ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, নতুন সাতজন আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। একই সময়ে ১ হাজার ৪৯৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৪৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ১১ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৩ জন, মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৪৫৮। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৬ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে। এ বছরের মার্চ থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে এক মাস পর ২৫ এপ্রিলের বুলেটিনে ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এই বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ও দৈনিক মৃত্যু কমেছে। তবে আবার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আমেনা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আমেনা বেগম দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার চণ্ডিপুর গ্রামের আলম শেখের স্ত্রী।
জানা যায়, গত ২৫ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় আমেনা বেগমকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। আমেনা বেগমের শরীরে করোনা উপসর্গ থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, গতকাল জেলায় নতুন করে আরও সাতজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪৬ জনে।
নতুন আক্রান্ত সাতজনের মধ্যে সদর উপজেলার একজন, আলমডাঙ্গায় দুইজন ও দামুড়হুদার চারজন রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গায় মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ২০ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৬৪ জন, দামুড়হুদায় ৩৫৩ জন ও জীবননগরে ২০৯ জন। গতকাল জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬৪ জন, আলমডাঙ্গার ৩৩৯ জন, দামুড়হুদায় ৩১১ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং একটি নমুনাসহ মোট ২৬টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করেন। এর মধ্যে সাতজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। বাকী ১৯ জনের নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। এদিকে, গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করেনি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাতেই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যরে নিকট হস্তান্তর করা হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৬৮৭টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৪৮৬টি, পজিটিভ ১ হাজার ৯৪৬টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৭৫ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন, আলমডাঙ্গায় ৬ জন, দামুড়হুদায় ২৯ জন ও জীবননগরে ১৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৬০ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ জন, আলমডাঙ্গায় ৬ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরে ১৩ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ৩ জন ও দামুড়হুদার ১১ জনসহ মোট ১৪ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৫ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৩ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে।
