ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমরাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্ট বাদেই উত্তোলন করা হয়েছে। যেন-তেনভাবে কাজ করে টাকা ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেন শ্রমিকদের তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ মেম্বারের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে। টাকার ভাগ না দিয়ে আমজাদ হোসেন মেম্বার এখন আড়ালে-আবডালে চলাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। টাকার ভাগ না দেওয়ায় নগরবাথান বাজারে তাঁকে একবার নাজেহালও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুমরাবাড়িয়া ইউনিয়নের নাম না প্রকাশ শর্তে একাধিক ইউপি মেম্বার অভিযোগ করে বলেন, কালীতলা থেকে ধোপাবিলা গ্রামের রাস্তার কাজের জন্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে রাস্তাটি অর্ন্তভুক্ত ছিল। ৬ ইউপি মেম্বার মিলে আমজাদকে প্রকল্প সভাপতি করেন। কথা ছিল ৬০ হাজার টাকার মধ্যে প্রকল্পের যাবতীয় কাজ সারতে হবে। বাকি টাকার মধ্যে ইউনিয়নের সচিব, পিআইও অফিস ও ট্যাগ অফিসারের হিস্যা বুঝিয়ে দিয়ে বাদ বাকি টাকা ৭ মেম্বারের মধ্যে ভাগ হবে। কিন্তু প্রকল্প সভাপতি আমজাদ হোসেন উক্ত টাকা হলিধানী কৃষি ব্যাংক থেকে একাই তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কলিম উদ্দীন জানান, কাজের হিসাব না দিয়ে আমজাদ হোসেন এখন তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখছেন না। তবে কিছু একটা ঘটেছে।
শ্রমিকদের অ্যাকাউন্ট ব্যতীত কীভাবে প্রকল্পের টাকা প্রকল্প সভাপতি উত্তোলন করলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে হলিধানী কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার ফারহানা বিলকিস জানান, আগে থেকেই এমন নিয়মে টাকা উঠে আসছে। বিষয়টি তিনি বুঝতে না পেরে দিয়ে দিয়েছেন। খোঁজখবর ও আইন না জেনে এমনভাবে টাকা দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও ম্যানেজার জানান।
বিষয়টি নিয়ে কুমরাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমি এমন তথ্য পেয়েছি। তবে ঘটনাটি সঠিক বলেই মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা এভাবে উত্তোলন আইন বর্হিভুত। চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, আমজাদসহ কতিপয় মেম্বার এর আগে জেলা পরিষদের নির্বাচনে জনৈক সদস্যকে ভোট দিবে বলে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে বহুবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। মেম্বারদের নীতি-বিরোধী কাজকর্মে ইউনিয়নের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন।
ঝিনাইদহ পিআইও অফিসের প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান জানান, ইউনিয়নের সচিব, পিআইও অফিস ও ট্যাগ অফিসারের হিস্যা বলতে তারা কি বোঝাতে চেয়েছেন জানি না। তবে এই প্রকল্প থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। এটা শ্রমিকদের টাকা। জনৈক মেম্বার তাঁর অপকর্ম ঢাকতে এমন কথা বলছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, শ্রমিকদের অ্যাকাউন্ট ছাড়া ব্যাংক ম্যানেজার কীভাবে সব টাকা দিয়ে দিলেন?
বিষয়টি নিয়ে কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ইমারত হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আমজাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
