চুয়াডাঙ্গায় করোনা ও উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু, ৫৯ জন আক্রান্ত

আপলোড তারিখঃ 2021-06-21 ইং
চুয়াডাঙ্গায় করোনা ও উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু, ৫৯ জন আক্রান্ত ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহে চারজনের প্রাণহানি, ৯০ জন শনাক্ত; মেহেরপুরে আরও ৩৪ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গায় থামছেই না করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। সারা দেশের ন্যায় এ জেলাতেও এখনো তাণ্ডব চালাচ্ছে অদৃশ্য ভাইরাসটি। এরই মধ্যে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ জন। গতকাল আলমডাঙ্গা উপজেলায় নতুন একজনসহ জেলায় মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ জনে। গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে তিনজন ও জীবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনসহ আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার অদৃশ্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের গড়গড়ি গ্রামের হঠাৎপাড়ার শাহাজুদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫০)। গত ১৬ জুন র‌্যাপিড টেস্টে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করে। পরে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চলে যান। আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদে থেকে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িটি লকডাউন করে লাল পতাটা টাঙানো হয়। এ নিয়ে গ্রামের মানুষসহ পরিবারের সদস্যদের সমালচনার মুখে গতকাল ভোড়ে নিজ ঘড়ে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে উপসর্গ নিয়ে নিহতরা হলেন, ‘দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার ইশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর স্ত্রী শিল্পি খাতুন (৩০), একই উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের মৃত ওসমান মণ্ডলের ছেলে আব্দুল করিম (৬৫) ও বিষ্ণপুর গ্রামের মদন মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৫৫)। জীবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন জীবননগর পৌর শহরের থানা পাড়ার দোস্ত মোহাম্মদের ছেলে সুমন হোসেন (৩৭)। গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫৯ জন। গতকাল কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ১১৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৯ জনের নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ৫৯ জনসহ জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫০ জনে। নতুন আক্রান্ত ৫৯ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১৮ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৯ জন ও জীবননগর উপজেলার ১৭ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ২৪১ জন, আলমডাঙ্গার ৪৩৯ জন, দামুড়হুদায় ৬৫৫ জন ও জীবননগরে ৩১৫ জন। গত শনিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১২৮টি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত মোট ১১৮টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এর মধ্যে ৫৯ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে, বাকী ৫৯টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ। এদিকে গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ১৩৬ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে গতকালের ১৩৬টি নমুনাসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রেরণকৃত ৪৭৯টি নমুনার ফলাফল পেন্ডিং রয়েছে। গতকাল জেলা থেকে সদর উপজেলার ১১জন, দামুড়হুদার ৩০জনসহ মোট ৪১ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১১ জন, আলমডাঙ্গার ৩৫০ জন, দামুড়হুদার ৪২১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৮৮ জন। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১১ হাজার ৯১২টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১১ হাজার ৪৩৩টি, পজিটিভ ২ হাজার ৬৫০ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৫৮৮ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৯ জন, আলমডাঙ্গায় ৭০ জন, দামুড়হুদায় ২০৮ জন ও জীবননগরে ১১১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৫৩১ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭৫ জন, আলমডাঙ্গায় ৬৩ জন, দামুড়হুদায় ১৮৯ জন ও জীবননগরে ১০৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ২৩ জন, আলমডাঙ্গার ৫ জন, দামুড়হুদার ১৭ জন ও জীবননগরের ৭ জন জনসহ মোট ৫৩ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৭ জন, আলমডাঙ্গায় ১৮ জন, দামুড়হুদায় ২৩ জন ও জীবননগরে ৬ জনসহ ৭৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৪ জন। মেহেরপুর: মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৭ জন, গাংনীতে ৫ জন এবং মুজিবনগরে ২ জন। গতকাল রোববার মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল নতুন প্রাপ্ত রিপোর্ট ৮৯টি নমুনার ফলাফলের মধ্যে ৩৪টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছে ২৯১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৯৯ জন, গাংনীতে ১১৪ জন এবং মুজিবনগরে ৭৮ জন। মেহেরপুরে এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে সদর উপজেলার ১৩ জন, গাংনী উপজেলার ১৩ জন এবং মুজিবনগরে ৭ জনসহ ৩৩ জন। ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে বেড়েছে করোনায় আক্রান্তের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ৯০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও চারজন। এর মধ্যে ঝিনাইদহে দুইজন ও মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজন মারা গেছেন। শহরের আরাপুর এলাকার চাঁদপাড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে শাহ আলম (৫০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ক্যানসার আক্রান্ত এক শিশু করোনায় মারা গেছেন। হাসপাতালের ক্যাশিয়ার আব্দুস সালামসহ অন্তত ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। তাঁদের প্রত্যেকের হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইদহ করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ডা. জাকির হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মানুষ নিয়মের মধ্যে না আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ভারতের মতো মৃত্যুর মিছিল শুরু হতে পারে। কিন্তু এতো প্রচার-প্রচারণার পরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। তিনি বলেন, গত শনিবার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিটের শয্যা বাড়িয়ে প্রায় একশ করা হয়েছে। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গতকাল রোববার সকালে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ১৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এদের মধ্যে ৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫৪ দশমিক ৮৭ ভাগ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ জনে। তবে ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত তারা করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত ৮১ জনের লাশ দাফন করেছে। এর বাইরেও অনেকের পরিবার নিজ দায়িত্বে স্বজনদের লাশ দাফন করেছে। এদিকে, ঝিনাইদহ জেলায় করোনার সংক্রমণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। হাট-বাজার, দোকানপাট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক, ছাড়াই কেনা-বেচা করছেন ক্রেতারা। শহরের চলাচলে বিধি-নিষেধ থাকলেও নিদের্শনা থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, ৫০ বেডের করোনা ওয়ার্ডে ৫১ জন রোগী ভর্তি আছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আরও ৫০ বেডের একটি নতুন করোনা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য মানুষের লাইন প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)