ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানের আর ১০দিন বাকী। পবিত্র রমজান এলেই প্রতিবছরের ন্যায় জেলার এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী বাজারগুলিতে নিত্য প্রয়েজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করে থাকে। এবারের রমজানকে সামনে নিয়ে তেমনি আশঙ্কা করছে ক্রেতা সাধারণ। তবে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, কোনো অসাধু ব্যবসয়ী বা ফড়িয়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য গোপনে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ ও বাজার মনিটরিং করা হবে জানায়। কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান শুরুর আগে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। সিন্ডিকেট এবং মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রমজানের সপ্তাহ খানেক আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে অনেকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। এ অবস্থায় মজুদদারি ঠেকাতে রমজানের আগেই বাজার মনিটরিংয়ের সুপারিশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে হয়রানি প্রতিরোধে মজুদদারি আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। রমজানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা তৈরি হয় এমন পাঁচ পণ্য ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ক্রেতা সাধারণ। তবে বর্তমানে চাল, গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডিম, মুরগী, পেয়াজ এবং রসুনের অতিরিক্ত দাম বাড়তি অস্বস্তি এনে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকরা ন্যায্য দাম না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের পোয়াবারো বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গার রেলবাজার ও নিচের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রমজানে চাহিদা তৈরি হবে এমন পাঁচ পণ্যের দাম রমজানের ১০ দিন আগেই কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত। চিনি অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। এক বছরে যার ২৮ শতাংশ দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। তবে উন্নত মসুর ডালের বাজার দর কমেছে। কেজি প্রতি ৯০ টাকা থেকে বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। রমজানকে সামনে রেখে মসুর ডালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ৪৯০-৫১০ টাকায়। এ ক্ষেত্রে গত এক বছরে দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। জাত ও মানভেদে দাম ১৭ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৪০-৪০০ টাকায়। শুধুমাত্র কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৫-৩০ টাকায় প্রতি কেজি। উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া দাম বেড়ে গরুর মাংস ৪২০-৪৬০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৩০-৬৭০ টাকায়। এযাবতকালের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে রসুন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি রসুন।
চাকুরীজীবি এক ক্রেতা মো. রাজু আহম্মেদ জানান, হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়ার কারণে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রোজার এক সপ্তাহ আগ থেকেই বাজার গরম হয়ে উঠেছে। পণ্য মূল্য ক্রমেই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন বাড়েনি। রোজার মাস এবার যে কীভাবে চলবো সে ভাবনায় দিশেহারা হতে হচ্ছে।
চাউলের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মোটা চালের দাম হু..হু করে বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। যে চাউল সপ্তাহ দু’য়েক আগে ৩৫-৪০ টাকা তা এখন ৪৫-৫০ টাকা অপরিবর্তিত। আটাশ চাউল ৪০-৪৫ টাকা থেকে দাম বেড়ে ৫০-৫৫ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া আমিষের প্রধান উৎস গরু, খাসি ও ব্রয়লার মুরগির দাম না কমলে সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট আরো বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে জিনিসপত্রের দাম কিভাবে নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার, আমদানিকারক, পাইকার, মিল মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের জরুরী বৈঠক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।
এদিকে রমজানে ডাল, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, খেজুর ও ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে পেঁয়াজ ছাড়া সব পণ্যের দাম বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে প্রতি বছরই ভোগ্যপণ্যের বাজারের একই চিত্র। ছোলা, চিনি এবং তেলের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য নিয়ে চলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজি। পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যেরদাম বাড়িয়ে দেয় এসব ব্যবসায়ীরা। পুরো রমজান মাসে বাংলাদেশে চিনির চাহিদা থাকে প্রায় চার লাখ টন। এ ছাড়া ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে সোয়া ২ লাখ টন ও ছোলা দেড় লাখ টন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশক সমিতির সভাপতি হাজী মো. সালাউদ্দিন চান্নু বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার বাজারে এখনও তেমন তোড়জোড় শুরু হয়নি। তবে দ্রব্যমূল্য এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। এবার রমজানে কোন কৃত্রিম সঙ্কট বা মূল্যবৃদ্ধি হতে দেওয়া হবে না। তবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং পণ্য আমদানিতে ভ্যাট কমানো হলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হয়রানি প্রতিরোধে মজুদদারি আইন সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। তাছাড়া পুরো রমজান মাস জুড়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা সচল রাখা হবে। এব্যাপারে মঙ্গলবার বাজার মনিটরিং কমিটি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনারও প্রস্তুতি চলছে।
