টাইগারের থাবায় বিধ্বস্ত ক্যাঙ্গারু

আপলোড তারিখঃ 2021-08-09 ইং
টাইগারের থাবায় বিধ্বস্ত ক্যাঙ্গারু ছবির ক্যাপশন:
অস্ট্রেলিয়াকে সর্বনিম্ন রানের লজ্জা ‘উপহার’ দিল বাংলাদেশ সমীকরণ প্রতিবেদন: ক্যাঙ্গারুদের বিপক্ষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেতে পেরেছে টাইগাররা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজ জিতে নিয়েছে ৪-১ এ। হতে পারত ৫-০। অতিমাত্রায় বিশ্বাসী থেকে খোয়াতে হয়েছে চতুর্থ ম্যাচটি। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে টি-২০ বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সফরের প্রেরণা হিসেবে কাজে দিয়েছে এই সিরিজ। এখান থেকেই হয়তো উজ্জীবিত হয়ে লড়াই করবে চলতি মাসের শেষে ঢাকা সফরে আসতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বুক চিতিয়ে লড়াই করার রশদ যুগিয়ে যা কাজে লাগবে বিশ্বকাপে। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা রয়েই গেল পুরো সিরিজে। অন্য দিকে বোলাররা বাহবা পেয়ে আসছেন সেই শুরু থেকেই। আগের চার ম্যাচ ছাপিয়ে গতকাল আরো বেশি তেঁতে উঠলেন। শেষ ১৯ বলে মাত্র ৯ রানেই ৫ উইকেট হারায় অসিরা। কৃতিত্ব সাকিব-সাইফউদ্দিন-নাসুমের। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে লাল-সবুজের সংগ্রহ ১২২ রান। তন্মধ্যে অতিরিক্ত ১৮ রান। সেটি বাদ দিলে চতুর্থ ম্যাচের মতোই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা করতে পেরেছেন ১০৪ রান। ব্যর্থতার জায়গা থেকেই যাচ্ছে। ১৩.৪ ওভারে অস্ট্রেলিয়া সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ৬২ রানই করতে পারে। ফলে ৬০ রানে জয় পেয়ে টাইগাররা সিরিজ জিতে নেয় ৪-১ এ। নিজেদের ইতিহাসে কখনো এমন লজ্জায় পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। টি-২০তে এর আগে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৭৯। এবার বাংলাদেশে এসে ৬২ রানে অলআউট হলো ক্যাঙ্গারুরা। বাংলাদেশের পুঁজি ছিল মাত্র ১২২ রানের। তবে এই উইকেটে এই রানটাও যে পাহাড় সমান, সেটা হাড়ে হাড়েই টের পেল অস্ট্রেলিয়া। ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারাল তারা। ১২৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ১৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় ম্যাথু ওয়েডের দল। দু’টি উইকেটই নেন নাসুম আহমেদ। গত ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানের ব্যাটিংয়ের কাছেই হেরেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১০৫ রানের ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিবে এক ওভারেই হাঁকান ৫ ছক্কা! ভয়ঙ্কর এই ব্যাটসম্যানকে (৩) এবার উইকেটে থিতু হতে দেননি নাসুম। পরের ওভারে নাসুম তুলে নেন এই সিরিজে সবচেয়ে ধারাবাহিক মিচেল মার্শকে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মার্শ (৪)। এরপর ম্যাথু ওয়েড আর ম্যাকডরমট কিছুটা চোখ রাঙানি দিলেও অষ্টম ওভারে সাকিব বল হাতে নিয়েই নিজের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন অসি অধিনায়ক ওয়েডকে (২২)। পরের ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুঃখ আরো বাড়ান রিয়াদ। নিজের প্রথম ওভারে ফেরান ম্যাকডরমটকে (১৭)। এক ওভার একটু স্বস্তিতে কেটেছিল অস্ট্রেলিয়ার। তারপর সাইফউদ্দিনের জোড়া আঘাত। প্রথমে দারুণ এক ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেন অ্যালেক্স কারেকে (০)। এক বল পর উইকেটের পেছনে ক্যাচ ময়েচেস হেনড্রিকস (৩)। পরের ওভারে সাকিবকে কাট করতে গিয়ে শর্ট কভারে ক্যাচ দেন অ্যাশটন টার্নার (১)। ৫৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এরপর শেষের দিকের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি। ১৩.৪ ওভারেই ৬২ রানে গুটিয়ে যায় অসিদের ইনিংস। আগের ম্যাচের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে সাকিবই দলের সেরা বোলার। মাত্র ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সাইফউদ্দিন ১২ রানে তিনটি আর নাসুম ৮ রানে নেন ২ উইকেট। অস্টেলিয়ার বিপক্ষে নতুন এক রেকর্ডে নিজেকে আরো উঁচুতে নিয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান। শেষ টি-২০তে ২ উইকেট তুলে নিতেই অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসে যা নেই আর কারো। ২০ ওভারের ক্রিকেটে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান এই অলরাউন্ডার। পরে আরো দু’টি উইকেট নিয়ে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ১০২-এ। এর আগে ওপেনিংয়ে পরিবর্তন এনে সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে দু’টি পরিবর্তন আনলেও এ যাত্রায় টিকে গেছেন সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। তবে আগের চার ম্যাচে যথাক্রমে ২, ০, ২ ও ৮ রান করা সৌম্য পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ওপেনিংয়ে জায়গা হারান। তার পরিবর্তে নাঈমের সাথে ইনিংস শুরু করে শেখ মেহেদী হাসান। উদ্বোধনী জুটিতেই বড় রানের সংগ্রহের ভীত পায় টাইগাররা। তবে সেটি ধরা রাখতে পারেনি। ওপেনিং জুটিতে মাত্র ৪ ওভার ৩ বলে ৪২ রান ওঠে স্কোর বোর্ডে। তাতে মনে হচ্ছিল বড় সংগ্রহ পেতে চলেছে টাইগাররা। যে পিচে প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচ হয়েছিল সে পিচেই হয়েছে শেষ ম্যাচটি। যেখানে সর্বোচ্চ স্কোর ১৩১ রানের। দুই ম্যাচই জয় পায় বাংলাদেশ দল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দলীয় ৪২ রানের সময় টার্নারের করা তৃতীয় বলে সজোরে হাঁকিয়েছিলেন মেহেদী। ব্যাটে-বলে হয়নি, হাত থেকে ফসকে যায় ব্যাট। মিড উইকেটে ধরা পড়েন অ্যাগারের হাতে। ১৩ রান করে আউট হন মেহেদী। মূলত এরপরেই বদলে যায় ব্যাটিংয়ের প্রেক্ষাপট। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় অজিরা। মন্থর হয়ে যায় রানের গতি। কেমন যেন আটকে যান সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নুরুল হাসান সোহানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ দল। মেহেদীর আউটের পর উইকেটে আসেন সাকিব আল হাসান। তবে তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি নাঈম। ড্যান ক্রিস্টিয়ানকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে তিনিও ধরা পড়েন অ্যাগারের হাতে, ফেরেন ২৩ বলে ২৩ রান করে। ইনিংসের দশম ওভারের শেষ বলে জাম্পাকে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন সাকিব। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরেন ২০ বলে ১১ রান করে। ৮৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই প্রথম এলবিডব্লিউ হলেন সাকিব। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ১৪ বলে ১৯ রান করে। ওপেনিংয়ে জায়গা হারিয়ে চার নম্বরে নামা সৌম্য ক্রিস্টিয়ানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ১৬ রান করে। প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত প্রথম ৬ বলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আফিফ শেষ ওভারে ১০ রান করে আউট হলে ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২২ রানে। শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ দল তুলতে পারে মাত্র ২০ রান। সংক্ষিপ্ত স্কোর : টস : বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইনিংস: ১২২/৮ (মেহেদি ১৩, নাঈম ২৩, সাকিব ১১, সৌম্য ১৬, মাহমুদুল্লাহ ১৯, আফিফ ১০, এলিস ২/১৬, ক্রিশ্চিয়ান ২/১৭, টার্নার ১/১৬)। অস্ট্রেলিয়া ইনিংস: ১৩.৪ ওভারে ৬২/১০ (ওয়েড ২২, ডরমেট ১৭, সাকিব ৪/৯, সাইফউদ্দিন ৩/১২, নাসুম ২/৮, মাহমুদুল্লাহ ১/৯)। ফল: বাংলাদেশ ৬০ রানে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ৪-১ এ সিরিজ জয়ী। ম্যাচসেরা: সাকিব আল হাসান সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার: সাইফউদ্দিন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)