ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও ৮ জন সুস্থ, ২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৪৮ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৭২৬ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, তা বুঝতে পারার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে।
এ বছরের মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়। বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৬ মার্চের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের মৃত্যু খবর দেওয়া হয়, সেখানে এক মাস পর ২৫ এপ্রিলের বুলেটিনে ১০১ জনের মৃত্যুর কথা জানায় সরকার।
করোনা সংক্রমণ ও এতে মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে দেশে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এই বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ও দৈনিক মৃত্যু কমেছে।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা শনাক্তের নতুন কোনো ফলাফল নেই। গতকাল শনিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা শনাক্তের কোনো ফলাফল প্রকাশ করেনি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২০ জন। জেলায় মোট শনাক্তের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৬১ জন, দামুড়হুদায় ৩৩৭ জন ও জীবননগরে ২০৮ জন। গতকাল দামুড়হুদা উপজেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত থেকে আরও আটজন সুস্থ হয়েছেন। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮০২ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬৪ জন, আলমডাঙ্গার ৩৩৮ জন, দামুড়হুদায় ৩০৮ জন ও দামুড়হুদায় ১৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোনো নমুনা সংগ্রহ না করায় গতকাল কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে গতকাল শনিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২৮টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৬০১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৯ হাজার ৩৬৮টি, পজিটিভ ১ হাজার ৯২০টি। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ৫৬ জন করোনাক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ জন, আলমডাঙ্গায় ৪ জন, দামুড়হুদায় ১৭ জন ও জীবননগরে ১২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ৪৩ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২০ জন, আলমডাঙ্গায় ৩ জন, দামুড়হুদায় ৮ জন ও জীবননগরে ১২ জন। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন সদর উপজেলার ২ জন ও আলমডাঙ্গায় ১ জন ও দামুড়হুদায় ৯ জনসহ ১২ জন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন আরও ১ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, আলমডাঙ্গায় ১৭ জন, দামুড়হুদায় ১২ জন ও জীবননগরে ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ জেলার বাইরে।
