ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে ১৫ জনের প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৬০৬ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় ২৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল এ জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের শরীরে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় টানা ২৮ দিন পর গতকাল করোনায় সর্বনিম্ন ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে জেলায় সর্বোশেষ গত মাসের নয় তারিখে সাতজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল শনাক্ত নয়জনসহ এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৭৬ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ৫৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৯টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৪৪টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৬.৯৮ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৯ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৬জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১ জন ও দামুড়হুদা উপজেলার ২ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ৬৬ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৪৬৫ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ৪৮টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধী অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় করোনা আক্রান্ত নতুন তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস নিশ্চিত করেছে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৭৫ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৮ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৩ হাজার ৬৮০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৩ হাজার ৫২৪টি, পজিটিভ ৬ হাজার ২৭৬ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৬২২ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৫৫১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭৭ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯৩ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৭৫ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৪ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের। গতকাল নতুন আক্রান্তদের ৩৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৪ জন, গাংনীতে ৫ জন ও মুজিবনগরের ৫ জন রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ১০৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩৪টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩১.৪৮ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ৩৪ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৪৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬৮ জন, গাংনী উপজেলায় ২৭৬ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯৯ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫৪ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৭০ জন, গাংনী উপজেলার ৫১ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৩ জন রয়েছে।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে আবারও বেড়েছে করোনায় প্রভাব। গত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৭ জনের শরীরে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত ৬ জন ও ইয়োলো জোনে উপসর্গ নিয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও শৈলকুপার ব্রহ্মপুর গ্রামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও ১ জনের। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ২২৩ জনে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া ল্যাবে ১৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৭টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৫.৬৮ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েচে ৮ হাজার ৯১ জনে।
সারাদেশ:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত বছরের মার্চ থেকে ভাইরাসটির সংক্রমণে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২২ হাজার ১৫০ জন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ হাজার ৬০৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৬০ জনের শরীরে। ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭০৭টি ল্যাবে করোনার ৪৮ হাজার ১৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ সময়ে সুস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৪৯৪ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৭জন। সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৩৮ জন, নারী ১১০জন। এর মধ্যে বিশোর্ধ্ব ৭, ত্রিশোর্ধ্ব ১৯, চল্লিশোর্ধ্ব ৩২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৬২ ও ষাটোর্ধ্ব ৬২, সত্তরোর্ধ্ব ৩৯, অশীতিপর ১৫ ও নুবতিপর ২ জন। বিভাগ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর পরই রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৬৯ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬, বরিশালে ২০, সিলেটে ১৬ রংপুরে ৮ ও ময়মনসিংহে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে ঈদুল আজহা-পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে দেশে। এই শাটডাউন শেষ হওয়ার আগেই এর মেয়াদ আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে বাসসহ গণপরিবহন চালু করা এবং দোকানপাট ও অফিস আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
