ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নমুনা নেওয়া বন্ধ : কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে নমুনার পাঠানোর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। আবার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির নমুনা বা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট যারা নমুনা দিচ্ছেন এর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তবে অভিযোগ রয়েছে নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়ার ১০দিন পার হয়ে গেলেও ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল জানার আগেই করোনার উপসর্গ থাকা অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফল জানতে দেরি হওয়ায় সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে। এদিকে, গত রোববার থেকে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা বন্ধ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চুয়াডাঙ্গায় এখন শুধুমাত্র অ্যান্টিজেন ও জিন এক্সপার্ট মেশিনে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
করোনার উপসর্গ থাকায় গত জুলাই মাসের ২৯ তারিখে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা দেন সদর উপজেলার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম। নমুনা দেওয়ার ১১দিন পার হয়ে গেলেও ফলাফল না পাওয়ায় তিনি করোনা আক্রান্ত কি না, তা জানতে পারেননি।
রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার শরীরে ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ থাকায় ১ তারিখে সদর হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য নমুনা দিই। ২৫ মিনিট অপেক্ষার পরে জানতে পারি আমার ফলাফল নেগেটিভ। শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফলে ভরসা করতে না পেরে, ওই দিনই দুপুর ১২টার দিকে পিসিআর ল্যাব টেস্টের জন্য আরও একবার নমুনা দিই। কিন্তু ১১দিন পার হয়ে গেছে আমি ফলাফল পাইনি। তাই নিজ থেকেই বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছি। এখন শরীরে জ্বর নেই, তবে হালকা ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চার দিন ধরে ইয়োলো জোনে ভর্তি রয়েছি। ভর্তির আগেই পিসিআর টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছি এখনও ফলাফল পাইনি। অ্যান্টিজেন টেস্টে ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জ্বর, শ্বাসকষ্টও একেবারে যাচ্ছে না, তাই বাড়িতেও যেতে পারছি না। আমি করোনা আক্রান্ত কি না, এই নিয়ে দো-টানার মধ্যে পড়ে আছি।’
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরীক্ষার ফল পেতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব মানা যায় না। ফল পেতে দেরি হলে রোগী ও তাঁর স্বজনদের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপও তৈরি হয়। আবার উপসর্গ থাকা ব্যক্তি নমুনা দেওয়ার পর ফল পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অন্যদের জন্য তা বিরাট ঝুঁকিও তৈরি করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জ আমজাদুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ‘পিসিআর ল্যাবে নমুনা দিলে ফলাফল পেতে অনেক দেরি হচ্ছে। এদিকে যারা নমুনা দিচ্ছেন, তারা প্রতিদিন ফোন করছেন। ফলাফল পেতে দেরি হওয়ায় গত রোববার থেকে আমরা আর পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নমুনা নিচ্ছি না। এখন শুধুমাত্র অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। তবে উপসর্গ থাকার পরেও যাদের নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসছে, তবে ফলাফল সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে তাঁদের থেকে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে জিন এক্সপার্ট মেশিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে এত দেরি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসতে দেরি হচ্ছে। অনেকেই ফোন করে বলছেন পাঁচদিন আগে নমুনা দিয়েও ফলাফল পাইনি। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, বিভিন্ন জেলা থেকে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন নমুনা পাঠাচ্ছে। এত পরিমাণ নমুনা তাঁরা পরীক্ষা করে শেষ করতে না পারায় অনেক নমুনা পিসিআর ল্যাব একত্রে ঢাকায় পাঠাচ্ছে। সেখান থেকেও ফলাফল পেতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষও তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেরিতে পাচ্ছে। গত শুক্রবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ফোন দিয়েছিলেন, তিনি আমাদেরকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ৪০টি করে নমুনা দিতে বলেছে। একই জেলা থেকে এক সঙ্গে দুই জেলার ল্যাবে নমুনা দেওয়া যায় না। ঢাকা থেকেও কোন জেলার নমুনা কোন ল্যাবে যাবে, তা নির্ধারণ করা থাকায় ইচ্ছে মতো ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া যাবে না।’
নমুনা দিয়েও ফলাফল না পাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, শরীরে করোনা উপসর্গ না থাকার পরেও অনেকে অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য নমুনা দিচ্ছেন। করোনায় উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেওয়ায় যাদের শরীরে করোনা উপসর্গ নেই, তাদের চিকিৎসাও নেই। আবার অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসছে, অথচ শরীরে উপসর্গ রয়েছে তাদের উপসর্গ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
