ছবির ক্যাপশন:
সারাদেশে করোনায় আরও ২১৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০ হাজার ১২৬ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত আরও ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট ২৩ হাজার ৬১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১০ হাজার ১২৬ জন। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ও হোম কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে আরও ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্তে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত একজন ও উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজন ও এইচডিইউ ইউনিট থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে করোনা আক্রান্ত অপর একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৩২ জনের শরীরে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬১ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার ১৯৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩২টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৬২টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৬.৪৯ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৩২ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১৭ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৪ জন ও জীবননগরের ৩ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ১২০ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৫ হাজার ২৯ জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজন ও করোনা আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকালই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া দুজনের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শেষে করোনা প্রটোকলে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৮০ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ২০ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৪ হাজার ৬৯৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৪ হাজার ৬৮৭টি, পজিটিভ ৬ হাজার ৪৬১ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ২৩২ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ১৬৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮০ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে মৃত্যু হয়েছে একজনের। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৬ জন, গাংনীতে ৭ জন ও মুজিবনগরের ৮ জন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ল্যাবে পরীক্ষিত আরও ১৮৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২১টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১.৪৭ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ২১ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৩০ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১২৩ জন, গাংনী উপজেলায় ২২৫ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৮২ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৭৫ জন, গাংনী উপজেলার ৫৩ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৬ জন রয়েছে।
সারাদেশ:
সারাদেশে করোনা সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১০ হাজার ১২৬ জনের শরীরে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশে করোনা সংক্রমণের সবশেষ পরিস্থিতি জানানো হয়। করোনায় মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত আগের দিনের তুলনায় কমেছে। আগের দিন ২৩৭ জনের মৃত্যু এবং ১০ হাজার ৪২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৫ হাজার ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আগের দিন পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৬৮। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ৬১৩ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৯৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৫৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৮ ও সিলেট বিভাগে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।
এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে। গত জুলাই মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ জনের। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এই মহামারিতে এর আগে কোনো মাসে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত এপ্রিলে ২ হাজার ৪০৪ জনের।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত মাসের মাঝামাঝিতে ঈদুল আজহা ঘিরে আট দিন ছাড়া পুরো সময় কঠোর বিধিনিষেধ পালন করা হয়। সেই বিধিনিষেধ গতকালই শেষ হয়েছে। আজ সব অফিস–আদালত, ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট ও গণপরিবহনসহ প্রায় সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এতদিন বাস-ট্রেন লঞ্চে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার আর সেই বিধি-নিষেধ আর নেই।
