ছবির ক্যাপশন:
'- অঞ্জন মল্লিক: প্রবাসের মাটিতে সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার পিছনে একটা গল্প থাকে। সেই গল্পে পথের বাঁকে বাঁকে থাকে সংগ্রামও। কখনও কখনও তা হয়ে দাঁড়ায় টিকে থাকার লড়াই। তেমনই এক গল্পের নায়ক চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় জন্মগ্রহন করা এদেশের কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মো.সাহিদুজ্জামান টরিক। সিঙ্গাপুর প্রবাসী এই ব্যবসায়ী ১৯৯৫ সালে সিঙ্গাপুরে যখন চাকরি নিয়ে যান, চাকরিতে যেমন সফল ছিলেন। আবার যখন ব্যবসা শুরু করলেন, সেখানেও সাফল্য পেতে বেশি সময় লাগেনি তাঁর। বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানী নিয়ে কাজ করছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একজন। দীর্ঘ ২০ বছরের প্রবাস জীবনে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করলেও হারিয়েছেন বাংলাদেশের বন্ধু-বান্ধব, সংস্কৃতি। মাঝে মধ্যে ওই স্মৃতিগুলো এখনও পীড়া দেয় তাঁকে। তিনি আশা করেন বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, বাঙ্গালাদেশও সিঙ্গাপুরের মত একটা দেশ হোক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক, তাহলে অনেক কিছু আমাদের দেশ থেকে দূর হয়ে যাবে। দেশের তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তিনি। মনে করেন তরুণরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'এনটিভি' প্রতিষ্ঠিত এই ব্যবসায়ীর জীবনী নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন করে এবং এনটিভি'র বিশেষ আয়োজন 'প্রবাস জীবন'র এপিসোড-৩ গত এপ্রিলে প্রচার করে। সচিত্র ভিডিও প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মো.সাহিদুজ্জামান টরিক ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। এরপরেই ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরি পেয়ে পাড়ি জমান। কয়েকবছর চাকরি করে পান সফলতা। এরপর ২০০২ সালে সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের একটি কোম্পানী দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। এরপর ২০০৭ সালে সাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট এবং সাহিদ ইন্টারন্যাশনাল নামের দুইটি কোম্পানি গড়ে তোলেন। পরে এবিসি নেটওয়ার্ক এবং ফাহমী ইন্টারন্যাশনাল নামের আরও দুইটি কোম্পানি করেন তিনি। বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানি মালিক তিনি।
সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (প্রাঃ) লিমিটেড, সাহিদ ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) লিমিটেড, এবিসি নেটওয়ার্ক (প্রাঃ) লিমিটেড, ফাহমী সিঙ্গাপুর (প্রাঃ) লিমিটেড, সাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট (প্রাঃ) লিমিটেডসহ বাংলাদেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
২০০২ সালে যখন ব্যবসা শুরু করেন তখন মাত্র একটা সাহিদ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস কোম্পানি ছিলো। ২০০৭ সালে সাহিদ অ্যাপার্টমেন্ট এবং সাহিদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির মাধ্যমে ট্রেডিং শুরু করেন তিনি। এছাড়া এবিসি নেটওয়ার্ক নামে একটি ইলেক্ট্রনিক্স ও কম্পিউটার ব্যবসা শুরু করেন। এখনও ক্যামেরা সল্যুশন করে আসছে তার কোম্পানী। বাংলাদেশেও এর একটি শাখা রয়েছে। ফাহমী ইন্টারন্যাশনালে গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসাও করছেন বিশ্ব ব্যাপী।
বাংলাদেশে পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব ছেড়ে দীর্ঘ ২০ বছর সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়ে যতটুকু সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ব্যবসায়ী। নিজের পরিবার নিয়ে সুখ শান্তিতেই প্রবাস জীবন পার করলেও তবুও কোথায় যেনো একটা ব্যথা, কষ্ট অনুভব করেন। প্রত্যোক জুন-জুলাই মাস এলেই মনে পড়ে বাংলাদেশের কথা। বর্ষাকালের কথা। শীতকালে শীতের পিঠা। যদিও পহেলা বৈশাখ, বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান সিঙ্গাপুরে পালন করেন। কিন্তু চারুকলা থেকে বের হয়ে টিএসসি চত্বরে যে প্রাণ সেই প্রাণ পাওয়া যায়না। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সিঙ্গাপুরে বসবাসরত সাহিদুজ্জামান টরিক মনে করেন, আমেরিকা ও ইউরোপ কান্ট্রির চেয়ে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশীদের জন্য অনেক ভালো একটি জায়গা। যেখানে বাংলাদেশীরা খুব সহজেই নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেন। তাছাড়া অন্যান্য দেশের মত সিঙ্গাপুরে সন্তানরা অবাধ্য হয় না। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনে নিজেকে ব্রত রেখেছেন। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহসহ দেশের জন্য ভাবেন সর্বদা। পিতা মৃত হাজি শামসুজ্জোহার প্রতিষ্ঠিত আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর কওমী হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানায় প্রত্যোকদিন ৩০০ ছাত্রের তিন বেলা খাওয়াসহ পড়াশোনার নিশ্চিত করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। এছাড়া চুয়াডাঙ্গাতে সাহিদ স্কয়ার নামে বহুতল ভবন গড়ে তোলে এই অঞ্চলের মানুষের আধুনিক ব্যবসায় সাহস জুগাচ্ছেন এই সোজা-সাপ্টা কথা বলা মানুষটি। আলহাজ্ব মো.সাহিদুজ্জামান টরিক নিজের পরিবার ভাই-বোন আত্মীয়স্বজনদের যেমন খোঁজ রাখেন পাশাপাশি গরীব অসহায়দের আর্থিকভাবে সাহায্য করে ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে দানবীর নামে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করেন যথাসময়ে। সামজিক দায়বদ্ধতায় নিরবিচ্ছন্ন অবদান রাখায় দেশ-বিদেশে বিশেষ সম্মাননা স্বরুপ স্মারক। সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি হিসেবে প্রবাসীদের পাশে থেকেছেন তাদের সুখ-দুঃখে। এছাড়া সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সমিতি প্রতিষ্ঠা করে এদেশের ব্যবসায়ীদের সম্মান তুলে ধরেছেন বিশ্বের দরবারে। এদেশের কৃতি সন্তান এশিয়া মহাদেশের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘সাহিদ গ্রুপ’ এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো.সাহিদুজ্জামান টরিকের মত সন্তান প্রতিটি ঘরে ঘরে জন্ম নিয়ে বাংলাদেশ নিয়ে যাক অন্যন্য উচ্চতায়।
