চুয়াডাঙ্গায় কোভিডে মৃত্যু শতক ছাড়াল

আপলোড তারিখঃ 2021-06-29 ইং
চুয়াডাঙ্গায় কোভিডে মৃত্যু শতক ছাড়াল ছবির ক্যাপশন:
নতুন করে মেহেরপুরে ৮১, ঝিনাইদহে ১৪৩ ও চুয়াডাঙ্গায় ৯৯ জন আক্রান্ত সারা দেশে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড, ১০৪ জনের প্রাণহানি সমীকরণ প্রতিবেদক: সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ হাজার ২৭৬ জনে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যেখানে বলা হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৪ জন। এনিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৭৭০ জনে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল ৭ হাজার ৬২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এরপর আজই সর্বোচ্চ শনাক্ত হলো। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৭৮৩ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৯টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫৭০ জন। এনিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৭ হাজার ৬৭৩ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১০৪ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৫৮ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন ও ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৫ জন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৬৮ জন ও মহিলা ৩৬ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ৭ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০৪ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫ জন, ঢাকায় ২৭, চট্টগ্রামে ১৯ জন, রাজশাহীতে ৭ জন, রংপুরে ৯ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন ও বরিশালে ২ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। জেলায় প্রতিদিন এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা শতকের ঘর ছাড়িয়েছে দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। এর মধ্যে জেলায় অবস্থানকালে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের ও জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। গতকাল উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও পাঁচজনের। একই সমেয় নতুন করে আরও ৯৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ জনে। গতকাল জেলায় নতুন ১১ জন সুস্থ হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৭৩ জন। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের শওকত আলীর ছেলে ফকির মোহাম্মদ (৮০) ও দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের মৃত মিরাজুল ইসলামের ছেলে আকবর আলী (৪৪)। করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া চারজন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার হায়দার আলী (৭২), দামুড়হুদা উপজেলার ফাতেমা বেগম (৬৫) ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াপাড়ার টিটু (৫১) ও দামুড়হুদা উপজেলার মকবুলের ছেলে মনির হোসেন (৫২)। এছাড়াও গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবিছউদ্দীন (৭০) নামের এক বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার বাসিন্দা। জানা যায়, করোনা আক্রান্ত ফকির মোহাম্মদকে গতকাল দুপুর ১টার দিকে সদর হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি করে পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দুইটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত রোববার রাত আটটায় রেড জোনে ভর্তি হন আকবর আলী। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়াও গত রোববার রাজশাহীতে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিয়া রহমান (৩০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের শান্তিপাড়া স্কুলমোড় এলাকার মিণ্টুর স্ত্রী। অনিয়া রহমান করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার তাঁর মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সোমবার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। করেনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ৩০৭টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করেছে জেলা স্বাস্থবিভাগ। এর মধ্যে ৯৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২০৮টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ৯৯ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩৮ জন, আলমডাঙ্গার ১৩ জন, দামুড়হুদার ১৩ জন ও জীবননগর উপজেলার ৩৫ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের ৩২.২৪ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৪৭২ জন, আলমডাঙ্গার ৫১৩ জন, দামুড়হুদায় ৭৭০ জন ও জীবননগরে ৫১০ জন। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত শুক্রবার ১৭টি, শনিবার ২৩২টি ও রোববার ২৭৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৩০৬টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ২৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৩ হাজার ৫৪১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১২ হাজার ৭৪৯টি, পজিটিভ ৩ হাজার ২৬৬ জন। জেলায় বর্তমানে ৯৯২ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এরমধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ৯৩১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬১ জন। গতকাল সোমবার করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে একজন ও হোম আইসালেশনে একজনসহ নতুন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩২ জন, আলমডাঙ্গায় ২১ জন, দামুড়হুদায় ২৬ জন ও জীবননগরে ১০ জনসহ ৮৯ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। মেহেরপুর: মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৮১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৫ জন, গাংনীত উপজেলর ৩৯ জন এবং মুজিবনগর উপজেলার ১৭ জন রয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা যায়, গতকাল মেগেরপুরে করোনা পরীক্ষিত ১৯৭টি নমুনার ফলাফল আসে এর মধ্যে ৮১টি নমুনার ফলাফল পজিটিভি। এনিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৯১ জন, গাংনীত উপজেলার ১৯৬ জন এবং মুজিবনগর উপজেলার ৯৮ জন। মেহেরপুরে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৫ জন, গাংনীর ১৯ জন ও মুজিবনগরের ১২ জন। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ১ জন, শৈলকুপায় ২ জন ও মহেশপুর ১ জনসহ মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। গতকাল ঝিনাইদহে নতুন ২০৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৪৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬৮.৭৫ শতাংশ। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)