ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সারা দেশে স্মরণ করা হয়েছে ১৫ই আগস্টের কালরাত্রে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রোববার দিনব্যাপী চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকা, পাড়া-মহল্লায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চুয়াডাঙ্গায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাতটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার ম্যূরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় অনলাইনে জুম অ্যাপে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কীর্তির ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে জুম অ্যাপে যুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাঁকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা করে। এই হত্যার মধ্যদিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামাকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি, আর কখনো হবেও না। তিনি আরও বলেন, তাঁর আত্মত্যাগের মহিমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত করে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘শোষক ও শোষিতের সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির শৃঙ্খল থেকে তিনি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে মুক্ত করতে চেয়েছেন, চেয়েছেন দেশকে স্বাধীন করতে। এ মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কিশোর বয়স থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন প্রতিবাদ, সর্বদা বলেছেন সত্য ও ন্যায়ের কথা এবং হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এ নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি কেবল বাংলাদেশই নয়, শোষিত-নির্যাতিত বিশ্বমানব সমাজেও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সেটিই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।’
আলোচনা সভায় জুম অ্যাপে যুক্ত থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আবেদীন খোকন, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগের কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম অ্যাপ ব্যবহার করে সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার।
শোক সভায় চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুসরাত জেরীন, বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. লুৎফর রহমান শিশির, বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মো. কামাল হোসেন শিকদার, বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী, বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ মো. ছানাউল্ল্যাহ, বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শামসুজ্জামান, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাস, বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলাম, বিজ্ঞ সহকারী জজ মোছা. নাজনীন আক্তার, মো. আরমান হোসেন, নীলা খাতুন, মো. ইব্রাহিম খলিল, বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বেলাল হোসেন, বিজ্ঞ সরকারি কৌশুলী মো. আশরাফুল ইসলাম খোকন, জেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মো. তালিম হোসেন, জেলা জজ আদালত চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ, নাজির মো. মাসুদুজ্জামান, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুন মজিদ, নাজির মো. ওসমান গনিসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
বিচার বিভাগ বঙ্গবন্ধু হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জাতির কলঙ্কমোচন করেছে মর্মে শোক সভার সভাপতি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। আলোচকবৃন্দ তাঁদের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনে বিচার বিভাগ তার যথাযথ ভূমিকা পালন করবে মর্মে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া নাগ।
আলোচনা সভা শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিহত সদস্যদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগ কর্তৃক ‘শারমিন হক হাফেজিয়া ও কওমী মাদ্রাসা, বাগান পাড়া, চুয়াডাঙ্গা’ এর এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের কর্মসূচি:
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নানা কর্মসূচির পালন করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণপূর্বক নীরবতা পালন, ১৫ই আগস্ট ঘাতকের হাতে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ছয়টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, অর্ধনমিত করা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৬টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং বাদ আসর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহামেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, অ্যাড. শামসুজ্জোহা, হাবিবুর রহমান লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক অ্যাড তালিম হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন আহমেদ চন্দন, কার্যনির্বাহী সদস্য পিপি অ্যাড. বেলাল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম জহুরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, আব্দুর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস রাসেদুজ্জামান বাকি, যুবলীগ নেতা টুটুল, জাতীয় শ্রমিক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মো. আফজালুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডল, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার সভাপতি নাবিলা রুকসানা ছন্দা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাদী মিলি, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, রীনা খাতুন, যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক আফরোজা পারভীন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গরীব রুহানী মাসুম, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সহসভাপতি শাহাবুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা অয়ন হাসান জোয়ার্দ্দার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল মল্লিক, রেফায়েত হোসেন রাজিব, সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগান, পৌর ছাত্রলীগ নেতা তানভির আহম্মেদ সোহেল, ইমদাদুল হক আকাশ, মুন্না, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব স্বাধীন, মিঠুন, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান আহম্মেদ রানা, প্রান্ত, টোকন, মোমিন, জান্নাত, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বর্তমান সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, সহ সভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসি হাসান রাজিব, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল হাসান বারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক আল নোমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রামিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল করিম, গবেষনা সম্পাদক মিলন, সুমন, ইমন, রাতুল, আফরিজ, আলম, ফিরোজ, মিরাজ, নাইম, আগুন, পরশ, সারাফাত, রামিম, ইভন, দিপু সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের কর্মসূচি:
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার জেলা যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ছয়টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা, শোক ও যুবলীগের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শেখ মনির ছবিতে মাল্যদান করা হয়। সকাল সাতটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতার ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আলমডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ, জেহালায় আলোচনা ও শুকনো খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কুতুবপুর ইউনিয়নে দোয়া ও খাবার বিতরণ করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লু, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য শাজ্জাদুল ইসলাম লাভলু, আলমগীর আজম খোকা, পদ্মবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি বিপ্লব হোসেন, যুবলীগ নেতা পিরু মিয়া, শেখ শাহী, মাসুদুর রহমান মাসুম, শেখ দরুদ হাসান, হাসানুর ইসলাম পলেন, আল-ইমরান শুভ, রামিম হাসান সৈকত, সামিউল শেখ সুইট, শেখ রাসেল, দিপু বিশ্বাস, জামাল খান, জাকির, লোকমান, জুয়েল, আলমগীর, নোমান, আসাদ, বক্কর, আশা, রুবেল, আলীহিম, সুমন, সুজন, বাচ্চু, শ্রমিক লীগ নেতা আশা, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার, কবির, শাকিব, মাফুজ, হাসিব, ইমরান, কাফী প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মসূচি:
যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পৃথক আয়োজনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয়, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা অর্ধনমিতকরণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ প্রমুখ। পরে বিকাল চারটায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ।
সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আসুন, আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তাঁর ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ১৯৭৫ সালের এদিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূসহ নিকট আত্মীয়গণ শাহাদাত বরণ করেন। আমি শোকাহত চিত্তে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি ও সদর থানা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন দুদু।
এসময় আরও বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুয়েল রানা, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন মিলন প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মাফিজুর রহমান মাফি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবুল হোসেন মিলন, আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ ফরিদ আহমেদ, ইমরান আহমেদ বিপ্লব, রাশেদুল আসলাম পাপেল, জেলা কৃষকলীগ সদস্য আব্দুল হালিম ভুলন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক সজল, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, যুবলীগ সদস্য আনসার উল্লাহ, ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ওয়াশিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম টোকন প্রমুখ।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিনব্যাপী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের প্রতি। দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের বনলতা ভবনে জাতীয় পতাকা, শোকের কালো ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশ বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী বলেন, শুধু বাংলাদেশ ভূখন্ডে নয়, দুনিয়াজুড়ে বিবেকবান মানুষের কাছে ভয়ংকর বিষাদের এক দিন ১৫ আগস্ট। জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, সেটাও একদিন বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্রের যেকোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী আরও বলেন, বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতারই ডাক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তারই নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।
দেশ বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তার স্বপ্ন। তাই আমাদের দায়িত্ব হবে জ্ঞান-গরিমায় সমৃদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। তাহলেই চিরঞ্জীব এই মহান নেতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
এদিকে, বাদ যোহর বনলতা ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের স্মরণে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জাতীয় শোক দিবসের এ আয়োজনে জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেকসহ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচি:
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থদের মাধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির সার্বিক সহযোগিতায় পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খাবার বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে নিজ হাতে জনসাধারণের মাধ্যে খাবার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো শাহাবুল হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন টিটু, সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, সাবেক সহ-সম্পাদক বাপ্পি, সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানিম হাসান তারেক পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জাবিদুল ইসলাম জাবিদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ নেতা অয়ন হাসান জোয়ার্দ্দার, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল, সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, ছাত্রলীগ নেতা ওয়ালিউর রকি, পৌর ছাত্রলীগ নেতা তানভির আহম্মেদ সোহেল, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগান, ইমদাদুল হক আকাশ, মিঠুন, স্বাধীন, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান আহম্মেদ রানা প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা শাখার কর্মসূচি:
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে গরীব ও দুস্থদের মাধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। গতকাল রোববার দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল মল্লিক।
এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বর্তমান সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, সহসভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসি হাসান রাজিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল হাসান বারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক আল নোমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রামিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল করিম,গবেষনা সম্পাদক মিলন, জীবননগর উপজেলা শাখা সভাপতি আব্দুল্লা আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক নাদিমুর রহমান পিয়াল, দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সভাপতি সুমন আলি, সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার নেতা আনিসউজ্জামান রিমন, সিবলী প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মসূচি:
যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল রোববার সকাল ৭টায় শোক দিবস উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে যেয়ে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের কর্মসূচি:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বৃক্ষরোপণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা পরিদষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে জেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন। এসময় জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা পরিষদ চত্বরে ১০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপণ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। দোয়ার অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম বায়েজিদ হুসাইন দোয়া পরিচালনা করেন। এসময় জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, মাফলুকাতুর রহমান সাজু, খলিলুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, হাসিনা বেগম, মিতা খাতুন, কাজল রেখা, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. শফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা অ্যাড. শাহরিয়ার কবির ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তারা দেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেড় হাজার এতিম ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা একটায় চুয়াডাঙ্গা পান্না সিনেমা হল চত্বরে খাবার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের এই দিনে শাহাদাত বরণ করেন। আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনকে। এই শোকের দিনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এতিমখানা এবং মাদ্রাসার প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের মতো মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করায় তারা দেবী ফাউন্ডেশনকে জানায় ধন্যবাদ। শুধু খাবার বিতরণ নয়, করোনায় আক্রান্ত মানুষের ফ্রি অক্সিজেন সেবা, অসহায় পঙ্গু মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি।’
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা বালিকা এতিমখানা মাদ্রাসা, সিএন্ডবিপাড়া মহিলা মাদ্রাসা, আলুকদিয়া মহিলা মাদ্রাসা, ভালাইপুর, সরিষাডাঙ্গা, কান্তপুর, পাঁচকমলাপুর, নাগদাহ, গোকুলখালী, পুটিমারী, বলিয়ারপুর, দীননাথপুরসহ বিভিন্ন এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় দেড়হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবীর শিপলুর সঞ্চালনায় খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ঠিকাদার ওয়ায়েচ কুরুনী টিটো, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পবিত্র কুমার আগরওয়ালাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
চুয়াডাঙ্গায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মসূচি:
স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম শাহান সভা সঞ্চালনা করেন। আলোচনা সভায় ইউেিনটর ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সোহরাব হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ডেলিগেট এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. শফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক শাহ আলম সনি বক্তব্য দেন।
এসময় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, অ্যাড. এম এম শাহজাহান মুকুল, হাবিবুল্লাহ জোয়ার্দ্দার, আসাদুজ্জামান কবীর, জিল্লুর রহমান, বিলকিস জাহান, ইউনিট অফিসার গৌরচন্দ্র বিশ্বাস, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. তমান্নাজ তাসনিম, অপথালমিক প্যারামেডিক্স মো. ইউনুছ আলী, যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্যবৃন্দ ও চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল মজিদ।
আলোচনা সভায় রেডক্রিসেন্ট ইউনিট চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যারা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে, সেইসব খুনীদের বিচার হয়েছে এবং ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর যেসকল খুনী এখনো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এছাড়া, যারা জাতির জনকের হত্যার মদদ দিয়েছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করতে হবে।
এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বাদ জোহর পৌরসভা অডিটরিয়ামে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র সুলতানা রত্না, সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ, টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেনসহ পৌরসভার কর্মচারী- কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মওলানা আব্দুর রহমান।
অপর দিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে শহরের টিএন্ডটি মোড়ে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এখলাস উদ্দিন মণ্টু। শিক্ষক নেতা আব্দুস সালামের উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, শিক্ষক সাবিউল মওলা প্রমুখ। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন জান্নাতুল মওলা কবরস্থান মসজিদের ইমাম মাওলানা মামুনুর রহমান।
সরোজগঞ্জ:
সরোজগঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করে সরোজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হলো-চুয়াডাঙ্গার সদরে সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেঁতুল শেখ কলেজ, সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যুগিরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসু ভান্ডারদহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসাননন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দশমি আলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, বদরগঞ্জ বাকি বিল্লাহ কামিল মাদ্রারাসা, আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদজমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদজমা ডি এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুম্ভনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দত্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুতুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে সকল সড়ক ও প্রধান সড়কে কালো পতাকা দ্বারা সজ্জিতকরণ, সকাল ৭টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, আলমডাঙ্গা থানা ও পৌর আওয়ামী লীগ, সরকারি কলেজ, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
সকাল ৮টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-কৃতীর ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদের কবিতা পাঠ, দেশাত্ববোধক গান, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, বীর মুত্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জমান, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মদসহ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
অন্যদিকে, সকাল ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রশান্ত অধিকারী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, খ. হামিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী রবিউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খালেদুর রহমান অরুন, আলম হোসেন, আতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান, মহিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ, রেজাউল হক তবা, সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু মুছা, মাসুদ রানা তুহিন, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক প্রমুখ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন কর্মের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহসভাপতি হামিদুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক কাজী রবিউল হক।
পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মতিয়ার রহমানের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম, কাজী খালেদুর রহমান অরুন, অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদা খাতুন, মাসুদ রানা তুহিন, আমিনুল হক মোল্লা, মহসিন কামাল, পরিমল কিমার ঘোষ, ডা. অমল কুমার, জহুরুল হক স্বপন, আশরাফু হক প্রমুখ।
এদিকে, সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার মিঠুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের সভাপতি রনি আলম নুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও প্রেসক্লাবের সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম। প্রায় ৫৫ জন শিক্ষক আলোচনায় অংশ নেন।
অপর দিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খ. হামিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ রানা তুহিন, বিস্কুট, টগর প্রমুখ।
এছাড়াও আলমডাঙ্গার বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে শোক দিবস পালিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৮৫ নম্বর বৈদ্যনাথপুুর হারদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের প্রতি স্মরণে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত, আলোচনা সভা, দোয়ার অনুষ্ঠান ও ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিরুল ইসলাম খান জামিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আওয়ালের উপস্থাপনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি শুকুর আলী মণ্ডল।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুারালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে সকল শহীদদের প্রতি নিরবতা পালন শেষে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব, দামুড়হুদা মডেল থানা ও দর্শনা থানা।
পরে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন অয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার আছির উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান কাজল, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম নুরুন্নবী, সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবীর ইউসুফ, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হাজী আ. কাদির, উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ. মতিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকি সালাম, উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইসহাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আইয়ূব আলী প্রমুখ।
দর্শনা:
দর্শনায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে সাতটায় দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও পৌর কর্মচারীদের উদ্যোগে দর্শনা পৌরসভায় এবং দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা, কালো পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া মাহফিল ও শোক দিবস নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দর্শনা পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল জামায়াত-বিএনপির দোষররা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তা পারেনি। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছিল বলে আমরা কথা বলতে পারছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা হত্যা করার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়েছে। ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। সকল নেতা-কর্মীর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে সর্তক থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে দলের জন্য সকলের প্রতি কাজ করার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল, দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পাভেজ ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম তোতা।
এছাড়া দর্শনা পুরাতন বাজার চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দর্শনার জন্য আমরা সংগঠনের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা, কালো পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় বাংলাদেশ জাসদ, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী, দর্শনা সোসাইটি লি., তারুণ্য-১৭ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বেইজ অফিস শোক দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করেছে। পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, দোয়া মাহফিল, এক মিনিট নীরবতা পালন ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে আলোচনা করা হয়।
এ আলোচনা অংশ নেন কিতাব আলী, আনিছুর রহমান, কামরুজ্জামান কামাল, নজরুল ইসলাম, আওয়াল হোসেন, মাহাবুবুর রহমান, টিটো খান, জেসমিন, খালিদ হাসান, মজিবার রহমান, সোহরাব হোসেন, মনির হোসেন, আজিজসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এদিকে, দর্শনা কেরু শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন, দর্শনা কেরু চিনিকলসহ সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেছেন। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোক দিবস পালন করেন।
জীবননগর:
জীবননগরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে আজ জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। গতকাল রোববার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দিন, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. ুসালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন দলু, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আলী আকতার, সেচ্ছাসেবী সংগঠন জীবননগর বন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মিঠুন মাহমুদ।
অপর দিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জীবননগর শাখার আয়োজনে জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজার সভাপতিত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহ আলম শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু, সাধারণ সম্পাদক মজিবার রহমান প্রমুখ।
অন্যদিকে, মহেশপুর-৫৮বিজিবির উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন-৫৮ বিজিবির আয়োজনে মহেশপুর, জীবননগসহ ১৯টি বিওপির দায়িত্বপুর্ণ এলাকার ২০০ জন দুস্থ অসহায় মানুষের মাধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবন, আটা, সাবানসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহেশপুর ব্যাটালিয়ন-৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আহসান, উপ-অধিনায়ক মেজর তারেক মো. তসলিম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য পালনের উপলক্ষে গতকাল রোববার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় সংগীতের তালে- তালে জাতীয়, দলীয় ও শোক দিবসের পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা, দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল শহিদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ আব্দুস সামাদ।
গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের সামনে বকুলতলা চত্বরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপাধ্যক্ষ মুন্সী নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মোহা. আব্দুল লতিফ অমল, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান হাফিজ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ইশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী। অনুষ্ঠান শেষে কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সকল মানুষের মধ্যে উন্নতমানের বিশেষ তাবারক বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, আন্দুলবাড়িয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) এর উদ্যোগে গতকাল রোববার সকালে সাড়ে ৭টায় আন্দুলবাড়ীয়া শাখায় শোক দিবসের পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এসময় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদ মোল্লা আলতাফ হোসেন ফেলা'র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. খন্দকার মো. মিজানুর রহমান। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আরআরএফ সমৃদ্ধি কর্মসূচির সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মির্জা সাহাবুদ্দিন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুর রহমান, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষায়ক সম্পাদক খান তারিক মাহমুদ প্রমুখ।
অপর দিকে, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৬ তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫ টায় ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুল ইসলাম পঁচা, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক বাবলু প্রমুখ।
উথলী:
জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮ টার সময় উথলী ডিগ্রী কলেজ, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদরাসা, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, উথলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেনেরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পতাকা উত্তোলন, পতাকা অর্ধনমিত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৪ টার সময় উথলী কলেজ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো.আব্দুল লতিফ অমল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী।
উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহম্মেদ প্রদীপের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবু জাফর, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি লুৎফর রহমান লুতু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান হেলা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ইউপি সদস্য ওবায়দুল রহমান প্রমুখ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিশেষভাবে তৈরি মঞ্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পক্ষে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, মেহেরপুর জেলা আওমীামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসূল, মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, মেহেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন কাঙালী ভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
অপর দিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে রক্তদান কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান নিজেয় রক্ত দিয়ে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্বেচ্ছায় রক্তদান করলাম। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাফিজ- আল-আসাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃধা মো. মুজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তুষার কুমার পাল, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম, কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, মিথিলা দাস প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আমঝুপি:
১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্র্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। এসময় বক্তব্য দেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মণ্টু, মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন, জাকির হাসেন, কৃষক লীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব আলম প্রমুখ।
এদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলা, আমঝুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সামসুজ্জামান জামানের (চমন) নেতৃত্বে আমঝুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিটে এ আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মুজিবনগর:
মুজিবনগরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল আটটায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণী এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব ঋণ চেক বিতরণ করা হয়।
এদিকে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস ও সকল শহীদের স্বরণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মুজিবনগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মুজিবনগর পি ডব্লিউ ডি আই বি রেস্ট হাউস চত্বরে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রোফিকুল ইসলাম তোতার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু ।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান চাদুর সঞ্চালনায় শোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাগোয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন। বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফা, বাগোয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবার রহমান মধু, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, মোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল, দারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকিম হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেক সাদী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দীন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক শেখ শাকিব, মুজিবনগর উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মেহেরপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড, রুৎসোভা মন্ডল, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তকলিমা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক তহমিনা খাতুন প্রমুখ।
গাংনী:
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। পতাকা উত্তোলন, শোক শোভাযাত্রা, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও দো’আ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শোককে শক্তিতে রপান্তরিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ডে জাতীয়, দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দো’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম, মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, গাংনী পৌরসভার মেয়র আহেম্মদ আলী, অফিসার ইনর্চাজ বজলুর রহমান ও গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুন্তাজ আলী। এসময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের অন্য সদস্য ও পুলিশ- প্রসাশনের বিভিন্ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গাংনী কাথুলীতে গরীব ও দুস্থদের মাধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৪৭) ব্যাটালিয়ন। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় গাংনীর কাথুলী বিজিবি ক্যাম্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাধ্যে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় কুষ্টিয়া (৪৭) ব্যাটালিয়ন বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান, গাংনী কাথুলী ক্যাম্প কমান্ডার মাহাবুব হোসেন, স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি মো. সেন্টুসহ বিজিবির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ৬০টির অধিক পরিবারের মাধ্যে চাউল, তেল, লবণ, ডাল, আলু, চিনি বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে বিনম্র শ্রদ্ধায় ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, কাঙালী ভোজ, আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
সকাল সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রের পক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান ও পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রেরণা-৭১ এ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি খালেদা খানম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সপাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিণ্টু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এছাড়া পরে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ শহরে শোক র্যালি বের করা হয়। শোক র্যালি শহরের প্রেরণা একাত্ত্বর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। জেলা শহরের পাড়া, মহল্লা ও প্রতিটি গ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
ডাকবাংলা:
ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল আটটার দিকে জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু প্রেরণা-৭১ এ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যবৃন্দ। পরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে শহিদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি এম এ কবির, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান সণ্টু, সহসভাপতি, লিটন হোসেন, কোষাধ্যক্ষ, সবুজ মিয়া, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রবিষয়ক সম্পাদক মোক্তার হোসেন মুক্তি, ইমদাদুল হক, লালন মণ্ডল, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কীর্তির ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চুয়াডাঙ্গায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাতটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার ম্যূরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় অনলাইনে জুম অ্যাপে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কীর্তির ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে জুম অ্যাপে যুক্ত থেকে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতির পিতার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাঁকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা করে। এই হত্যার মধ্যদিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামাকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি, আর কখনো হবেও না। তিনি আরও বলেন, তাঁর আত্মত্যাগের মহিমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত করে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘শোষক ও শোষিতের সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে বঙ্গবন্ধু পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির শৃঙ্খল থেকে তিনি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে মুক্ত করতে চেয়েছেন, চেয়েছেন দেশকে স্বাধীন করতে। এ মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কিশোর বয়স থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন প্রতিবাদ, সর্বদা বলেছেন সত্য ও ন্যায়ের কথা এবং হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এ নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি কেবল বাংলাদেশই নয়, শোষিত-নির্যাতিত বিশ্বমানব সমাজেও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সেটিই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।’
আলোচনা সভায় জুম অ্যাপে যুক্ত থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আবেদীন খোকন, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বির্ভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগের কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুম অ্যাপ ব্যবহার করে সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়া হায়দার।
শোক সভায় চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুসরাত জেরীন, বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. লুৎফর রহমান শিশির, বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মো. কামাল হোসেন শিকদার, বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী, বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ মো. ছানাউল্ল্যাহ, বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শামসুজ্জামান, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাস, বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুল ইসলাম, বিজ্ঞ সহকারী জজ মোছা. নাজনীন আক্তার, মো. আরমান হোসেন, নীলা খাতুন, মো. ইব্রাহিম খলিল, বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বেলাল হোসেন, বিজ্ঞ সরকারি কৌশুলী মো. আশরাফুল ইসলাম খোকন, জেলা আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক মো. তালিম হোসেন, জেলা জজ আদালত চুয়াডাঙ্গার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ, নাজির মো. মাসুদুজ্জামান, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মামুন মজিদ, নাজির মো. ওসমান গনিসহ বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
বিচার বিভাগ বঙ্গবন্ধু হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে জাতির কলঙ্কমোচন করেছে মর্মে শোক সভার সভাপতি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। আলোচকবৃন্দ তাঁদের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনে বিচার বিভাগ তার যথাযথ ভূমিকা পালন করবে মর্মে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া নাগ।
আলোচনা সভা শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের নিহত সদস্যদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা বিচার বিভাগ কর্তৃক ‘শারমিন হক হাফেজিয়া ও কওমী মাদ্রাসা, বাগান পাড়া, চুয়াডাঙ্গা’ এর এতিম, অসহায় ও দুস্থ শিশুদের মানসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের কর্মসূচি:
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ নানা কর্মসূচির পালন করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণপূর্বক নীরবতা পালন, ১৫ই আগস্ট ঘাতকের হাতে নিহত সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ছয়টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, অর্ধনমিত করা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ৬টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ এবং সহযোগী এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং বাদ আসর আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহামেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, অ্যাড. শামসুজ্জোহা, হাবিবুর রহমান লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, উপ-প্রচার সম্পাদক শওকত আলী বিশ্বাস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক অ্যাড তালিম হোসেন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন আহমেদ চন্দন, কার্যনির্বাহী সদস্য পিপি অ্যাড. বেলাল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম জহুরুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলা, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, আব্দুর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস রাসেদুজ্জামান বাকি, যুবলীগ নেতা টুটুল, জাতীয় শ্রমিক লীগ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মো. আফজালুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রিপন মণ্ডল, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নুরুন্নাহার কাকলী, জাতীয় মহিলা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার সভাপতি নাবিলা রুকসানা ছন্দা, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাদী মিলি, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া সাহাব, রীনা খাতুন, যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক আফরোজা পারভীন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গরীব রুহানী মাসুম, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সহসভাপতি শাহাবুল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা অয়ন হাসান জোয়ার্দ্দার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল মল্লিক, রেফায়েত হোসেন রাজিব, সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগান, পৌর ছাত্রলীগ নেতা তানভির আহম্মেদ সোহেল, ইমদাদুল হক আকাশ, মুন্না, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব স্বাধীন, মিঠুন, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান আহম্মেদ রানা, প্রান্ত, টোকন, মোমিন, জান্নাত, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বর্তমান সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, সহ সভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসি হাসান রাজিব, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল হাসান বারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক আল নোমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রামিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল করিম, গবেষনা সম্পাদক মিলন, সুমন, ইমন, রাতুল, আফরিজ, আলম, ফিরোজ, মিরাজ, নাইম, আগুন, পরশ, সারাফাত, রামিম, ইভন, দিপু সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের কর্মসূচি:
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগ। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার জেলা যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ছয়টায় জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা, শোক ও যুবলীগের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শেখ মনির ছবিতে মাল্যদান করা হয়। সকাল সাতটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতার ম্যুরালে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আলমডাঙ্গায় বৃক্ষরোপণ, জেহালায় আলোচনা ও শুকনো খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কুতুবপুর ইউনিয়নে দোয়া ও খাবার বিতরণ করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান জিল্লু, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য শাজ্জাদুল ইসলাম লাভলু, আলমগীর আজম খোকা, পদ্মবিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি বিপ্লব হোসেন, যুবলীগ নেতা পিরু মিয়া, শেখ শাহী, মাসুদুর রহমান মাসুম, শেখ দরুদ হাসান, হাসানুর ইসলাম পলেন, আল-ইমরান শুভ, রামিম হাসান সৈকত, সামিউল শেখ সুইট, শেখ রাসেল, দিপু বিশ্বাস, জামাল খান, জাকির, লোকমান, জুয়েল, আলমগীর, নোমান, আসাদ, বক্কর, আশা, রুবেল, আলীহিম, সুমন, সুজন, বাচ্চু, শ্রমিক লীগ নেতা আশা, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার, কবির, শাকিব, মাফুজ, হাসিব, ইমরান, কাফী প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মসূচি:
যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পৃথক আয়োজনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয়, দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা অর্ধনমিতকরণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, সিনিয়র সহসভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ প্রমুখ। পরে বিকাল চারটায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ।
সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাস বলেন, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আসুন, আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তাঁর ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ১৯৭৫ সালের এদিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূসহ নিকট আত্মীয়গণ শাহাদাত বরণ করেন। আমি শোকাহত চিত্তে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল মালেক, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি ও সদর থানা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মতিন দুদু।
এসময় আরও বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জুয়েল রানা, জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন মিলন প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার মাফিজুর রহমান মাফি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আবুল হোসেন মিলন, আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ ফরিদ আহমেদ, ইমরান আহমেদ বিপ্লব, রাশেদুল আসলাম পাপেল, জেলা কৃষকলীগ সদস্য আব্দুল হালিম ভুলন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক সজল, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, যুবলীগ সদস্য আনসার উল্লাহ, ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ওয়াশিম, ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম টোকন প্রমুখ।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গায় গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিনব্যাপী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের প্রতি। দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের বনলতা ভবনে জাতীয় পতাকা, শোকের কালো ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালভাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশ বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী বলেন, শুধু বাংলাদেশ ভূখন্ডে নয়, দুনিয়াজুড়ে বিবেকবান মানুষের কাছে ভয়ংকর বিষাদের এক দিন ১৫ আগস্ট। জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, সেটাও একদিন বের হয়ে আসবে। তিনি বলেন, ঘাতক চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্রের যেকোনো অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী আরও বলেন, বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতারই ডাক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তারই নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তার নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।
দেশ বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর ডা. মাহবুব হোসেন মেহেদী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তার স্বপ্ন। তাই আমাদের দায়িত্ব হবে জ্ঞান-গরিমায় সমৃদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। তাহলেই চিরঞ্জীব এই মহান নেতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
এদিকে, বাদ যোহর বনলতা ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের স্মরণে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জাতীয় শোক দিবসের এ আয়োজনে জেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, জেলা কৃষক লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল খালেকসহ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের কর্মসূচি:
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থদের মাধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির সার্বিক সহযোগিতায় পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খাবার বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে নিজ হাতে জনসাধারণের মাধ্যে খাবার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো শাহাবুল হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফি উদ্দিন টিটু, সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ জোয়ার্দ্দার, সাবেক সহ-সম্পাদক বাপ্পি, সাবেক প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানিম হাসান তারেক পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি জাবিদুল ইসলাম জাবিদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ নেতা অয়ন হাসান জোয়ার্দ্দার, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল, সাবেক স্কুল ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, ছাত্রলীগ নেতা ওয়ালিউর রকি, পৌর ছাত্রলীগ নেতা তানভির আহম্মেদ সোহেল, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব রিগান, ইমদাদুল হক আকাশ, মিঠুন, স্বাধীন, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান আহম্মেদ রানা প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা শাখার কর্মসূচি:
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে গরীব ও দুস্থদের মাধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। গতকাল রোববার দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল মল্লিক।
এই সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাবেক আহবায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বর্তমান সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মিন্টু, সহসভাপতি রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসি হাসান রাজিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল হাসান বারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, দপ্তর সম্পাদক আল নোমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রামিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল করিম,গবেষনা সম্পাদক মিলন, জীবননগর উপজেলা শাখা সভাপতি আব্দুল্লা আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক নাদিমুর রহমান পিয়াল, দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সভাপতি সুমন আলি, সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার নেতা আনিসউজ্জামান রিমন, সিবলী প্রমুখ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মসূচি:
যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল রোববার সকাল ৭টায় শোক দিবস উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে যেয়ে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গনে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলতুন্নেছা মুজিবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের কর্মসূচি:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বৃক্ষরোপণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা পরিদষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে জেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন। এসময় জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জেলা পরিষদ চত্বরে ১০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপণ করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। দোয়ার অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ মসজিদের ইমাম বায়েজিদ হুসাইন দোয়া পরিচালনা করেন। এসময় জেলা পরিষদের সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, মাফলুকাতুর রহমান সাজু, খলিলুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, হাসিনা বেগম, মিতা খাতুন, কাজল রেখা, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. শফিকুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা অ্যাড. শাহরিয়ার কবির ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি:
চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তারা দেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেড় হাজার এতিম ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা একটায় চুয়াডাঙ্গা পান্না সিনেমা হল চত্বরে খাবার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের এই দিনে শাহাদাত বরণ করেন। আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনকে। এই শোকের দিনে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এতিমখানা এবং মাদ্রাসার প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রীসহ অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের মতো মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করায় তারা দেবী ফাউন্ডেশনকে জানায় ধন্যবাদ। শুধু খাবার বিতরণ নয়, করোনায় আক্রান্ত মানুষের ফ্রি অক্সিজেন সেবা, অসহায় পঙ্গু মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানটি।’
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজীব হাসান কচি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা বালিকা এতিমখানা মাদ্রাসা, সিএন্ডবিপাড়া মহিলা মাদ্রাসা, আলুকদিয়া মহিলা মাদ্রাসা, ভালাইপুর, সরিষাডাঙ্গা, কান্তপুর, পাঁচকমলাপুর, নাগদাহ, গোকুলখালী, পুটিমারী, বলিয়ারপুর, দীননাথপুরসহ বিভিন্ন এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় দেড়হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
তারা দেবী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবীর শিপলুর সঞ্চালনায় খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ঠিকাদার ওয়ায়েচ কুরুনী টিটো, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পবিত্র কুমার আগরওয়ালাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
চুয়াডাঙ্গায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মসূচি:
স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম শাহান সভা সঞ্চালনা করেন। আলোচনা সভায় ইউেিনটর ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সোহরাব হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ডেলিগেট এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. শফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক শাহ আলম সনি বক্তব্য দেন।
এসময় কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, অ্যাড. এম এম শাহজাহান মুকুল, হাবিবুল্লাহ জোয়ার্দ্দার, আসাদুজ্জামান কবীর, জিল্লুর রহমান, বিলকিস জাহান, ইউনিট অফিসার গৌরচন্দ্র বিশ্বাস, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. তমান্নাজ তাসনিম, অপথালমিক প্যারামেডিক্স মো. ইউনুছ আলী, যুব রেডক্রিসেন্ট সদস্যবৃন্দ ও চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল মজিদ।
আলোচনা সভায় রেডক্রিসেন্ট ইউনিট চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যারা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে, সেইসব খুনীদের বিচার হয়েছে এবং ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর যেসকল খুনী এখনো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এছাড়া, যারা জাতির জনকের হত্যার মদদ দিয়েছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করতে হবে।
এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বাদ জোহর পৌরসভা অডিটরিয়ামে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র সুলতানা রত্না, সচিব কাজী শরিফুল ইসলাম, কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ, টিকাদান সুপারভাইজার আলী হোসেনসহ পৌরসভার কর্মচারী- কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মওলানা আব্দুর রহমান।
অপর দিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি চুয়াডাঙ্গা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে শহরের টিএন্ডটি মোড়ে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এখলাস উদ্দিন মণ্টু। শিক্ষক নেতা আব্দুস সালামের উপস্থাপনায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, শিক্ষক সাবিউল মওলা প্রমুখ। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন জান্নাতুল মওলা কবরস্থান মসজিদের ইমাম মাওলানা মামুনুর রহমান।
সরোজগঞ্জ:
সরোজগঞ্জ জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করে সরোজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হলো-চুয়াডাঙ্গার সদরে সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তেঁতুল শেখ কলেজ, সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যুগিরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয়ঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসু ভান্ডারদহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুলটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসাননন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দশমি আলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, বদরগঞ্জ বাকি বিল্লাহ কামিল মাদ্রারাসা, আলিয়ারপুর আজিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাসানহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিন্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদজমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদজমা ডি এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুম্ভনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দত্তাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুতুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে সকল সড়ক ও প্রধান সড়কে কালো পতাকা দ্বারা সজ্জিতকরণ, সকাল ৭টার দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, আলমডাঙ্গা থানা ও পৌর আওয়ামী লীগ, সরকারি কলেজ, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।
সকাল ৮টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-কৃতীর ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছেলে-মেয়েদের কবিতা পাঠ, দেশাত্ববোধক গান, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ন কবির, আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, বীর মুত্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. শাহাবুদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জমান, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আশুরা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহম্মদসহ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।
অন্যদিকে, সকাল ৮টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয়, দলীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রশান্ত অধিকারী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, খ. হামিদুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী রবিউল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খালেদুর রহমান অরুন, আলম হোসেন, আতিয়ার রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান, মহিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ, রেজাউল হক তবা, সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম, আবু মুছা, মাসুদ রানা তুহিন, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক প্রমুখ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন কর্মের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহসভাপতি হামিদুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক কাজী রবিউল হক।
পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মতিয়ার রহমানের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম, কাজী খালেদুর রহমান অরুন, অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহিদা খাতুন, মাসুদ রানা তুহিন, আমিনুল হক মোল্লা, মহসিন কামাল, পরিমল কিমার ঘোষ, ডা. অমল কুমার, জহুরুল হক স্বপন, আশরাফু হক প্রমুখ।
এদিকে, সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার মিঠুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের সভাপতি রনি আলম নুর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহম্মদ ডন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও প্রেসক্লাবের সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম। প্রায় ৫৫ জন শিক্ষক আলোচনায় অংশ নেন।
অপর দিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খ. হামিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ রানা তুহিন, বিস্কুট, টগর প্রমুখ।
এছাড়াও আলমডাঙ্গার বৈদ্যনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে শোক দিবস পালিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৮৫ নম্বর বৈদ্যনাথপুুর হারদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের প্রতি স্মরণে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত, আলোচনা সভা, দোয়ার অনুষ্ঠান ও ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামিরুল ইসলাম খান জামিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবির। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আওয়ালের উপস্থাপনায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি শুকুর আলী মণ্ডল।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুারালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে সকল শহীদদের প্রতি নিরবতা পালন শেষে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, দামুড়হুদা প্রেসক্লাব, দামুড়হুদা মডেল থানা ও দর্শনা থানা।
পরে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন অয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার আছির উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা খাতুন, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান কাজল, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম নুরুন্নবী, সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবীর ইউসুফ, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হাজী আ. কাদির, উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ. মতিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকি সালাম, উপজেলা সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ, উপজেলা নির্বাচন অফিসার ইসহাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আইয়ূব আলী প্রমুখ।
দর্শনা:
দর্শনায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে সাতটায় দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও পৌর কর্মচারীদের উদ্যোগে দর্শনা পৌরসভায় এবং দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা, কালো পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া মাহফিল ও শোক দিবস নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দর্শনা পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল জামায়াত-বিএনপির দোষররা। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তা পারেনি। জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছিল বলে আমরা কথা বলতে পারছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যা হত্যা করার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়েছে। ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। সকল নেতা-কর্মীর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে সর্তক থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করে দলের জন্য সকলের প্রতি কাজ করার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী, দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান কাজল, দর্শনা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পাভেজ ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসলাম তোতা।
এছাড়া দর্শনা পুরাতন বাজার চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দর্শনার জন্য আমরা সংগঠনের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ, জাতীয় পতাকা, কালো পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় বাংলাদেশ জাসদ, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী, দর্শনা সোসাইটি লি., তারুণ্য-১৭ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বেইজ অফিস শোক দিবসের সকল কর্মসূচি পালন করেছে। পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ, দোয়া মাহফিল, এক মিনিট নীরবতা পালন ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে আলোচনা করা হয়।
এ আলোচনা অংশ নেন কিতাব আলী, আনিছুর রহমান, কামরুজ্জামান কামাল, নজরুল ইসলাম, আওয়াল হোসেন, মাহাবুবুর রহমান, টিটো খান, জেসমিন, খালিদ হাসান, মজিবার রহমান, সোহরাব হোসেন, মনির হোসেন, আজিজসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এদিকে, দর্শনা কেরু শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন, দর্শনা কেরু চিনিকলসহ সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেছেন। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোক দিবস পালন করেন।
জীবননগর:
জীবননগরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে আজ জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। গতকাল রোববার সকালে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান, উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিউদ্দিন, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. ুসালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন দলু, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, জীবননগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আলী আকতার, সেচ্ছাসেবী সংগঠন জীবননগর বন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মিঠুন মাহমুদ।
অপর দিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জীবননগর শাখার আয়োজনে জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজার সভাপতিত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, জীবননগর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহ আলম শরিফুল ইসলাম ছোট বাবু, সাধারণ সম্পাদক মজিবার রহমান প্রমুখ।
অন্যদিকে, মহেশপুর-৫৮বিজিবির উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গরীব ও দুস্থ মানুষের মাধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন-৫৮ বিজিবির আয়োজনে মহেশপুর, জীবননগসহ ১৯টি বিওপির দায়িত্বপুর্ণ এলাকার ২০০ জন দুস্থ অসহায় মানুষের মাধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবন, আটা, সাবানসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহেশপুর ব্যাটালিয়ন-৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল আহসান, উপ-অধিনায়ক মেজর তারেক মো. তসলিম, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য পালনের উপলক্ষে গতকাল রোববার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় সংগীতের তালে- তালে জাতীয়, দলীয় ও শোক দিবসের পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা, দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল শহিদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ আব্দুস সামাদ।
গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের সামনে বকুলতলা চত্বরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপাধ্যক্ষ মুন্সী নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মোহা. আব্দুল লতিফ অমল, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান হাফিজ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ইশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী। অনুষ্ঠান শেষে কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সকল মানুষের মধ্যে উন্নতমানের বিশেষ তাবারক বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, আন্দুলবাড়িয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ) এর উদ্যোগে গতকাল রোববার সকালে সাড়ে ৭টায় আন্দুলবাড়ীয়া শাখায় শোক দিবসের পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এসময় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদ মোল্লা আলতাফ হোসেন ফেলা'র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু জিহাদী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. খন্দকার মো. মিজানুর রহমান। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আরআরএফ সমৃদ্ধি কর্মসূচির সমন্বয়কারী আরিফ হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন প্রবীণ সামাজিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মির্জা সাহাবুদ্দিন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউপির সাবেক মেম্বার আব্দুর রহমান, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষায়ক সম্পাদক খান তারিক মাহমুদ প্রমুখ।
অপর দিকে, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৬ তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫ টায় ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুল ইসলাম পঁচা, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক বাবলু প্রমুখ।
উথলী:
জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় দিনভর নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮ টার সময় উথলী ডিগ্রী কলেজ, সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদরাসা, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, উথলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেনেরহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পতাকা উত্তোলন, পতাকা অর্ধনমিত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৪ টার সময় উথলী কলেজ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হাফিজুর রহমান হাফিজ, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো.আব্দুল লতিফ অমল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী।
উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহম্মেদ প্রদীপের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আবু জাফর, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি লুৎফর রহমান লুতু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান হেলা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ইউপি সদস্য ওবায়দুল রহমান প্রমুখ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিশেষভাবে তৈরি মঞ্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের পক্ষে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, মেহেরপুর জেলা আওমীামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসূল, মেহেরপুর পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, মেহেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। পুস্পমাল্য অর্পণ শেষে জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা ও রক্তদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও তাঁর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন কাঙালী ভোজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
অপর দিকে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রক্তদান কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে রক্তদান কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান নিজেয় রক্ত দিয়ে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্বেচ্ছায় রক্তদান করলাম। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাফিজ- আল-আসাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃধা মো. মুজাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তুষার কুমার পাল, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম, কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, মিথিলা দাস প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আমঝুপি:
১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্র্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আমঝুপি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। এসময় বক্তব্য দেন আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মণ্টু, মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন, জাকির হাসেন, কৃষক লীগের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব আলম প্রমুখ।
এদিকে, মেহেরপুর সদর উপজেলা, আমঝুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সামসুজ্জামান জামানের (চমন) নেতৃত্বে আমঝুপি ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিটে এ আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মুজিবনগর:
মুজিবনগরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে। শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল আটটায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরষ্কার বিতরণী এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুব ঋণ চেক বিতরণ করা হয়।
এদিকে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস ও সকল শহীদের স্বরণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মুজিবনগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মুজিবনগর পি ডব্লিউ ডি আই বি রেস্ট হাউস চত্বরে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রোফিকুল ইসলাম তোতার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাম হোসেন মিলু ।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান চাদুর সঞ্চালনায় শোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাগোয়ান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আয়ূব হোসেন। বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফা, বাগোয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবার রহমান মধু, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, মোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল, দারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাকিম হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেক সাদী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দীন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক শেখ শাকিব, মুজিবনগর উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মেহেরপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড, রুৎসোভা মন্ডল, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি তকলিমা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক তহমিনা খাতুন প্রমুখ।
গাংনী:
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। পতাকা উত্তোলন, শোক শোভাযাত্রা, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও দো’আ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শোককে শক্তিতে রপান্তরিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ডে জাতীয়, দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দো’আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম, মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, গাংনী পৌরসভার মেয়র আহেম্মদ আলী, অফিসার ইনর্চাজ বজলুর রহমান ও গাংনী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুন্তাজ আলী। এসময় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের অন্য সদস্য ও পুলিশ- প্রসাশনের বিভিন্ন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গাংনী কাথুলীতে গরীব ও দুস্থদের মাধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৪৭) ব্যাটালিয়ন। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় গাংনীর কাথুলী বিজিবি ক্যাম্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাধ্যে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় কুষ্টিয়া (৪৭) ব্যাটালিয়ন বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান, গাংনী কাথুলী ক্যাম্প কমান্ডার মাহাবুব হোসেন, স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি মো. সেন্টুসহ বিজিবির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ৬০টির অধিক পরিবারের মাধ্যে চাউল, তেল, লবণ, ডাল, আলু, চিনি বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে বিনম্র শ্রদ্ধায় ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, কাঙালী ভোজ, আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
সকাল সাড়ে ৮টায় রাষ্ট্রের পক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান ও পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রেরণা-৭১ এ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি খালেদা খানম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সপাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিণ্টু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এছাড়া পরে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ শহরে শোক র্যালি বের করা হয়। শোক র্যালি শহরের প্রেরণা একাত্ত্বর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও দিনব্যাপী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়। জেলা শহরের পাড়া, মহল্লা ও প্রতিটি গ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
ডাকবাংলা:
ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল আটটার দিকে জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু প্রেরণা-৭১ এ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যবৃন্দ। পরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে শহিদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি এম এ কবির, সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান সণ্টু, সহসভাপতি, লিটন হোসেন, কোষাধ্যক্ষ, সবুজ মিয়া, সাংবাদিক ও সংবাদপত্রবিষয়ক সম্পাদক মোক্তার হোসেন মুক্তি, ইমদাদুল হক, লালন মণ্ডল, সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কীর্তির ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
