ছবির ক্যাপশন:
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনায় প্রাণ গেল ২৮ জনের, শনাক্ত ১৩৫৪
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৭৬ জনে। এছাড়াও একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮০ জনে। গতকাল রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাছিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ২০৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এক হাজার ৩৫৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়াও একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৮৯৯ জন। আর এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৭ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে।
এ বছরের মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে এক মাস পর ২৫ এপ্রিলের বুলেটিনে ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানায় সরকার।
করোনা সংক্রমণ ও এতে মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে দেশে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এই বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ও দৈনিক মৃত্যু কমেছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও চারজন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২৪ জন। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত চারজনই দামুড়হুদার বাসিন্দা। চুয়াডাঙ্গায় মোট শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৬১ জন, দামুড়হুদায় ৩৪১ জন ও জীবননগরে ২০৮ জন। গতকাল দামুড়হুদা উপজেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে আরও তিনজন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০৫ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬৪ জন, আলমডাঙ্গার ৩৩৮ জন, দামুড়হুদায় ৩১১ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
জানা যায়, গত শরিবার জেলা স্বাস্থ বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং একটি নমুনাসহ মোট ২৯টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিস প্রকাশ করেন। এর মধ্যে চারজনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২৫ জনের নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। এদিকে, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাহ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ৩৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৬৩৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৩৯৭টি, পজিটিভ ১ হাজার ৯২৪টি। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ৫৬ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, আলমডাঙ্গায় ৪ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৪৪ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০ জন, আলমডাঙ্গায় ৩ জন, দামুড়হুদায় ৯ জন ও জীবননগরে ১২ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ২ জন ও আলমডাঙ্গায় ১ জন ও দামুড়হুদায় ৮ জনসহ ১১ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৩ জনে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১৩ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। করোনার ২য় ধাপ শুরু হওয়ার পর মেহেরপুরে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৮টি পজিটিভ রিপোর্ট। গতকাল রোববার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাব থেকে আসা ৪৯টি ফলাফলের মধ্যে ১৮ জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ৩ জন, গাংনীর ৭ জন ও মুজিবনগরের ৮ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দিনে দিনে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৮৩৮ জন ও মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।
