ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে ১৫ জনের প্রাণহানি
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় মৃত্যু নেই, আক্রান্ত মাত্র একজন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে টানা ১৯ দিন পর করোনায় দুইশর নিচে মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৮১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ হাজার ৪৬৫ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু না হলেও সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে ও হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় মাত্র একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের শরীরে ও করোনা আক্রান্ত ও উপসগে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। অন্যদিকে গতকাল ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিনে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯১ জনের শরীরে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীর অবস্থায় পাঁচজন ও হোম আইসোলেশনেন একজনের মৃত্য হয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে মাত্র একজনের জনের শরীরে। গত তিনমাসের মধ্যে করোনায় এটাই সর্বোনিম্ম শনাক্ত। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬২ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৬.৬৬ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ব্যক্তি দামুড়হুদা উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ৬৫ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ৯৪ জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকালই নিহতদের শরীরে থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শেষে করোনা প্রটোকলে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৮০ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ২০ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৪ হাজার ৬৯৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৪ হাজার ৭০২টি, পজিটিভ ৬ হাজার ৪৬২ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ১৬৮ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ১০০ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত একজন ও উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৪ জন, গাংনীতে ৪ জন ও মুজিবনগরের ৩ জন রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ১৬৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬.৫৪ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ১১ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪০৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১০৯ জন, গাংনী উপজেলায় ২১৪ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৮৫ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৭৬ জন, গাংনী উপজেলার ৫৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৬ জন রয়েছে।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনায় শনাক্ত হয়েছে আরও ৯১ জনের শরীরে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত ৪ জন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। এ নিয়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৪৩ জনে।
গতকাল ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ৩৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এর মধে ৯১টি নমুনার ফলাফল পজেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২.৮০ শতাংশ। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপেজেলার ৪৩ জন, শৈলকুপার ১৮ জন, হরিণাকুণ্ডুর ৬ জন, কালীগঞ্জের ৭, কোটচাঁদপুরে ১৫ ও মহেশপুরের ২ জন রয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭১ জন। এ জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ১৩৮ জন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, বর্তমানে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ৪৯ জন চিকিৎসধীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রেড জোনে ৩৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩ জন।
সারাদেশ:
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৩ হাজার ৮১০ জনে। টানা ১৯ দিন পর করোনায় মৃত্যু দুইশোর নিচে নামলো। গত ২৫ জুলাই মাসে করোনায় মুত্যু দুইশোর নিচে ছিল। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৬৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ লাখ ৫ হাজার ৩৩৩ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৭৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এদিন পরীক্ষা করা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৪১টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭৩ হাজার ৫২২ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৯৭ জনের মধ্যে ১০০ বেশি বয়সী একজন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪১ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ও এক বছরের নিচে একজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১০৮ জন ও মহিলা ৮৯ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ৯ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১১ জন, সিলেট বিভাগে ৮ জন, রংপুর বিভাগে ৯ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১২ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
