ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ : নতুন ৪৩ জনসহ শনাক্তের হার ৬৭.১৯ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় প্রতিদিন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে প্রবাহিত হচ্ছে দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের বিবেচনায় এটাই সর্বোচ্চ হার ৬৭.১৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। গতকাল উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। করোনা আক্রান্ত হয়ে নিহত ব্যক্তিরা হলেন দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের মৃত জবেদ আলীর ছেলে রহমত আলী (৭৫) ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একই উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত সিরজুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৬৫)। এদিকে, মেহেরপুরে করোনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এছাড়া ঝিনাইদহে করোনাক্রান্তে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গত ১১ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন দামুড়হুদা উপজেলার চারুলিয়া গ্রামের রহমত আলী। পরদিন তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে রহমত আলীর মৃত্যু হয়। এদিকে, গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে শহিদুল ইসলামের। শহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানায়, কয়েকদি যাবত ঠাণ্ডা-জর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন শহিদুল। গতকাল দুপুরের পর অবস্তার অবনতি হওয়ায় বিকেল ৪টার তাঁকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস তাঁকে ইয়োলো জোনে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রহমত আলীর মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাহেত্ আকরাম বলেন, ‘গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শহিদুল ইসলামকে বিকেল চারটার সময় ইয়োলো জোনে ভর্তি করা হয়। ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তির ৩০ মিনিট পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ শেষে করোনা প্রটোকলে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’
এদিকে, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহমত আলীর মৃত্যু হয়। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ১২ জুন রেড জোনে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোলকে লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’
অপরদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬৭.১৯ শতাংশ। নতুন আক্রন্ত ৪৩ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ১৯ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১২ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৬ জন ও জীবননগর উপজেলার ৬ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৪৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১৬৬ জন, আলমডাঙ্গার ৪১২ জন, দামুড়হুদায় ৫৮২ জন ও জীবননগরে ২৮ জন।
গত বুধবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য চার উপজেলা থেকে ১৩১টি ও গত মঙ্গলবার ১৭০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত মোট ৬৪টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এর মধ্যে ৪৩ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে, বাকী ২১টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ।
এদিকে গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ১৪৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রেরণকৃত ৬৫৯টি নমুনার ফলাফল পেন্ডিং রয়েছে।
গতকাল সদর উপজেলা থেকে ২ জনকে সুস্থতার সনদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯৮ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪৫, দামুড়হুদার ৩৯১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৪২জন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১১ হাজার ৬৪৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১০ হাজার ৯৮৯টি, পজিটিভ ২ হাজার ৪৪৭ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৪৪২ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৪৯ জন, দামুড়হুদায় ১৬৮ জন ও জীবননগরে ৮৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৩৯৮ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৮ জন, আলমডাঙ্গায় ৪১ জন, দামুড়হুদায় ১৫৪ জন ও জীবননগরে ৮৭ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১৯ জন, আলমডাঙ্গার ৭ জন, দামুড়হুদার ১২ জন ও জীবননগরের ২ জন জনসহ মোট ৪০ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ২১ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৪ জন।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহেরা খাতুন (৬০) ও আব্দুল হান্নান (৬৫) নামের দুইজন করোনা রোগী মারা গেছেন। এনিয়ে জেলা ৩০ জন করোনা আক্রান্ত মারা গেলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সাহেরা খাতুন এবং ১০টার দিকে আব্দুল হান্নান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাহেরা খাতুন মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী এবং আব্দুল হান্নান গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের রহিম বক্সের ছেলে।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) মোখলেসুর রহমান জানান, সাহেরা খাতুন গত ১৫ জুন এবং আব্দুল হান্নান গত ১০ জুন করোনা পজিটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদেরকে আইসিউতে রাখা হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁকে দাফনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৪ জন। এর মধ্যে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৩ জন। এদের মধ্যে আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ল্যাব থেকে আসা ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদরে ৭, হরিণাকুণ্ডুতে ৬, কালীগঞ্জে ১২ ও মহেশপুরে ৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট ৩ হাজার ২২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হলো। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মারা গেছেন ১ জন। জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৬১ জনে।
