সারা দেশে করোনায় প্রাণহানি ১৩ হাজার ছাড়াল, নতুন শনাক্ত ২৪৫৪ জন
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ হাজার ৩২ জনে। একই সময়ে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৫৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪৯ জনে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯১৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৭৭৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৩৫টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৪ জনের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের ১১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০, ঢাকায় ৮ জন, খুলনায় ৭, রংপুর ৪ ও ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এদের মধ্যে বাসায় ১ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ২৪ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ১১, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৪ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তিনজনসহ জেলায় নতুন করে আরও ১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত নয়টায় জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ এ তথ্য জানায়। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৮৫ জন। নতুন আক্রন্ত ১০ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়িপাড়ার দুইজন ও ঠাকুরপুরের একজনসহ তিনজন, আলমডাঙ্গা উপজেরার একজন ও দামুড়হুদা উপজেলায় কুড়ালগাছি, দশমীপাড়া, পিরপুর কুল্লাহ, চারুলিয়াগ্রামসহ মোট ছয়জন। আক্রান্তদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও তিনজন নারী। আক্রান্তদের বয়স ২১ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য জেলা থেকে ১৩৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ মোট ৩৯টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১০ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২৯টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২০.৮৪ শতাংশ।
গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও চারজন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৯২ জন, আলমডাঙ্গার ৩৪৩, দামুড়হুদার ৩৩১ ও জীবননগরে ১৯৭ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম ও হাসপাতাল আইসোলেশনে থাকা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৫১ জনে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১০ হাজার ৮৬৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১০ হাজার ৪৭৫টি, পজিটিভ ২ হাজার ১৮৫ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ২৫১ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ জন, আলমডাঙ্গায় ১৯ জন, দামুড়হুদায় ১৩০ জন ও জীবননগরে ৩৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ২১০ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫১ জন, আলমডাঙ্গায় ১৪ জন, দামুড়হুদায় ১১০ জন ও জীবননগরে ৩৫ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ১৪ জন, আলমডাঙ্গার ৪ জন, দামুড়হুদার ১৯ জন ও জীবননগরের ১ জন জনসহ মোট ৩৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্য ৩ জন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমতউল্লাহ বদ্দির মৃত্যু হয়। গত বুধবার ঢাকা যাওয়ার পূর্বে তিনি করোনা পরীক্ষার নমুনা দেন। গতকাল পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে তাঁর নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ৯ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২৪ জন। গতকাল মৃত্যু হওয়া দুজন মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বাগোয়ান ইউনিয়নের আনন্দবাস ও মানিকনগর গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার নিজ বাড়িতে একজন এবং হাসপাতালে অন্য জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- আনন্দবাস গ্রামের সালেহার খাতুন (৭০) ও মানিকনগর গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বর ইছার উদ্দীন (৭৫)। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দীন জানান, গেল ৩১ মে সালেহার খাতুন এবং ৭ জুন ইছার উদ্দীন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হন। সালেহার খাতুন নিজ বাড়িতে এবং ইছার উদ্দীন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু বরণ করেন। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
