ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গে ১১ জনের প্রাণহানি
সারাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২ হাজার ৭৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে একের পর এক মৃত্যু ও সংক্রমণের রেকর্ড গড়ছে করোনাভাইরাস। কঠোর লকডাউন বা শাটডাউনেও কমছে না এই ভাইরাসের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পূর্বে করোনায় একদিনে এতো মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৭৪৪ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৯ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জন। করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের শরীরে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুজনের মৃত্যু হয়। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৯ জনের শরীরে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬৭ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ৩৭২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৫৯টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ৩১৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৫.৮৬ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৫৯ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২৮ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৪ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ১২ জন ও জীবননগর উপজেলার ৫ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ৫৫ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৯ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ২৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধী অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৭২ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৮ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২৩ হাজার ৬৩২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২৩ হাজার ৪৭১টি, পজিটিভ ৬ হাজার ২৬৭ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৬৭৮ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৬৯৯ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭৯ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯০ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৭২ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৭৫ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও চারজনের। গতকাল নতুন আক্রান্তদের ৭৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩১ জন, গাংনীতে ৩৯ জন ও মুজিবনগরের ৫ জন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ৩১১টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৭৫টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪.১১ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ৭৫ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৫১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮০ জন, গাংনী উপজেলায় ২৭৭ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯৪ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬৭ জন, গাংনী উপজেলার ৫০ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩৩ জন রয়েছে।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৮ জনের শরীরে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৯ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল ১৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২.৮৯ শতাংশ।
সারা দেশ:
গত ২৪ গণ্টায় করোনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১ হাজার ৯০২ জনে। এটিই দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১২ হাজার ৭৪৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ লাখ ২২ হাজার ৬৫৪ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৫২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এদিন পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৫টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৮৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৩ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৬৪ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৭৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৫ জন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন ও ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন ও মহিলা ১২৪ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৯ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, সিলেট বিভাগে ২৩ জন, রংপুর বিভাগে ১৮ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
