‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ বদলে গেল দৃশ্যপট, ব্যস্ত শহরে সুনসান নীরবতা

আপলোড তারিখঃ 2021-07-02 ইং
‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ বদলে গেল দৃশ্যপট, ব্যস্ত শহরে সুনসান নীরবতা ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরব উপস্থিতি, ছিল জোরদার টহল জেলার বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ৫৬ জনকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা মেহেরাব্বিন সানভী: হঠাৎ বদলে গেল দৃশ্যপট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা শহরের চিত্র অনেকটা অচেনা। গিজ গিজ করা সড়কে হঠাৎ মানুষের সংখ্যা একেবারেই কম। যানবাহনও তেমন ছিল না। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ যাতায়াত করছেন রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহনে করে। মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনা-বিজিবির জোর টহল। কোথাও কোথাও মোবাইল কোর্টের তল্লাশি। সারা দেশে কঠোর লকডাউন শুরুর প্রথম দিনে জনশূন্য ছিল পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর। বন্ধ ছিল সকল দোকানপাট ও শপিংমল। প্রতিদিন যে জায়গাগুলো লোকে লোকারণ্য থাকত, সে জায়গাগুলোতে ছিল না মানুষের ভিড়। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। যার অনেকটাই পূর্ণতা দিতে সহযোগিতা করেছে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হওয়া মুষলধারের বৃষ্টি। যারাই বের হয়েছিলেন বিশেষ প্রয়োজনে, তাঁদের হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরার মুখ পড়তে হয়েছে, না হয় জরিমানা গুণেই আবারও বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে ১৪টি মোবাইল কোর্টে ৫৪টি মামলায় ৫৬ জনকে ২৯ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আছে। জেলায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। এছাড়াও, স্ব স্ব উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে আছেন। প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, কঠোরভাবে প্রতিপালন করানো হবে এবারের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’। প্রথম দিনের লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি এবং নির্দেশনা না মানার অপরাধে জেলাজুড়ে ১৪টি মোবাইল কোর্টে ৫৪টি মামলায় ৫৬ জনকে ২৯ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে, যে বড় বাজার শহিদ হাসান চত্বরে সবসময় ভিড় লেগে থাকত, গতকাল বৃহস্পতিবার তার সবই ছিল ফাঁকা। সড়কে পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া আর তেমন কিছুই চলতে দেখা যায়নি। কিছু ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলতে দেখা গেছে, তবে তা একবোরেই সীমিত। হাতেগোনা কয়েকজন মানুষকেই বাইরে দেখা গেছে। সকালের দিকে বড় বাজারেও খুব বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। বৃষ্টির কারণে বাইরে যেমন বের হতে পারেননি মানুষ, ঠিক তেমনি সেনাবাহিনী মাঠে নামছে শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে যাঁরা বাইরে বের হতেন, তাঁরা বের হননি। শহরের শহিদ হাসান চত্বরের অবস্থা একেবারেই ফাঁকা ছিল। নিউ মার্কেট, আব্দুল্লাহ সিটি, ফাতেমা প্লাজা, প্রিন্স প্লাজাসহ সব মার্কেট শপিংমলই বেশ কয়েকদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। বড় বাজার বড় গলিতেও ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ প্রথম দিনে দোকানী আর পুলিশের লুকোচুরি খেলা দেখা যায়নি। তেমন কেউই লুকিয়ে দোকানপাট খোলেননি। সবমিলিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ প্রথম দিন ছিল সত্যিই লকডাউনের মতো। চুয়াডাঙ্গা শহর আবার নীরবতা পালনে মগ্ন হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, সাত দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশাসনের সাথে লকডাউন প্রতিপালন করাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার মাঠে আছে। আমরা কাজহীনদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। আশা রাখছি, এই লকডাউনের মধ্যে দিয়ে করোনা সংক্রমণের হার কমে আসবে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)