ঈদে কোরবানি ৯১ লাখ গবাদিপশু

আপলোড তারিখঃ 2021-07-25 ইং
ঈদে কোরবানি ৯১ লাখ গবাদিপশু ছবির ক্যাপশন:
অবিক্রিত ২৯ লাখ পশু, গোশত রপ্তানির উদ্যোগ সমীকরণ প্রতিবেদন: এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল এক কোটি ১৯ লাখ গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়াসহ অন্যান্য গবাদিপশু। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছিল, এবার গবাদিপশু কোরবানি হবে, এক কোটি ৫ লাখ থেকে এক কোটি ১০ লাখের মতো। অর্থাৎ বাকি গবাদিপশু অবিক্রিত থেকে যাবে। কিন্তু সরকারের এই হিসাব বা টার্গেট পূরণ হয়নি। এবার সারা দেশে কোরবানি হয়েছে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু। অর্থাৎ প্রায় ২৮-২৯ লাখ গবাদিপশু (যার মধ্যে গরুই বেশি) অবিক্রিতই থেকে গেছে। কোরবানির জন্য সারা বছর গরুসহ অন্যান্য গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ করেও বিক্রি করতে পারেননি খামারি বা ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ জানান, আমরা ধারণা করছি করোনার কারণে মূলত গবাদিপশু কোরবানি কম হয়েছে। যদিও ঈদের আগে লকডাউন শিথিল করা হয়েছিল। ২৮-২৯ লাখ অবিক্রিত থেকে যাওয়ায় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তারা দুশ্চিন্তায় আছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে খামারিরা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তারা কোরবানির এক দেড় মাস আগেই গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত যদি কেউ হয় সেটা মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়ারা। আর তারাও যে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নয়। হয়তো তারা কোরবানিতে যেভাবে দাম আশা করেছিল সেভাবে পায়নি। আমাদের দেশে গোশতের চাহিদা বাড়ছে। গরুর গোশত সবসময়ই বিক্রি হয়। সুতরাং তারা বিক্রি করতে পারবে। হয়তো কোরবানির ১৫ দিন ওইভাবে গোশতের চাহিদা থাকবে না। এরপরেই চাহিদা বাড়বে। বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না তাদের। কোরবানির সময় যে দাম পেত সেই দাম হয়ত পাবে না। সামান্য কমবেশি হবে। জানা যায়, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ৯৩ লাখের কিছু বেশি। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এ বছর কোরবানির জন্য এক কোটি ১৯ লাখের মতো পশু প্রস্তুত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর কোরবানি হওয়া ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশুর মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু রয়েছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট বসেছিল। পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগসহ অন্যান্য দফত-সংস্থা, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ অন্যান্য বেসরকারি সংগঠন গবাদিপশুর ডিজিটাল হাট পরিচালনা করে। এ বছর অনলাইনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে, যার মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা। গত বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছিল ৮৬ হাজার ৮৭৪টি যার মূল্য ছিল ৫৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৯ টাকা। এ বছর গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি গবাদিপশু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রয় হয়েছে। আগামী বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: শেখ আজিজুর রহমান জানান, গত বছর ৯৩ লাখের কিছু বেশি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে এবার ঢাকায় পশুর দাম কম ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, লকডাউন হঠাৎ করে খুলে দেয়ায় সারা দেশ থেকে ঢাকায় গরু এসেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি বলেন, এই করোনায় মানুষ এখন স্বাস্থ্যসচেতন। অস্বাস্থ্যকর বড় সাইজের গরু তাদের পছন্দ কম। ছোট ৗ মাঝারির সাইজের দেশী গরুর চাহিদাই বেশি ছিল। তার মতে, বড় গরুর গোশত ছোট ও মাঝারি মতো অতটা সুস্বাদু নয়। তেমনি স্বাস্থ্যসম্মতও নয়। বেশির ভাগ বড় গরু বিদেশী। এসব গরু অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে, অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে খামারি ও ব্যবসায়ীদের খেয়াল রাখতে হবে। অবিক্রীত গরুর মধ্যে বড় সাইজের গরুও রয়েছে। যেগুলো ঈদ উপলক্ষেই মোটাতাজাকরণ করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে এসব গরু নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে খামারি বা ব্যবসায়ীদের। এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, বছরের অন্য সময়ে যে বড় গরু জবাই হয় না তা কিন্তু নয়। আর বড় গরু কিন্তু বেশি না। তিনি বলেন, কোরবানির সময় খামারি বা ব্যবসায়ীরা বড় গরুর অস্বাভাবিক দাম চায়। এই ধরুন আমরা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে গরুর গোশত খাই। কিন্তু কোরবানির হাটে বড় গরুর দাম অস্বাভাবিকভাবে চাওয়া হয়। তারা যেভাবে দাম চায় তাতে গোশতের ৩-৪ হাজার টাকা কেজিও পড়ে যায়। অতিরিক্ত লাভের আশা তারা করে। তবে, এ ধরনের গরুর সংখ্যা খুব কম। তবে নিরুৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা গোশত রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছি। বাজার খুঁজছি। সচিব বলেন, প্রতিনিয়ত ইয়াং জেনারেশন এই খাতে বিনিয়োগ করছে। এ খাত প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে। গোশতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছি। আস্তে আস্তে গোশতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পর অতিরিক্ত গোশত রফতানির প্রয়োজন হবে। সেজন্য আমারা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে বাজার খুঁজছি। সেজন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের অ্যাম্বাসিগুলো কাজ করছে। আমরা মূলত রফতানিতে (গোশত) যাব। রফতানির যেসব পূর্বশর্ত থাকে যেমন- রোগজীবাণুমুক্ত থাকতে হয়, অর্গানিক খাবারসহ যেসব কথা বলা হয় সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সুতরাং নিরুৎসাহিত হওয়ার কারণ নাই। বাজারটা প্রায় রেডি। মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের কিছু শর্ত থাকে, কোন ধরনের গোশত নেবে। হালাল গোশত নেবে। হালাল গোশত প্রোডাকশন কিভাবে হবে, সেই বিষয়ে লোকজনকে আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এরপরে অ্যানথ্রাক্স, পিপিআরমুক্ত হতে হবে। পিপিআর মুক্ত করার জন্য অলমোস্ট টিকা দিয়ে ফেলেছি। অ্যানথ্রাক্সেরও টিকা দিচ্ছি। সুতরাং এভাবে আমরা যদি পিপিআর-অ্যানথ্রাক্স মুক্ত করি তাহলে গোশত রফতানি সহজ হবে। অ্যান্টিবায়োটিক কমানোর চেষ্টা করছি। এটি একটা সমন্বিত কাজ। বাজার যেমন খুঁজতে হয় আবার কোয়ালিটি প্রোডাক্ট সাপ্লাই দিতে হয়। আমাদের খামারিদের অনেকেই এই বিষয়গুলো বুঝে না, ইগনোর করে। রফতানির ক্ষেত্রে আমরা খামারিদেরও প্রস্তুত করছি। ডিমোরালাইজড হওয়ার কিছু নেই।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)