ছবির ক্যাপশন:
যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা, আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
অন্য ১১ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন : প্রতিবাদে জীবননগরের আজ মানববন্ধন
সমীকরণ প্রতিবেদক:
যশোর শহরের রেলরোড এলাকার যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে জীবনগরের মাহফুজ হত্যা মামলায় আটক তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানের রোগী। পরিকল্পিতভাবেই মাহফুজকে বেধড়ক মারপিট করেছেন বলে স্বীকারোক্তিতে জানান তাঁরা। তাঁদের দাবি, খোদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবির তুহিনের উপস্থিতিতে মাহফুজের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য পরিচালক মাসুদ করিমও নাকি এই নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন।
যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন, মাহাদী হাসান ও মামুনুর রহমানের পৃথক তিন আদালতে এই তিন আসামির জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অপর ১১ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত আগামী ২৭ মে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, আসামী রিয়াদ, রানা ও শাহিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, মাহফুজ ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল। তাঁর কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে মারপিট করা হয়েছে। পরে তাঁর নাকে মুখে পানি ঢালা হয়। মারপিটের পর মাহফুজকে নাস্তা করানো হয়েছিল। এরপর তাঁকে তাঁর বেডে রেখে আসা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাহাফুজ হত্যার পর বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবির তুহিন নিজেই মাদকসেবী। তিনি দীর্ঘদিন যশোরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে নিজে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র খুলে অর্থ-বাণিজ্য শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে বহিরাগতদের আড্ডাখানা বসাতেন পরিচালক তুহিন। তুহিনের বিরুদ্ধে নারীঘটিত নানা বিষয়ও উঠে আসছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনুমোদন ছাড়াই এ প্রতিষ্ঠান চালাতে একটি পক্ষকে ম্যানেজ করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ ১৪ জনের নামে মামলার পর পুলিশ সবাইকে আটক করে। একইসাথে সিসিটিভি ফুটেজ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
পুলিশের রিমান্ডের আবেদন জানানো অন্য আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়া এলাকার আবুল হাসেমের ছেলে মাসুদ করিম ও বারান্দি বটতলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফুল কবির, ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আরিফুজ্জামান, যশোর শহরের কাজীপাড়া মসজিদের পাশের বাসিন্দা কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান, আরবপুর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে অহিদুল ইসলাম, হুশতলা বকচর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আল শাহরিয়ার রোকন, বেনাপোল পোর্ট থানার শাখারীপোতা গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন, অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের আসর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার এসএমজি মুক্তাদির ছেলে এসএস সাগর আজিজ, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড় এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে নুর ইসলাম, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বামখালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ওরফে সাগর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রোকিবুজ্জামান বলেন, তিনজন আসামি তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অন্যদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য আসতে পারে বলে তিনি জানান।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার পরে মাহফুজ হত্যার বিচার দাবিতে জীবননগরের সর্বস্থরের জনগণ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। সাংবাদিক মিঠুন মাহমুদ ও সমাজকর্মী সামিউল ইসলা অভি এই মানববন্ধনে জীবননগরের সর্বস্থরের জনগণকে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করেছেন।
