ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জমজমাট নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, সেই স্মৃতি যেন ফিরিয়ে আনল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচি। প্রথম দিন শনিবার চুয়াডাঙ্গার বেশিরভাগ টিকাকেন্দ্রে দেখা গেছে আগ্রহীদের দীর্ঘ সারি। দেখে মনে হতেই পারে সেখানে ভোট চলছে। একেক করে প্রত্যেককে প্রবেশ করানো হচ্ছে কক্ষে; দেওয়া হচ্ছে টিকা। তবে দীর্ঘ লাইনে থাকা টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না। কেউ কেউ মাস্ক পরলেও বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক পরেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রেই পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে নিবন্ধন করা হচ্ছে। এরপর দেওয়া হচ্ছে টিকার প্রথম ডোজ। টিকা নিতে আসা বয়স্ক আবুল হাসেম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাবারে প্রথমে খুব ডরাইছিলাম। তাই টিকা নেই নাই। মেলাজনেই মেলা কথা কইছে। তারপরও টিকা নেই নাই। ভাবছিলাম কী না কী হয়। তয় আজকে দেখলাম অনেকেই নিবার আইলো। তাই আমিও তাগো পিছে পিছে আইছি আইডি কার্ড নিয়া। ‘আওয়ার নগে নগেই দেহি ডাক দিলো আমারে। ভিতরে ঢুকলাম। আইডি কার্ড নিল, কাগজে কী জানি লেখল আর মোবাইল নাম্বার জিগাইল...তারপরই সিরিঞ্জ বাইর কইরা ভিতরে ওষুধ ডুকাইয়া আমার ডাইন হাতের ডেনায় ডুকাইয়া দিল। এট্টুও দুক্কু পাই নাই। এহন আর ডর নাই।’
আবুল হাসেমের মতো সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে কেন্দ্রে টিকা নিতে আগ্রহীরা ভিড় করেছেন। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনার টিকা দিতে ৫৮টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। যার বিপরীতে বুথ ছিল মোট ১১৯টি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভা এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ৯টি কেন্দ্র ছিল। আর জেলার বাকি তিনটি পৌরসভায় ৩টি করে কেন্দ্র বসানো হয়েছিল। যেখানে ৯টি করে বুথ ছিল। আর প্রতিটি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি করে কেন্দ্র ছিল। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছেন, জেলায় গতকাল শনিবার টিকাদানের যে টার্গেট নেওয়া হয়েছিলো, সেই টার্গেটের প্রায় শতভাগ পূর্ণ করা হয়েছে।
তবে, জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোর সবকটিতে কম-বেশি ভিড় ছিল। মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়নি কোথাও। আবার কোথাও কোথাও নির্ধারিত পরিমাণের বেশি মানুষ টিকা নিতে এসে ফিরে গেছেন।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, কিছুদিন আগেও মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ কম ছিল। এখন সেই আগ্রহ বেড়েছে। কিন্তু, সচেতনতা বাড়েনি। তাই টিকা নিতে এসেও দূরত্ব মানছে না বা মাস্ক না পরেই চলে আসছেন অনেকে। করোনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
