ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: `মা` জন্মের পর থেকে জেনে আসা অলৌকিক এক শব্দ, যার উপমা শুধু গর্ভধারিণী মা নিজেই। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসার প্রকাশ কোনো দিবস উদযাপনে শেষ হবে না। সন্তান হিসেবে মায়ের প্রতি সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আজকের পর থেকে কোনও মায়ের স্থান যেনো বৃদ্ধাশ্রমে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল রবিবার বিশ্ব মা দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে তাঁর মাকে নিয়ে নিজের জীবনের স্মৃতিচারণও করেন। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব মা দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, মেহেরপুর ও মুজিবনগরে র্যালী, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ চাকুরীরত অবস্থায় মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আমি তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে একটি উপজেলাতে কর্মরত ছিলাম। একদিন চাকুরীরত ওই জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে একটি মিটিংয়ে ছিলাম। এমন সময় খবর আসে আমার মা গুরুতর অসুস্থ্য, তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তখন ডিসি স্যারকে আমার মায়ের অসুস্থ্যতার কথা জানাই। জবাবে ডিসি স্যার বলেন, ‘আপনার মা অসুস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি, আপনি ওখানে গিয়ে কী করবেন, আপনার কিছু করার আছে?’ তাৎক্ষণিক আমি ডিসি স্যারের অফিস থেকে বেরিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যাই। পরদিন সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমাকে ফোন করে জানতে চান আমি কোথায় আছি। প্রশ্নের উত্তরে আমি জানাই স্যার, আমি ঢাকায়। আমার মা খুব অসুস্থ্য, তিনি আইসিইউতে আছেন। ওই সময় এডিসি স্যার বললেন ডিসি স্যার আপনার উপর মনক্ষুন্ন হয়েছেন এবং আপনাকে শোকজ করতে বলেছেন। আমি তখন স্যারকে বলি, আমি মায়ের জন্য চাকুরী করি, আপনাদের জন্য না। আমাকে ভালোভাবে শোকজ করুন, তাতে আমি কর্ণপাত করবো না। তারপর আমি পূণরায় কর্মস্থলে ফিরে যায়। এর কিছুদিনের মাথায় আমার মা মারাযান। শেষ বারের মত মায়ের মুখটাও দেখতে পারিনি আমি। প্রধান অতিথি আরো বলেন, এ ঘটনার পর আমি বা আমার মা তাঁকে কোনদিন অভিশাপও দিইনি। অলৌকিকভাবে ওই ডিসি স্যার এ ঘটনার পর থেকে আর প্রমোশন পাননি। ইতোমধ্যে চাকুরী জীবনের ইতি টেনেছেন তিনি। আমি স্যারের বাসার পাশে একটি বাসায় থাকতাম। চাকুরী থেকে অবসরের পর অনেক কষ্ট পেতে দেখেছি স্যারকে।
গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আনজুমান আরা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, পৌর প্যানেল মেয়র একরামুল হক মুক্তা।
বক্তব্য রাখেন, আকাঙ্খা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহীনা সুলতানা মিলি, আত্মবিশ্বাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহেদ হাসান হালিম, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, পাস’র নির্বাহী পরিচালক ইলিয়াছ হোসেন প্রমূখ।
আমাদের আলমডাঙ্গা অফিস জানায়, গতকাল সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গা মহিলা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশ^ মা দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসনে আরা পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জামসিদুল হক মুনি। কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন মহিলা সমিতির পক্ষে জাহানারা বেগম, সালমা খাতুন, সুফিয়া খাতুন, মনোয়ারা খাতুন, জিন্নাত জাহান, খুশি খাতুন, আশানুরী খাতুন, আলেয়া খাতুন, সুমাইয়া খাতুন, মমতাজ খাতুন, শেলী খাতুন ও পিংকি খাতুন। সভার শুরুতে এক বিশাল র্যালি আলমডাঙ্গা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।
আমাদের মেহেরপুর অফিস জানায়, মা দিবস উপলক্ষে মেহেরপুর জেলা সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও কথামালা অনুষ্ঠানের অয়োজন করা হয়। রবিবার রাত ৮টার দিকে মেহেরপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি নুরুল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর পৌর কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আযিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহ-সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রখেন জেলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম। আলোচনা সভা শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
আমাদের মুজিবনগর অফিস জানায়, মুজিবনগরে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ডরপ’র সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে উপজেলা চত্ত্বর থেকে একটি বর্নাঢ্য র্যালী বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে পূনরায় পরিষদ চত্ত্বরে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ মিলায়তনে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেমায়েত উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গুলনাহার বেগম, মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী ওমর ফারুক প্রিন্স। উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী আবু হামিদ, খান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী, সিডিপি কর্মকর্তা, সু-শান্তা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক, ডরপ কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ, মাতৃত্বভাতা ভোগী, স্বপ্ন প্যাকেজ মায়েরা, ভিজিডি উপকার ভোগী, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও এনজিও সদস্যবৃন্দ প্রমূখ।
