ছবির ক্যাপশন:
সারা দেশে করোনায় আরও ৩৯ জনের প্রাণহানি, নতুন শনাক্ত ১৬৩৭ জন
এবার করোনায় আক্রান্ত হলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ হাজার ৭১ জনে। একই সময়ে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩৭ জন। এনিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১০৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৪ জন। এই সময়ে ১১ হাজার ৬৬১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯০টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ খুলনা বিভাগে ১১ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ১০, চট্টগ্রামে ৬ জন, রাজশাহীতে ৭, বরিশালে ২ ও সিলেটে ১ জন ও রংপুরে ২ জন মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এদের মধ্যে বাসায় ৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২০ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৪ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় একদিনে আরও ৩৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ এ তথ্য জানায়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৬৬ শতাংশ। এদিকে নতুন আক্রন্ত ৩৭ জনের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলারই ২০ জন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ২ জন, আলমডাঙ্গার ৩ জন ও জীবননগরের ১২ জন রয়েছে। আক্রান্তদের বয়স ২১ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২২২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৮৯ জন, আলমডাঙ্গার ৩৮৫ জন, দামুড়হুদায় ৪৯৮ জন ও জীবননগরে ২৫০ জন।
জানা যায়, গত ৯ জুন ৮০টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে, শনাক্তের হার ছিল ৪৬.২৫ শতাংশ। গত শুক্রবার ৩৯ জনে ১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়, শনাক্তের হার কমে ২৩ শতাংশে দাড়ায়। এদিকে গতকাল ৫৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ এসেছে। এতে এ জেলায় করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে।
গত শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা থেকে নতুন কোনো নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেনি। গতকল শনিবার পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে মোট ৫৬টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৩৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৯টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় এক সপ্তাহে শনাক্তের হার দাঁড়াচ্ছে ৪২.৩৩ শতাংশ ।
গতকাল শনিবার জেলায় করোনা থেকে আরও ২৩জন সুস্থ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার তিনজন ও দামুড়হুদার ২০ জন। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯৫ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪৩, দামুড়হুদার ৩৫১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫১ জনে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ৯৫৪টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১০ হাজার ৫৩১টি, পজিটিভ ২ হাজার ২২২ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ২৬৫ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন, আলমডাঙ্গায় ২২ জন, দামুড়হুদায় ১৩০ জন ও জীবননগরে ৪৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ২২৪ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫০ জন, আলমডাঙ্গায় ১৮ জন, দামুড়হুদায় ১০৯ জন ও জীবননগরে ৪৭ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১৪ জন, আলমডাঙ্গার ৩ জন, দামুড়হুদার ২০ জন ও জীবননগরের ১ জন জনসহ মোট ৩৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৩ জন। এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেনের কোভিড-১৯ এর রির্পোট পজিটিভ এসেছে। তিনি বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। তাঁর সুস্থতা কামনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ শুভাকাঙ্খিরা সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
