ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক তানুকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ডালিম কুমার রায় সাংবাদিক তানভীর হাসান তানুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্য দিকে তানুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর তানুর আইনজীবী আরিফুল ইসলাম তার জামিননামা আদালতে দাখিল করেন। এর পরই আদালতের হাজতখানা থেকে সাংবাদিক তানু মুক্ত হন।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের খাবারের অনিয়মসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পরে তিন সাংবাদিকের নামে মামলা করা হয়। গত শুক্রবার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নাদিরুল আজিজ চপল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলাটি করেন। পুলিশ পরদিন শনিবার রাতে তানভির হাসান তানুকে গ্রেফতার করে। মামলা পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাডভোকেট এমরান হোসেন চৌধুরী, ফজলে রাব্বি বকুল, অ্যাডভোকেট লিয়ন। তানু ইনডিপেনডেন্ট টিভি, দৈনিক ইত্তেফাক ও জাগো নিউজের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি। মামলায় নিউজবাংলা টুয়েন্টিফোরের সংবাদদাতা রহিম শুভ ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আবদুল লতিফ লিটুকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি তানভির হাসান তানু সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হন। তাই গ্রেফতারের পর অসুস্থবোধ করায় রাতে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের বিছানায় হাতকড়া লাগানো অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। তানুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতেই প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে গতকাল রোববার দুপুরে তানুকে ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে তোলা হলে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। অবিলম্বে তানভির হাসান তানুর বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যরা। গত ৫ জুলাই জাগোনিউজ টুয়েন্টিফোরসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে ‘আধুনিক সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের খাবারে অনিয়ম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে জানানো হয় করোনা রোগীদের দৈনিক ৩০০ টাকা করে খাবার বরাদ্দ থাকলেও কর্তৃপক্ষ ৭০-৮০ টাকায় নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করছেন, যা ভর্তিকৃত রোগীরা অভিযোগ করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নাদিরুল আজিজ চপল বাদি হয়ে তানুসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা দায়ের করেন।
তবে মামলার এজাহারেই হাসপাতালে খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার কথাটি স্বীকার করে নেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, লকডাউনের কারণে খাদ্য সরবরাহে দু-এক দিন ‘সামান্য ব্যত্যয়’ হয়েছে। আবার সংবাদটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী ও মানহানিকর উল্লেখ করে এজাহারে এ-ও দাবি করা হয় যে, এই সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য অসৎ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভাবমর্যাদা নষ্ট ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার মতো অভিযোগও আনা হয় মামলায়। তড়িঘড়ি করে আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, মামলার ১ নম্বর আসামি থানায় এসেছিলেন। পরে ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
