ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় রাস্তার ওপর গোবর ফেলার প্রতিবাদ করায় বাবা-ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় রাস্তার ওপর গোবর ফেলার প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা ও জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর জখম অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে আটটার দিকে আপন হোসেনের (২০) মৃত্যু হয়। গুরুত্বর অবস্থায় রাজশাহী নেওয়া হয় আপনের পিতা মোতালেব হোসেনকে (৪৫)। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত একমাত্র ঘাতক কালাম আলীকে আটক করেছে পুলিশ। কালামের শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন থাকায় কালামকে আটকের পরে রাত ১০ টার দিকে সদর হাসপাতাল থেকে তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
জানা যায়, আলমসাধু চালক মোতালেব হোসেনের বাড়ির প্রাচীরের সঙ্গে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা রয়েছে। এই রাস্তার প্রাচীরের সঙ্গে নিয়মিত গোবর ফেলে আসছে প্রতিবেশী মৃত বানাত আলীর ছেলে কালাম আলী (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী জাহি বেগম। বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর ফেলা গোবর পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে পরে। যে কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল দূর্বিষহ হয়ে পরে আলমসাধু চালক মোতালেব হোসেন ও তাঁর ছেলে ইজিবাইক চালক আপনসহ পুরো পরিবারের। বিভিন্ন সময় নিষেধ করার পরেও গতকাল আবার রাস্তার ওপর গোবর ফেলে কালাম আলী। এসময় আপন গোবর ফেলার প্রতিবাদ করলে কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যরা বিতণ্ডার মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। এর একপর্যায়ে কালাম বাড়ি থেকে একটি ধারালো বড় হাসুয়া এনে মোতালেব ও তাঁর ছেলে আপনকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঠেকাতে গেলে মোতালেবের স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন। ধারালো হাসুয়ার এলাপাতাড়ি কোপে মোতালেব ও আপন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে লুটয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা দ্রুত তাঁদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদেরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য যত দ্রুত সম্বব ঢাকা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এদিকে, হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে আপন হোসেনের মৃত্যু হয়। সাড়ে ৯টার দিকে সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় মোতালেব হোসেনকে।
নিহত আপনের মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘কালাম ও তার স্ত্রী প্রতিদিন রাস্তার ওপর গোবর ফেলে। প্রতিদিন নিষেধ করলেও তারা শোনে না। আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় আবার গোবর ফেললে আমার ছেলে আপন তার প্রতিবাদ করে। এসময় কালাম আমার ছেলেকেই গালিগালাজ করেতে থাকে। আমার স্বামীও সেখানেই ছিল। এসম কালাম দৌঁড়ে বাড়ির মধ্যে যেয়ে একটি হাসুয়া এনে আমার ছেলে ও স্বামীকে কুপাতে থাকে। আমার চোখের সামনে আমার ছেলে ও স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করেছে কালাম। আমার ছেলেকে খুন করেছে কালাম।’
প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কালাম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। ওই রাস্তার ওপর কালাম ও কালামের স্ত্রী গোবর ফেলে, নিশেধ করেলেও শোনে না। আজ এই নিয়ে আপন ও মোতালেবের সঙ্গে কালামের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে কালাম একটি ধারালো হাসুয়া এনে মোতালেব ও আপনকে এলাপাতারি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। এসময় আমরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দুজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষন পরেই আপনের মৃত্যু হয়।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘রাত পৌনে আটটার দিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দুজনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে। দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রে আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে। এর মধ্যে আপনের দুই হাতের হাড় ও মোতালেবের ঘাড় ও মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দুজনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় এবং দুজনকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পর আপনের মৃত্যু হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হওয়ায় তার শরীর থেকে অতিরিক্ত ক্ষরণ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারনেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘চলাচলের রাস্তার ওপর গোবর ও ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে এক যুবককে হত্যা ও তার বাবাকে কুপিয়ে জখম করার একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার একমাত্র অভিযুক্ত কালাম আলীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্চে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীকাল (আজ) নিহত যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের জন্য পরিবারের নিকট হস্তান্তÍর করা হবে।
এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত আপনের লাশ সদর হাসপাতালের লাশ ঘরে রাখা ছিলো। এবং গতকাল রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে গুরুত্বর জখম মোতালেবকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যেশ্যে নেওয়া হয়।
