ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন ১৪৩, মেহেরপুরে ৫৩ ও ঝিনাইদহে আরও ৩১ জন আক্রান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে একদিনের ব্যবধানে কমেছে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮৫ জনের। এনিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৬ হাজার ১৮৯ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ হাজার ৭৭২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্র্গ নিয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪৩ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে মৃত্যু হয়েছে করোনায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। এছাড়াও গতকাল ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৩১জন।
চুয়াডাঙ্গা:
বৈশিক মহামারি করোনাভাইরাসের হটস্পট চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১৪৩ জনের শরীরে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চুয়াডাঙ্গার ৪৬৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১৪৩টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ৩২৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৪৩ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৪৬ জন, আলমডাঙ্গা ইপজেলার ৩০জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২৯জন ও জীবননগরের ৩৮ জন রয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০.৬৮ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৯২৭ জন, আলমডাঙ্গার ৭৬০ জন, দামুড়হুদায় ৯৭০ জন ও জীবননগরে ৮৮৫ জন। গতকাল জেলায় নতুন ১৩২ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মাট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৫৮২ জন।
গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে ছয়জন, ইয়োলো জোনে তিনজনসহ মোট নয়জনের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। এর মধ্যে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলায় ও করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চয়জন ও সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া অন্য পাঁজনের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হওয়া নতুন ছয়জনসহ জেলায় আক্রান্ত হয়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১২১ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬ জনের।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত বুধবার ৩৯৪টি, বৃহস্পতিবার ৩৮৭টি ও শুক্রবার ২৯টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৪৬৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ৪২৩টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৬ হাজার ৭৫৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৬ হাজার ৩০২টি, পজিটিভ ৪ হাজার ৫৪৯ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৩০ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৭০৭ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ১২৩ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩৭ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৫৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যবরণ করেছেন ৬ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গাংনীতে ৪৫ জন মুজিবনগর ৮ জন। গতকাল সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন প্রাপ্ত রিপোর্ট ১৫৬টি। তারমধ্যে ৫৩টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা পজেটিভ এর সংখ্যা ৭৫০ জন। তার মধ্যে সদরে ২১৩ জন, গাংনীতে ৪৩৬ জন এবং মুজিবনগরে ১০১ জন। এ পর্যন্ত করোনায় মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের। মৃতদের মধ্যে সদরে ২৭ জন, গাংনী ২৯ জন ও মুজিবনগরে ১৯ জন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে কৃষক লীগ, বিএনপি, জামায়াতের তিন নেতাসহ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই ফলাফল প্রকাশ করে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩১ জন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা গেছেন ৬ জন। এছাড়াও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন।
এদিকে ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ খান জানান, গতকাল শনিবার পর্যন্ত তারা ১৩৫ জনের লাশ দাফন করেছে। প্রতিদিন ৫-৬টা করে লাশ দাফন করতে করতে তাঁদের কর্মীরা অনেকটা হাফিয়ে উঠেছে। দিন-রাত খবর পেলেই শহর থেকে গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লাশ দাফন কমিটির সদস্যরা। অথচ তাঁদের যাতায়াতের জন্য গাড়ি নেই। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ নেই। তিনি আরাও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে দাফন কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ফলে মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে লাশ দাফন কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।
সারাদেশ:
সারা দেশে একদিনের ব্যবধানে দেশে করোনায় মৃত্যু কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৬ হাজার ১৮৯ জনে। গত ১৪ দিন ধরে করোনায় শতাধিক মৃত্যু দেখছে বাংলাদেশ। গতকাল ৯ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২১২ জন মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৭৭২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ হাজার ২৩১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৮৮৪টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৫ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৯ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৮৫ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৯২ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৩ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন ও ০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১২১ জন ও মহিলা ৬৪ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১২ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, রংপুর বিভাগে ১১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
