ছবির ক্যাপশন:
সারা দেশে আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫ হাজার ২৭১ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২৭১ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জনের শরীরে। মেহেরপুরে নতুন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা যান। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের রেড জোনে ও ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে অন্য দুজনের মৃত্যু হয়েছে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৪৩ জনের শরীরে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৯৪ জনে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ১৫৯টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৪৩টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১১৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৭.০৪ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৪৩ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ২১জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১১ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৫ জন ও জীবননগর উপজেলার ৬ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ৫৯ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৩ হাজার ৯০৩ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ৩৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর নিহতদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। উক্তা নমুনাগুলি কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার জন্য পেরণ করা হবে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৫৯ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৭ জনের।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২১ হাজার ২৬৩টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২১ হাজার ৮৮৭টি, পজিটিভ ৫ হাজার ৯৯৪ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৯১৫ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৮২৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৯১ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭৬ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৫৯ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জিন এক্সপার্ট ল্যাবে পরীক্ষিত ১১৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে এর মধ্যে ৩৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।
সারা দেশ:
প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২০ হাজার ২৫৫ জনে। এর আগে ২৭ জুলাই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ হাজার ২৭১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১২ লাখ ২৬ হাজার ২৫৩ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ হাজার ৯৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫২ হাজার ২৮২টি নমুনা।যেখানে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৬ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ৩৩৬ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫০ হাজার ২২০ জন।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ২৩৯ জনের মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৩ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৬৫ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১০ বছরের নিচে একজন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১২৩ জন ও মহিলা ১১৬ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৫ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ জন, খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪ জন, সিলেট বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
