ছবির ক্যাপশন:
খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগামীকাল শনিবার তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্যের বিনিময়ে পরীক্ষা গ্রহণের আগেই তিনটি পদের জন্য তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাড়াগোদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বেই অফিস সহায়ক পদে গড়াইটুপি গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে হাবিবুর রহমান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে খাড়াগোদা গ্রামের হামির আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন ও আয়া পদে কালুপোল গ্রামের তহিরন খাতুনের নাতনী স্বর্ণালী আক্তার। পরীক্ষা গ্রহণের আগেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই তিনজন প্রার্থী চাকরি পাচ্ছেন। আগামীকাল শনিবার নিয়োগ পরীক্ষা শুধুমাত্র ফরমালিটি মেইনটেইন।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দিয়েছে। নিয়মানুযায়ী অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার ৭ কার্যদিবস পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কারণ প্রার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে। যথাসময়ে উপস্থিত হতে প্রার্থীরও যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৫ তারিখ অ্যাডমিট দিয়ে আগামীকাল শনিবার মাত্র চারদিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। যা ম্যানুয়াল বহির্ভুত।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য কালাম মালিতা, সাজলী খাতুন, বিদ্যুৎসাহী সদস্য আসাদুল ইসলাম রোকন ও দাতা সদস্য তহমিনা খাতুন যৌথ লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য হওয়ার পর থেকে যেগুলো নিয়োগ হয়েছে, একটাও সঠিক না। প্রতিটি নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ-বাণিজ্য হয়েছে। এ নিয়োগও ব্যতিক্রম নয়। এর আগে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও তা এখনো তদন্ত বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। চলতি নিয়োগও অর্থের বিনিময়ে হচ্ছে, আমরা এর বিরোধী। অফিস সহায়ক পদে হাবিবুর, পরিচ্ছন্নতা কর্মীতে সোহাগ ও আয়া পদে স্বর্ণালী খাতুন নামের তিনজনকে অলরেডি পরীক্ষার আগেই সিলেক্ট করা হয়ে গেছে।’
পরীক্ষার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু ম্যানুয়াল বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রতিহিংসামূলক এ কথা রটিয়েছে। নিয়মের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আপনারা চাইলে পরীক্ষার দিন এসে তদন্ত করতে পারেন’।
