ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন
করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন-এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
সমীকরণ প্রতিবেদন:
মহামারির মধ্যে গত প্রায় দেড় বছর থেমে থেমে ঘরবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন দেশের মানুষ। এ সময়টায় জনসমাগম এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে সর্বোচ্চ সচেতনতা। আর তাইতো একসঙ্গে এত মানুষের দীর্ঘ সারি দেশের মানুষের চোখে পড়েনি অনেকদিন। ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ আগস্ট থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে গণটিকা প্রয়োগ কার্যক্রম। এর আগেই গতকাল শনিবার থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেন। এতে পঁচিশোর্ধদের টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারীদের আপাতত টিকা দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল শনিবার এ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেনের প্রথম দিন রাজধানীসহ দেশের প্রায় সবগুলো কেন্দ্রে ছিল টিকা গ্রহীতাদের উপচে পড়া ভিড়। সরবরাহ কম থাকায় অনেককেই টিকা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে। এদিকে, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা:
পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রিজিয়া খাতুন প্রভাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এই গণটিকাদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। গণটিকাদান কার্যক্রম শুরুর সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত জেলার কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সরকার প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা দেওয়ার নিয়ম চালু করলেও এবার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েই টিকা নিতে পারছেন মানুষ।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, করোনার মহামারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত রাখতে তিনি ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করছেন। দেশের প্রতিটি গ্রাম অঞ্চলে টিকা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। আগে যেসব মানুষ টিকা নেওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন, তারাও এখন নিতে চাচ্ছেন। স্বেচ্ছায় টিকা নেওয়ার আগ্রহ বাড়ায় মহামারি অবসানের আশা তৈরি হয়েছে। সরকারের ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে শতভাগ সফল বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিসহ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য সফল করতে হবে। এসময় ছেলুন জোয়ার্দ্দার সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ভ্যাকসিন গ্রহণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ও অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৫৩টি কেন্দ্রে ১১৯টি বুথে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮ শ নারী-পুরুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দিনে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে টিকাকেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে তিনটি বুথ থাকবে। পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গায় প্রথম ডোজ নিয়েছেন অথচ দ্বিতীয় ডোজ পাননি এমন ২৭ হাজার মানুষ রয়েছেন। এখন টিকার কোনো সংকট নেই, তাই যারা প্রথম ডোজ নেওয়ার পরেও দ্বিতীয় ডোজ পাননি পর্যায়ক্রমে তাঁদেরকেউ টিকা দেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বুজরুকগড়গড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে আসা আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, সব মানুষের মতোই আমিও টিকা নিতে উৎসাহ আগ্রহ পাচ্ছি, তাই টিকা নিতে এসেছি। মেম্বারের কাছ থেকে শুনে কেন্দ্রে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই টিকা নিলাম। লাইন বড় ছিল না তাই সময় কম লাগেছে। এখন বাড়ি যাচ্ছি, তবে টিকা নিতে আসা সকলেই মাস্ক পড়লেও সামাজিক দূরত্ব স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ।
গণটিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন, চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্বিক) আবু তারেক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম, পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আতাউর রহমান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ প্রমুখ।
সরোজগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় সরোজগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি হাজি মো. আজিজুল হক বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজি মো. মজিবর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সচিব মো. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান সরেজমিনে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হিজলগাড়ী:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। হিজলগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ৩টি পৃথক বুথের মাধ্যমে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ শ জনকে সিনোফার্মার টিকা প্রদান করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার নিজে টিকা গ্রহণ করে গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়জুর রহমান, ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান, আলী কদর, আবু সালেহ প্রমুখ।
তিতুদহ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় তিতুদহ ইউনিয়নের বড়শলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হান্নান, সচিব জিয়াউর রহমান এবং গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু, সচিব হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাঈদ খোকন, হাফিজুর রহমান, লিটু ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যগণ।
আলমডাঙ্গা:
সারা দেশের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গায় শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৮টি কেন্দ্রে ৪৮টি বুথে ৯ হাজার ৬ শ ব্যক্তিকে এই টিকা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে টিকাগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, টিকাগ্রহণ কার্যক্রমে সাধারণত ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, সকালে শহরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নূর, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান কাদির গনু। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর সদর উদ্দিন ভোলা, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম আটজ, সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান, বণিক সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক বাবলুর রহমান, টিকাদানকারী আমিরুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান সোহাগ, তানিয়া খাতুন ও রুসা খাতুন।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নুর বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে গণটিকাদান কার্যক্রম চলছে। এখন মানুষ স্বেচ্ছায় টিকা গ্রহণ করছেন। এটি একটি পজিটিভ দিক। এই কর্মসূচির মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি করবে। ১৮ বছরের বেশি বয়স, কিন্তু ২৫ বছরের কম হলে টিকা নিতে পারবেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বুথে রেজিস্ট্রেশন করার সময় ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্পট রেজিস্ট্রেশন করানোর পর টিকা দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং, ভোটার হলেও বয়স ২৫ বছরের কম হলে তিনি টিকা গ্রহণ করতে পারবেন না। এসময় তিনি টিকা গ্রহণের পর কেন্দ্রে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। টিকা গ্রহণের পরও বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে পরামর্শ দেন তিনি।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার একযোগে সকাল ৯টায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভর তত্ত্বাবধানে এ টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সার্বিক সহযোগিতা করে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে, প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার দর্শনা মা ও শিশু হাসপাতালে, জুড়ানপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদে, কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, দামুড়হুদা ইউনিয়নের দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলে টিকা দেওয়া হয়।
প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে দেখা যায়, নারী এবং পুরুষের লম্বা লাইন। সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করার জন্য আসেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ৬ জনের লিস্ট করে দেওয়া হয়েছে। যাদের লিস্টে নাম আছে, তারাই কেবল এই টিকা গ্রহণ করতে পেরেছেন। টিকা চলাকালীন সঠিকভাবে টিকা দেওয়া কার্যক্রম চলছে কি না, তা তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া আফরিন ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ। সহযোগিতায় ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই আজিজ ও তার টিম।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ বলেন, দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়ন বাদে সকল ইউনিয়নে ও দর্শনা পৌরসভায় মোট ৪ হাজার ৮ শ টিকা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ১ হাজার ২শ মতো টিকা দেওয়া হবে।
দর্শনা:
দর্শনা পৌর এলাকায় করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় দর্শনা পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী।
ডাক্তার শুভ জানান, আরও দুই দিন রোবাবার ও সোমবার দর্শনা পৌর এলাকায় ৬ শ করে ১২ শ টিকা প্রদান করা হবে। তবে আগামী ১৪ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান করা হবে। দর্শনা পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের ২২টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৮ শ জনকে গতকাল টিকা প্রদান সম্পূর্ণ হয়েছে। দর্শনা পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে সুষ্ঠুভাবে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ শুভ দর্শনা পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন পারকৃষ্ণপুর-মদনা, কুড়ুলগাছী, কার্পাসডাঙ্গা, জুড়ানপুর, হাউলী ইউনিয়নের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এছাড়া দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান পৌর এলাকার ৩টি কেন্দ্র পরিদর্শন করে টিকা কার্যক্রম নিশ্চিত করেছেন।
জয়রামপুর:
দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ডিএস দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া আফরীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন, হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলাম, হাউলী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রায়হান আলী, স্বাস্থ্যকর্মী রাশিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যবৃন্দ, ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী সদস্যবৃন্দ, হাউলী ইউনিয়নের সদস্যগণসহ গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।
জীবননগর:
জীবননগরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে ২ হাজার ৯৮৯ জনকে কোভিড-১৯ এর গণটিকা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬ শ করে মোট ২ হজার ৪ শ জনকে এবং জীবননগর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডে ২ শ করে ৬শ জনকে সিনোফার্মার টিকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ শ জনের মধ্যে টিকা গ্রহণ করেন ৫৯৪ জন, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৫৯৮ জন, উথলী ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৫৯৭ জন এবং বাঁকা ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৬ শ জনকে টিকা প্রদান করা হয়। সকাল থেকে টিকা গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
এদিকে, জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে টিকা প্রদানের উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিউদ্দিন, জীবননগর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাহিদ বাবু, আবু সাঈদ মো. সাদ প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের মা ও শিশুবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা খাতুন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিয়ার রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক খান তারিক মাহমুদ, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মামুন, ইউপি সচিব হাসানুজ্জামান হাসান প্রমুখ।
উথলী:
সারা দেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার সময় উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে এই টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে টিকাদান কর্মসূচি। এসময় ইউনিয়নের উথলী, শিয়ালমারি ও একতারপুর গ্রামের ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ৬ শ জনকে টিকা দেওয়া হয়।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মহিউদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সালাউদ্দীন কাজল, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহম্মেদ প্রদীপ প্রমুখ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর পৌর এলাকায় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়ছে। গতকাল শনিবার সকালে মেহেরপুর পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেহেরপুর পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে একযোগে এ টিকা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মেহেরপুর পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ শ জন করে টিকা দেওয়া হয়। এসময় মেহেরপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বড়বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিএম কলেজ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হয়।
এদিকে, মেহেরপুরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন মেহেরপুরের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাফিজ-আল-আসাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রিপন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার, সদর থানার ওসি শাহ দারা খান, মুজিবনগর থানার ওসি আবুল হাশেম, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহীন।
বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর গণটিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত যাদুখালীসহ পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি ইউনিয়নভিত্তিক একটি কেন্দ্রে তিনটি করে বুথ খোলা হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে ২ শ জনকে টিকা প্রদান করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে নিয়োজিত ছিল দুইজন টিকাদান কর্মী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবক। টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুরু থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা গ্রহণ করেন।
টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুরু থেকেই সার্বিকভাবে তদারকি করেন পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রিপন। ট্যাগ অফিসার হিসেবে ছিলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মেহেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনওয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম শান্তি, প্যানেল চেয়ারম্যান ওহিদুর রহমান ডাবলু, ইউপি সদস্য আরজান আলী, আনারুল ইসলাম, হিমাদুল ইসলাম, স্বপন মিয়া, আরমান আলী, জয়নাল আবেদীন, মুর্শিদকুলি (মেগা) ও ইউপি সচিব এরশাদ আলী। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন।
গাংনী:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান। হিজলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাহারবাটি ইউনিয়ন গণটিকাদান কেন্দ্রে তিনি উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে জেলায় এস্ট্রাজেনিকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল সকাল থেকে। গেল ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রমে যারা প্রথম ডোজ পেয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন, তাঁদেরকে এস্ট্রাজেনিকার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নানা অব্যস্থাপনা দেখা দেয় টিকা প্রদানে। কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। সেই সাথে কেউ বজায় রাখেনি সামাজিক দূরত্ব। গাদাগাদি করে লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশ, আনছার ও চৌকিদাররা ছিল ঠুঁটো জগন্নাথ।
স্থানীয় মেম্বাররা জানান, তাঁরা টিকা গ্রহীতাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই আসেননি। আবার যাদের নামের তালিকা করা হয়নি, তাঁরা ভিড় জমাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের নামের তালিকা করা হয়েছে, তাদেরকে জানানো হয়নি।
নানা অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান শাওন জানান, টিকাদানের ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে। অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে থানায় ফোন করা হয়েছে। ফোর্স এসে সমাধান করবে।
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, হিজলবাড়িয়াতে উদ্বোধন হবে তা গেল রাত ১১টার দিকে জানানো হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যায়নি। আগেই যদি জানানো হতো, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে কর্মকর্তাদেরকে পাঠানো হয়েছে। অব্যবস্থাপনা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ:
সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহেও শুরু হয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচি। গতকাল শনিবার সকালে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন বক্তব্য দেন। আলোচনা সভা শেষে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
একই সময় সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে চলে টিকাদান কর্মসূচি। ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জেড এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনটি বুথ স্থাপন করে বয়স্ক ও নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হয়। অপর দিকে, শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদে টিকা নিতে সকাল থেকেই হাজির হয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে চলে গণটিকাদান কর্মসূচি। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পার্থ প্রতিম শীল। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহের ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভায় এ পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকাদান চলে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নের ১টি কেন্দ্রে ৩টি বুথে টিকা প্রদান করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় সরোজগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ হাসানুজ্জামান মানিক। এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি হাজি মো. আজিজুল হক বিশ্বাস, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজি মো. মজিবর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সচিব মো. মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান সরেজমিনে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হিজলগাড়ী:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। হিজলগাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ৩টি পৃথক বুথের মাধ্যমে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ শ জনকে সিনোফার্মার টিকা প্রদান করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন জোয়ার্দ্দার নিজে টিকা গ্রহণ করে গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়জুর রহমান, ইউপি সদস্য জিল্লুর রহমান, আলী কদর, আবু সালেহ প্রমুখ।
তিতুদহ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় তিতুদহ ইউনিয়নের বড়শলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন তিতুদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হান্নান, সচিব জিয়াউর রহমান এবং গড়াইটুপি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু, সচিব হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাঈদ খোকন, হাফিজুর রহমান, লিটু ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যগণ।
আলমডাঙ্গা:
সারা দেশের ন্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে আলমডাঙ্গায় শুরু হয়েছে গণটিকাদান কার্যক্রম। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৮টি কেন্দ্রে ৪৮টি বুথে ৯ হাজার ৬ শ ব্যক্তিকে এই টিকা দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে টিকাগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বেলা ৩টা পর্যন্ত।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, টিকাগ্রহণ কার্যক্রমে সাধারণত ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠী, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
এদিকে, সকালে শহরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নূর, পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাসান কাদির গনু। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর কাউন্সিলর সদর উদ্দিন ভোলা, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ. হামিদুল ইসলাম আটজ, সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান, বণিক সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক বাবলুর রহমান, টিকাদানকারী আমিরুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান সোহাগ, তানিয়া খাতুন ও রুসা খাতুন।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রনি আলম নুর বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে গণটিকাদান কার্যক্রম চলছে। এখন মানুষ স্বেচ্ছায় টিকা গ্রহণ করছেন। এটি একটি পজিটিভ দিক। এই কর্মসূচির মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনার তৈরি করবে। ১৮ বছরের বেশি বয়স, কিন্তু ২৫ বছরের কম হলে টিকা নিতে পারবেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বুথে রেজিস্ট্রেশন করার সময় ভোটার আইডি কার্ড দেখে স্পট রেজিস্ট্রেশন করানোর পর টিকা দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং, ভোটার হলেও বয়স ২৫ বছরের কম হলে তিনি টিকা গ্রহণ করতে পারবেন না। এসময় তিনি টিকা গ্রহণের পর কেন্দ্রে আধঘণ্টা অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন। টিকা গ্রহণের পরও বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে পরামর্শ দেন তিনি।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার একযোগে সকাল ৯টায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভর তত্ত্বাবধানে এ টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সার্বিক সহযোগিতা করে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে, প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার দর্শনা মা ও শিশু হাসপাতালে, জুড়ানপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, নতিপোতা ইউনিয়ন পরিষদে, কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, দামুড়হুদা ইউনিয়নের দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুলে টিকা দেওয়া হয়।
প্রতিটি টিকা কেন্দ্রে দেখা যায়, নারী এবং পুরুষের লম্বা লাইন। সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে টিকা গ্রহণ করার জন্য আসেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ৬ জনের লিস্ট করে দেওয়া হয়েছে। যাদের লিস্টে নাম আছে, তারাই কেবল এই টিকা গ্রহণ করতে পেরেছেন। টিকা চলাকালীন সঠিকভাবে টিকা দেওয়া কার্যক্রম চলছে কি না, তা তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া আফরিন ও দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ। সহযোগিতায় ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই আজিজ ও তার টিম।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ বলেন, দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়ন বাদে সকল ইউনিয়নে ও দর্শনা পৌরসভায় মোট ৪ হাজার ৮ শ টিকা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ১ হাজার ২শ মতো টিকা দেওয়া হবে।
দর্শনা:
দর্শনা পৌর এলাকায় করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় দর্শনা পৌরসভা কার্যালয়ের একটি কক্ষে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী।
ডাক্তার শুভ জানান, আরও দুই দিন রোবাবার ও সোমবার দর্শনা পৌর এলাকায় ৬ শ করে ১২ শ টিকা প্রদান করা হবে। তবে আগামী ১৪ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান করা হবে। দর্শনা পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের ২২টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৮ শ জনকে গতকাল টিকা প্রদান সম্পূর্ণ হয়েছে। দর্শনা পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে সুষ্ঠুভাবে টিকা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ শুভ দর্শনা পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন পারকৃষ্ণপুর-মদনা, কুড়ুলগাছী, কার্পাসডাঙ্গা, জুড়ানপুর, হাউলী ইউনিয়নের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এছাড়া দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান পৌর এলাকার ৩টি কেন্দ্র পরিদর্শন করে টিকা কার্যক্রম নিশ্চিত করেছেন।
জয়রামপুর:
দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুরে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ডিএস দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাজিয়া আফরীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহ, হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন, হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলাম, হাউলী ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রায়হান আলী, স্বাস্থ্যকর্মী রাশিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যবৃন্দ, ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী সদস্যবৃন্দ, হাউলী ইউনিয়নের সদস্যগণসহ গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ।
জীবননগর:
জীবননগরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে ২ হাজার ৯৮৯ জনকে কোভিড-১৯ এর গণটিকা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬ শ করে মোট ২ হজার ৪ শ জনকে এবং জীবননগর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডে ২ শ করে ৬শ জনকে সিনোফার্মার টিকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ শ জনের মধ্যে টিকা গ্রহণ করেন ৫৯৪ জন, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৫৯৮ জন, উথলী ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৫৯৭ জন এবং বাঁকা ইউনিয়নে ৬ শ জনের মধ্যে ৬ শ জনকে টিকা প্রদান করা হয়। সকাল থেকে টিকা গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
এদিকে, জীবননগর থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে টিকা প্রদানের উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিউদ্দিন, জীবননগর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ বিন হেদায়েত সেতু, জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাহিদ বাবু, আবু সাঈদ মো. সাদ প্রমুখ।
আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে করোনাভাইরাসের গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের মা ও শিশুবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদা খাতুন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম মধু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিয়ার রহমান, আইনবিষয়ক সম্পাদক খান তারিক মাহমুদ, আন্দুলবাড়ীয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মামুন, ইউপি সচিব হাসানুজ্জামান হাসান প্রমুখ।
উথলী:
সারা দেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার সময় উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে এই টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে টিকাদান কর্মসূচি। এসময় ইউনিয়নের উথলী, শিয়ালমারি ও একতারপুর গ্রামের ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ৬ শ জনকে টিকা দেওয়া হয়।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মহিউদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েশা সুলতানা লাকী, উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক সালাউদ্দীন কাজল, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহম্মেদ প্রদীপ প্রমুখ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর পৌর এলাকায় কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়ছে। গতকাল শনিবার সকালে মেহেরপুর পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন। এসময় সেখানে অন্যদের মধ্যে প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মেহেরপুর পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে একযোগে এ টিকা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মেহেরপুর পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ শ জন করে টিকা দেওয়া হয়। এসময় মেহেরপুর পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এস এম প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বড়বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেহেরপুর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিএম কলেজ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরপুর দারুল উলুম আহমদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হয়।
এদিকে, মেহেরপুরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার মো. রাফিউল আলম, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন মেহেরপুরের বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাফিজ-আল-আসাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রিপন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার, সদর থানার ওসি শাহ দারা খান, মুজিবনগর থানার ওসি আবুল হাশেম, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহীন।
বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর গণটিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। সারা দেশের ন্যায় গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত যাদুখালীসহ পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি ইউনিয়নভিত্তিক একটি কেন্দ্রে তিনটি করে বুথ খোলা হয়েছে। প্রতিটি বুথ থেকে ২ শ জনকে টিকা প্রদান করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে নিয়োজিত ছিল দুইজন টিকাদান কর্মী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবক। টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুরু থেকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবেই লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা গ্রহণ করেন।
টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুরু থেকেই সার্বিকভাবে তদারকি করেন পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রিপন। ট্যাগ অফিসার হিসেবে ছিলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মেহেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনওয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মাহবুবুল আলম শান্তি, প্যানেল চেয়ারম্যান ওহিদুর রহমান ডাবলু, ইউপি সদস্য আরজান আলী, আনারুল ইসলাম, হিমাদুল ইসলাম, স্বপন মিয়া, আরমান আলী, জয়নাল আবেদীন, মুর্শিদকুলি (মেগা) ও ইউপি সচিব এরশাদ আলী। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন।
গাংনী:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গণটিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান। হিজলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাহারবাটি ইউনিয়ন গণটিকাদান কেন্দ্রে তিনি উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে জেলায় এস্ট্রাজেনিকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল সকাল থেকে। গেল ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টিকাদান কার্যক্রমে যারা প্রথম ডোজ পেয়ে দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান ছিলেন, তাঁদেরকে এস্ট্রাজেনিকার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নানা অব্যস্থাপনা দেখা দেয় টিকা প্রদানে। কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। সেই সাথে কেউ বজায় রাখেনি সামাজিক দূরত্ব। গাদাগাদি করে লোকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পুলিশ, আনছার ও চৌকিদাররা ছিল ঠুঁটো জগন্নাথ।
স্থানীয় মেম্বাররা জানান, তাঁরা টিকা গ্রহীতাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই আসেননি। আবার যাদের নামের তালিকা করা হয়নি, তাঁরা ভিড় জমাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যাদের নামের তালিকা করা হয়েছে, তাদেরকে জানানো হয়নি।
নানা অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান শাওন জানান, টিকাদানের ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে। অব্যবস্থাপনা দূরীকরণে থানায় ফোন করা হয়েছে। ফোর্স এসে সমাধান করবে।
ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জানান, হিজলবাড়িয়াতে উদ্বোধন হবে তা গেল রাত ১১টার দিকে জানানো হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যায়নি। আগেই যদি জানানো হতো, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী খানম জানান, বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে কর্মকর্তাদেরকে পাঠানো হয়েছে। অব্যবস্থাপনা যাতে না হয়, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ:
সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহেও শুরু হয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচি। গতকাল শনিবার সকালে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এসময় বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম শাহীন বক্তব্য দেন। আলোচনা সভা শেষে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
একই সময় সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে চলে টিকাদান কর্মসূচি। ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জেড এ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনটি বুথ স্থাপন করে বয়স্ক ও নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হয়। অপর দিকে, শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদে টিকা নিতে সকাল থেকেই হাজির হয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে চলে গণটিকাদান কর্মসূচি। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়ারুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পার্থ প্রতিম শীল। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সারাদেশের ন্যায় ঝিনাইদহের ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভায় এ পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকাদান চলে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নের ১টি কেন্দ্রে ৩টি বুথে টিকা প্রদান করা হয়।
