামলা : সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা আ.লীগ নেতা টোটন জোয়ার্দ্দার, প্রেসক্লাব সভাপতি সরদার আল আমিনসহ বিভিন্নমহলের নিন্দা ও প্রতিবাদ নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত সোয়া আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমারজেন্সি সড়কে অবস্থিত আব্দুল্লাহ সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে প্রথম দফা ও চুয়াডাঙ্গা সদর হসাপতালের জরুরি বিভাগে দ্বিতীয় দফা এ হামলার ঘটনা ঘটে। আব্দুল্লাহ সিটি কমপ্লেক্সের সামনে প্রথম দফায় গুরুত্বর জখম হয়ে সাংবাদিক ডালিম সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যান। পরে সেখানে রাত সাড়ে আটটার দিকে আবারও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হয়ে শক্ত অবস্থান নিলে কঠোর পুলিশি প্রহরায় জরুরি বিভাগে সাংবাদিক ডালিমের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। পরে সেখান থেকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রাজু আহমেদ ওরফে কানা রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় কানা রাজুর সহযোগীরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আটক রাজু আহমেদ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা শহরের ইমারজেন্সি সড়কের বাসিন্দা। গুরুতর জখম সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যান্ডবিপাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের নতুন সমেয়র চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ লুৎফুল কবির, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান এবং সাংবাদিক ডালিমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রিপনুল হাসান রিপন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাংবাদিক ডালিমের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। জানা যায়, সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে মোটরসাইকেলযোগে ইমারজেন্সি সড়ক হয়ে সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ে আসছিলেন। এসময় মোবাইলে কল আসলে পথিমধ্যে ইমারজেন্সি সড়কের আব্দুল্লাহ সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছে একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে কথা শেষ করেন তিনি। তখন একটি মোটরসাইকলযোগে সাতভাই পুকুরের গলির দিকে ঢুকছিলো ছাত্রলীগ নেতা রাজুসহ তার সহযোগীরা। এসময় কথা শেষে সাংবাদিক ডালিম তিনিও মোটরসাইকেল স্টার্ট করে পত্রিকা অফিসে আসার জন্য যাত্রা শুরু করে। এমন সময় সামনে চলমান ছাত্রলীগ নেতা রাজুর মোটরসাইকেলটি হঠাৎ ব্রেক কষে। তখন সাংবাদিক ডালিমের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা রাজুর মোটরসাইকেলের আচমকা ধাক্কা লাগে। আর এতেই ক্ষেপে যান ছাত্রলীগ নেতা রাজু আহমেদ ওরফে কানা রাজু। তৎক্ষণাৎ কানা রাজু ও সহযোগী মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল থেকে নেমে এসে সাংবাদিক ডালিমের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে মারধর শুরু করে। এরই একপর্যায়ে সেখানে রাজুর আরও কয়েকজন সহযোগী উপস্থিত হয়ে ধারালো অস্ত্রদিয়ে সাংবাদিক ডালিমকে এলোপাতাড়িভাবে উপর্যপরি কোপাতে থাকে। এসময় সাংবাদিক ডালিম নিজের হেলমটে দিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করে বলে, ভাই আমাকে মাইরেন না আমি সাংবাদিক। এ কথা শুনে রাজু ও তার সহযোগীরা আরও ক্ষীপ্ত হয়ে বলতে থাকে আমাদের নামে নিউজ হবে, তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি। এসময় সাংবাদিক ডালিম প্রাণভয়ে মোটরসাইকেল ফেলে গুরুতর জখম অবস্থায় ইমারজেন্সি রোডে ধরে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে একটি ইজিবাইক পেয়ে তা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন। এরমধ্যে পিছন পিছন ধাওয়া করতে করতে আসা ছাত্রলীগ নেতা কানা রাজু ও তার সহযোগীরা জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে এবং সেখানে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ডালিমের ওপর আবার হামলা চালায়। তখন সেখানে সাংবাদিক ডালিমকে বাঁচাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক, হাসপাতালের ডিউটিরত পুলিশ, জরুরি বিভাগের সেচ্ছাসেবক, চিকিৎসা নিতে আসা অন্য রোগী ও তাদের স্বজনেরাসহ কেউই ডালিমকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। এসময় ডালিম সেখান থেকেও শরীরে অসংখ্য জখম নিয়ে প্রাণভয়ে দৌঁড়ে পালালেও কানা রাজু বাহিনী তার পিছ পিছ ধাওয়া করতে থাকে ও সাংবাদিক ডালিমকে পুরো হাসপাতাল চত্বর দৌড়ে দৌড়ে কোপাতে থাকে। যেটা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে কিছুটা দেখা গেছে। এরই একপর্যায়ে সদর হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত হয়ে মাথাভাঙ্গার স্টাফ রিপোর্টার শামসুজ্জোহা রানা, ডিবিসির টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিসান আহমেদ, দীপ্ত টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সেলিমসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ডালিম উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেয়। এরপরেও জরুরি বিভাগে উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা কানা রাজু ও অয়ন জোয়ার্দ্দারসহ তাদের সহযোগীরা প্রবেশ করে চেল্লাচিল্লিসহ আক্রমাত্মক আচরণ করতে থাকে। এরমধ্যে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি ফাইজার চৌধুরী, সময়ের সমীকরণের বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক, সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাহফুজ মামুন, দৈনিক পশ্চিমাঞ্চল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আহসান আলম, ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি আফজালুল হকসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। তখন সাংবাদিক ফাইজার চৌধুরীর নেতৃত্বে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা শক্ত অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এসময় ঘটনাস্থলে সদর থানার ওসি আবু জিহাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টীম উপস্থিত হয়ে রাজু আহমেদ ওরফে কানা রাজুকে আটক করলেও সেখান থেকে কৌশলে সটকে পড়ে কানা রাজুর সহযোগীরা। পরে কড়া পুলিশি প্রহরায় সাংবাদিক ডালিমের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাংবাদিক ডালিমকে সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ``জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম বলেন, ‘আমি ইমারজেন্সি সড়ক হয়ে সময়ের সমীকরণ পত্রিকা অফিসে যাচ্ছিলাম। ইমারজেন্সি সড়কের আব্দুল্লাহ সিটির সামনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মোবাইল ফোনে কথা শেষ করে যাওয়ার সময় সামনে থেকে অন্য একটি মোটরসাইকেলযোগে দুজন সাতভাই পুকুরের গলিতে ঢুকছিল। এসময় হঠাৎ করে ওরা ব্রেক করলে ওদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে আমার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এসময় মোটরসাইকেলের পেছন ছিটে বসে থাকা কানা রাজু নেমে এসে আমার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। তখন আমি তাদেরকে বলি আপনারা মোটরসাইকেল হঠাৎ ব্রেক না করলে এ ঘটনা ঘটতো না, রাস্তায় চলাচল করতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটবেই। তখন তারা আমাকে গালিগালাজ করতে থাকে। তখন আরও কয়েকজন সেখানে চলে এসে আমাকে গালিগালাজ করতে শুরু করে। এসময় আমি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা গালিগালাজ করতে থাকে, আর বলে নিউজ করিস, তোর সাংবাদিকতা ছুটাচ্ছি বলেই একজন পিছন থেকে আমার পিঠে ছুরি দিয়ে লম্বালম্বি পোঁচ দেয়। এসময় আমার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে আমি তাঁদেরেকে প্রতিহত করে দৌঁড়ে একটি চলন্ত ইজিবাইকে চড়ে দ্রুত সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আসি। জরুরি বিভাগে ঢুকে গেঞ্জিখুলে বেডের ওপর উপর হয়ে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করলে সেখানেও আমার পিছ পিছ ধাওয়া করে আসা কয়েকজন এসে আমার ওপর হামলা করে, আমি পালাতে গেলে তারা আমাকে এলোপাতারি ধারালো অস্ত্রদিয়ে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে আমি দৌঁড়ে হাসপাতাল চত্বরে চলে যায়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাকিল আরসালান ও হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানূল হক তন্ময় বলেন, ‘সাংবাদিক ডালিমের পিঠ, হাত, পেট ও বুকসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সবগুলো আঘাতকেই মেডিকেল ভাষায় সিভিআর (মারাক্তক) ইনজুরি বলে। তাঁর শরীরে দুইশতাধিক সেলায় দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। অবস্থা অবনতি হলে যে কোনো সময় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হতে পারে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর যে হামলা হয়েছে এটা ন্যাক্কারজনক। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও মানুষ নিরাপদ নয়। হামলাকারীরা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধন সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘একজন সাংবাদিকে এমন নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আন্দলোনে যাব। যতক্ষণ না দোষীরা আইনের আওতায় আসছে আমরা থেমে থাকবো না।’ চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আলামিন বলেন, ‘হত্যার উদ্দেশেই এই হামলা করা হয়েছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও কুপিয়ে জখম করা আসলেই ন্যাক্কারজনক। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’ এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ডালিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ঘাতকদের মূলহোতাকে ছাত্রলীগের সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক রাজুকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকটি নাম পাওয়া গেছে। ঘাতক সকলকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যহত রেখেছে। এ ঘটনায় আহত ডালিমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ এদিকে, সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের ওপর হামলার খবর শুনে মুঠোফোনে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। এসময় এসপি জাহিদ বলেন, ‘অপরাধীরা যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ডালিম সুস্থ হওয়া পর্যন্ত, তাঁর নিরাপত্তায় পুলিশ প্রহরা নিশ্চিত করা হবে।’ অন্যদিকে, সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের ওপর হামলার খবর পেয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফবিসিসিআই-এর পরিচালক, বাংলাদেশ জুয়েলারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও তারা দেবী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি তাঁর প্রতিবাদলিপিতে জানিয়েছেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। সেই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা সত্যিই ন্যাক্কারজনক। তিনি অতিদ্রুত হামলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান। এছাড়া সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গায় হত্যার উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনার পর তদন্তের স্বার্থে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে গুরুত্বপূর্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ১৫০ বেডের নতুন ভবনের কিছু সিসিটিভি নষ্ট থাকায় পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ফাতেহ আকরাম জানান, হাসপাতালের বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, খুব শীঘ্রই এগুলো ঠিক করা হবে। আর সাংবাদিকের ওপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক জানিয়ে আরএমও ডা. ফাতেহ আকরাম বলেন, আমি এ ঘটনায় নিন্দা জ্ঞাপন করছি ও সদর হাসপাতালসহ এ হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানাবো। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় কর্মরত সকল সংবাদকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক সরদার আল আমিন ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। আজ ১১টার পরে জেলার সব সংবাদকর্মীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু হতে পারে বলেও জানান চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)